শনিবার
০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শনিবার
০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দুবাইয়ে সম্পদ নিয়ে দুদকের নজরদারিতে যে ৭৩ বাংলাদেশি

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:০৩ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
expand

পাচারকৃত অর্থে দুবাইয়ে সম্পত্তি কেনার অভিযোগে সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকারের কাছে ৭৩ বাংলাদেশির সম্পদসংক্রান্ত নথি চাওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

জাতিসংঘের দুর্নীতিবিরোধী কনভেনশনের (ইউএনসিএসি) আওতায় সংযুক্ত আরব আমিরাতের কাছে তথ্য চাওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে দুদক। এ জন্য দেশটির কাছে পারস্পরিক আইনি সহায়তার আবেদন (এমএলএআর) পাঠানো হবে বলে জানায় দুদক সূত্র।

ইউএনসিএসির সদস্য দেশগুলো দুর্নীতি ও আর্থিক অপরাধের তদন্তে একে অপরের সঙ্গে তথ্য ও প্রয়োজনীয় নথি বিনিময় করে।

দুদক সূত্র জানায়, তদন্তাধীন ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দুবাইয়ের অভিজাত এলাকা দুবাই মেরিনা ও পাম জুমেইরাহতে ফ্ল্যাট ও বাড়ি কেনার অভিযোগ রয়েছে। তাদের কেউ কেউ সংযুক্ত আরব আমিরাতের গোল্ডেন ভিসাও পেয়েছেন।

দুদকের উপপরিচালক ও জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আকতারুল ইসলাম বলেন, দুবাইয়ে অর্থ পাচারের মাধ্যমে সম্পদ কেনার অভিযোগের তদন্তে সম্প্রতি বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) কাছে তথ্য চাওয়া হয়েছে। বিভিন্ন সরকারি সংস্থার কাছ থেকেও তথ্য সংগ্রহ করেছে তদন্ত দল।

তদন্তের অংশ হিসেবে নির্বাচন কমিশন, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরসহ বিভিন্ন সরকারি সংস্থার নথি সংগ্রহ ও পর্যালোচনা করা হয়েছে। এসব তথ্য পর্যালোচনার পর ৭৩ জনকে চিহ্নিত করে তাদের বিষয়ে বিস্তারিত তদন্ত শুরু করে দুদক।

তদন্তটি পরিচালনা করছেন দুদকের উপপরিচালক আলমগীর হোসেন। তার সঙ্গে রয়েছেন সহকারী পরিচালক মো. আশিকুর রহমান।

তালিকায় যারা —

সাইফুজ্জামান চৌধুরী, এইচ বি এম ইকবাল, চৌধুরী নাফিজ সরাফাত, আহসানুল করিম, আনজুমান আরা শহীদ, হুমায়রা সেলিম, জুরান চন্দ্র ভৌমিক, মো. রাব্বি খান, মোহাম্মদ গোলাম মোস্তফা, মোহাম্মদ অলিউর রহমান, এসএ খান ইখতেখারুজ্জামান, সৈয়দ ফাহিম আহমেদ, সৈয়দ হাসনাইন, সৈয়দ মাহমুদুল হক, সৈয়দ রুহুল হক, গোলাম মোহাম্মদ ভূঁইয়া, হাজী মোস্তফা ভূঁইয়া, মনোজ কান্তি পাল, মো. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী, মো. মাহবুবুল হক সরকার, মো. সেলিম রেজা, মোহাম্মদ ইলিয়াস বজলুর রহমান, এসইউ আহমেদ, শেহতাজ মুনশি খান, একেএম ফজলুর রহমান, আবু ইউসুফ মো. আবদুল্লাহ, গুলজার আলম চৌধুরী, হাসান আশিক তাইমুর ইসলাম, হাসান রেজা মাহিদুল ইসলাম, খালেদ মাহমুদ, এম সাজ্জাদ আলম, মোহাম্মদ ইয়াসিন আলী, মোস্তফা আমির ফয়সাল, রিফাত আলী ভূঁইয়া, সালিমুল হক ঈসা/হাকিম মোহাম্মদ ঈসা, সৈয়দ একে আনোয়ারুজ্জামান/সৈয়দ কামরুজ্জামান, সৈয়দ সালমান মাসুদ, সৈয়দ সাইমুল হক, আবদুল হাই সরকার, আহমেদ সামির পাশা, ফাহমিদা শবনম চৈতি, মো. আবুল কালাম, ফাতেমা বেগম কামাল, মোহাম্মদ আল রুমান খান, মঈনুল হক সিদ্দিকী, মুনিয়া আওয়ান, সাদিক হোসাইন মো. শাকিল, আবদুল্লাহ মামুন মারুফ, মোহাম্মদ আরমান হোসাইন, মোহাম্মদ শওকত হোসাইন সিদ্দিকী, মোস্তফা জামাল নাসের, আহমেদ ইমরান চৌধুরী, বিল্লাল হোসাইন, এমএ হাসেম, মোহাম্মদ মইন উদ্দিন চৌধুরী, নাতাশা নূর মুমু, সৈয়দ মিজান মোহাম্মদ আবু হানিফ সিদ্দিকী, সায়েদা দুররাক সিন্ডা জারা, আহমেদ ইফফাল চৌধুরী, ফারহানা মোনেম, ফারজানা আনজুম খান, কেএইচ মশিউর রহমান, এমএ সালাম, মো. আলী হোসাইন, মোহাম্মদ ইমদাদুল হক ভরসা, মোহাম্মদ ইমরান, মোহাম্মদ রোহেন কবির, মঞ্জিলা মোরশেদ, মোহাম্মদ সানাউল্লাহ চৌধুরী, মোহাম্মদ সরফুল ইসলাম, সৈয়দ রফিকুল আলম এবং আনিসুজ্জামান চৌধুরী। তবে তদন্ত চলমান থাকায় এসব ব্যক্তির পেশাগত পরিচয় প্রকাশ করেনি দুদক।

২০২৩ সালের ১৬ জানুয়ারি সুপ্রিম কোর্টের দেওয়া নির্দেশনার পর এই তদন্ত শুরু হয়। ওই নির্দেশনায় দুদক ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দুবাইয়ে ৪৫৯ বাংলাদেশি নাগরিকের সম্পদ কেনার অভিযোগ তদন্ত করতে বলা হয়।

সূত্র: দ্য ডেইলি স্টার

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
X
City bank
City bank