

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের প্রতিবাদ করে ফেসবুকে বক্তব্য দেওয়ায় কলেজছাত্র সিফাত আব্দুল্লাহকে গ্রেপ্তারের ঘটনায় প্রশ্ন তুলেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সাবেক যুগ্ম সদস্যসচিব ডা. তাসনিম জারা। এ প্রসঙ্গে ‘দ্য ডিক্টেটর’ সিনেমার কাল্পনিক চরিত্র আলাদিনের আচরণের উদাহরণ টেনে কটাক্ষ করেছেন তিনি।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তাসনিম জারা সিফাতের গ্রেপ্তার, তার বিরুদ্ধে করা মামলা এবং পুলিশের বক্তব্য নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি সিফাতকে অবিলম্বে মুক্তি ও মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানান।
পোস্টে তাসনিম জারা লিখেছেন, ‘সিফাতের ভাষা ভদ্র ছিল না—এটি নিয়ে তর্কের কিছু নেই। তবে তাকে অভদ্রতার জন্য গ্রেপ্তার করা হয়নি। তার বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা হয়েছে।’ এ ক্ষেত্রে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, ‘তাহলে গালি দেওয়া কি সন্ত্রাস?’
সিফাতের গ্রেপ্তারের সমর্থনে যারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মন্তব্য করছেন, তাদের অনেকের মন্তব্যেও গালাগাল রয়েছে বলে উল্লেখ করেন তাসনিম জারা বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে যারা কথা বলছেন, তাদের নিজেদের বক্তব্যের সঙ্গেও এক ধরনের বৈপরীত্য তৈরি হচ্ছে।’
পোস্টে তিনি লেখেন, ‘আপনারা একটা তালিকা করে দিন। কী কী লিখলে, কী কী আঁকলে, বিলের কাগজ হাতে নিয়ে কী কী বললে রাত সাড়ে আটটায় দরজায় পুলিশ আসবে না। লিখে দিন। আমরা মেনে চলব।’
এরপর ‘দ্য ডিক্টেটর’ সিনেমার আলাদিনের প্রসঙ্গ টেনে তাসনিম জারা বলেন, তালিকা দিতে অস্বস্তি হলে নিজেদের সংযত করা উচিত। তিনি লেখেন, বিষয়টি ‘দ্য ডিক্টেটর’ সিনেমার আলাদিনের আচরণের মতো মনে হতে পারে।
সিফাতকে অবিলম্বে মুক্তি দেওয়ার দাবি জানিয়ে তাসনিম জারা সন্ত্রাসবিরোধী আইনের এমন ধারাগুলো সংশোধনেরও আহ্বান জানান, যেগুলো কথা বলার বিরুদ্ধে ব্যবহার করা যায় বলে তিনি মনে করেন।
এর আগে বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যার পর গাজীপুর মহানগরীর গাছা এলাকার বাসা থেকে সিফাত আব্দুল্লাহকে আটক করে পুলিশ। তিনি রাজধানীর আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজের শিক্ষার্থী।
জানা গেছে, অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল আসার অভিযোগ তুলে সিফাত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি ভিডিও প্রকাশ করেছিলেন। ভিডিওতে তিনি দাবি করেন, তার বাসায় দুই মাসে প্রায় ৯ হাজার টাকা বিদ্যুৎ বিল এসেছে। এ নিয়ে তিনি সরকারের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের উদ্দেশে অশালীন ও কুরুচিপূর্ণ ভাষায় বক্তব্য দেন।
ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। পরে পুলিশ তাকে আটক করে।
তবে সিফাতকে আটকের কারণ এবং তার বিরুদ্ধে কোন আইনে মামলা করা হবে, তা নিয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে দেওয়া বক্তব্যে একাধিক পরিবর্তন এসেছে।
প্রথমে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী ও সরকারের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের নিয়ে অশালীন বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগের কথা বলা হয়। পরে তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি আইনে মামলার কথা জানানো হয়।
শুক্রবার দুপুরে পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়, সিফাত আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। এ কারণেও তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পরে জানানো হয়, নতুন কোনো আইসিটি বা কটূক্তির মামলায় নয়, আগের একটি সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
ফলে সিফাতকে আটক থেকে আদালতে পাঠানো পর্যন্ত পুলিশের বক্তব্যে কয়েক দফা পরিবর্তন দেখা যায়। বিষয়টি নিয়ে তার গ্রেপ্তারের প্রকৃত কারণ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।


