

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


কুমিল্লা সার্কিট হাউসে রাত্রিযাপনের জন্য বরাদ্দ করা কক্ষে উইপোকার উপদ্রব দেখতে পেয়ে সেখানে না থেকে ফিরে গেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় উপনেতা ও কুমিল্লা-১১ (চৌদ্দগ্রাম) আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের।
তার সঙ্গে থাকা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভাষ্য, কক্ষটিতে সমস্যা দেখা দেওয়ার পর বিকল্প কক্ষ দেওয়ার অনুরোধ করা হলেও দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। পরে শুক্রবার দিবাগত রাত ১১টা ১৫ মিনিটের দিকে তিনি সার্কিট হাউস ত্যাগ করেন।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সকাল ৭টায় ঢাকার শাপলা চত্বর থেকে ১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চ শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। কর্মসূচিটি চট্টগ্রামের লালদীঘি ময়দানে গিয়ে শেষ হবে। এর অংশ হিসেবে চৌদ্দগ্রামেও একটি পথসভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। কর্মসূচির প্রস্তুতির জন্য শুক্রবার রাত ৮টা ৪৫ মিনিটের দিকে ঢাকা থেকে কুমিল্লা সার্কিট হাউসে পৌঁছান আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের। তার থাকার জন্য ‘রাধাচূড়া-২০২’ কক্ষটি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল।
সংশ্লিষ্টরা জানান, রাত ১০টার দিকে কক্ষে বিশ্রাম নিতে গিয়ে তাহের দেখতে পান, বিভিন্ন জায়গায় উইপোকার উপস্থিতি রয়েছে। বিশেষ করে আলমারির ভেতরে বালিশ ও কম্বল রাখার স্থানসহ কয়েকটি অংশে উইপোকার বাসা এবং অনেক উইপোকা দেখা যায়।
বিষয়টি জানার পর তাহেরের সহকারী একান্ত সচিব (এপিএস) আরিফুর রহমান সার্কিট হাউসের দায়িত্বে থাকা কর্মচারীদের কক্ষ পরিবর্তনের ব্যবস্থা করতে বলেন। একই সঙ্গে একটি কম্বলের ব্যবস্থাও করতে বলা হয়।
তবে অভিযোগ করা হয়েছে, বিষয়টি জানানোর পরও তাৎক্ষণিকভাবে বিকল্প কক্ষের ব্যবস্থা করা হয়নি। পরে এপিএস কুমিল্লার এনডিসিকে (নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট) এসএমএসের মাধ্যমে বিষয়টি জানান। এরপরও দ্রুত বিকল্প আবাসনের ব্যবস্থা না হওয়ায় সার্কিট হাউস ত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন তাহের। রাত ১১টা ১৫ মিনিটের দিকে তিনি সেখান থেকে চলে যান।
কুমিল্লা মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারি মু. মাহবুবর রহমান ঘটনাটি নিশ্চিত করে বলেন, গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনা সার্কিট হাউসে একজন গুরুত্বপূর্ণ অতিথির কক্ষে এমন পরিস্থিতি তৈরি হওয়া দুঃখজনক। সমস্যা জানার পরও দ্রুত বিকল্প কক্ষের ব্যবস্থা না হওয়ায় তিনি প্রশ্ন তোলেন।
জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিরোধীদলীয় উপনেতা চলে যাওয়ার পর তারা বিষয়টি জানতে পারে। পরে ঘটনা খতিয়ে দেখে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে কুমিল্লার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘রাতে সার্কিট হাউস থেকে আমাদের এনডিসিকে কল করে বিরোধীদলীয় উপনেতার জন্য বরাদ্দ করা কক্ষে একটু সমস্যার কথা বলা হয়। পরে এনডিসি সাহেব তাৎক্ষণিকভাবে সার্কিট হাউসে কর্মরতদের তাঁর কক্ষ পরিবর্তনের জন্য বলেন এবং যে কক্ষে সমস্যা হয়েছিল, সেটি পরিষ্কার করার নির্দেশ দেন।’
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক বলেন, এর মধ্যেই সার্কিট হাউস থেকে এনডিসিকে আবার ফোন করে জানানো হয় যে, বিরোধীদলীয় উপনেতা সার্কিট হাউস ছেড়ে চলে গেছেন। তার ভাষ্যমতে, বিষয়টি এনডিসি বা জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের কেউ তাৎক্ষণিকভাবে জানতে পারলে এ ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হতো না।
মো. সাইফুল ইসলাম আরও বলেন, ‘এই ঘটনার পরই সার্কিট হাউসের আবাসন ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের শোকজ করা হয়েছে। তাঁদের জবাব পাওয়ার পর এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মাননীয় বিরোধীদলীয় উপনেতা সার্কিট হাউস ছেড়ে চলে যাওয়ার বিষয়টি আমাদের জন্যও দুঃখজনক।’


