

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


ইন্দোনেশিয়ার সীমান্তবর্তী এলাকায় বন ও পিটভূমিতে ছড়িয়ে পড়া আগুনের ধোঁয়ায় মালয়েশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে বায়ুদূষণ মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) মালয়েশিয়ার সারাওয়াক রাজ্যের সেরিয়ান জেলায় জরুরি অবস্থা জারি করা হয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় দেশটির প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম বলেন, সরকার পরিস্থিতির ওপর সার্বক্ষণিক নজর রাখছে। একই সঙ্গে মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ দ্রুত বাস্তবায়নের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আনাদোলুর প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার সেরিয়ানে বায়ুমান সূচক (এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স) ৫০০ ছাড়িয়ে যায়। দেশটির নির্ধারিত মানদণ্ড অনুযায়ী, এ মাত্রা জরুরি অবস্থা ঘোষণার জন্য যথেষ্ট। মালয়েশিয়ায় বায়ুদূষণ সূচক ৩০০-এর ওপরে উঠলে সেটিকে বিপজ্জনক পর্যায় হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
বোর্নিও দ্বীপের মালয়েশীয় অংশে অবস্থিত সারাওয়াক ইন্দোনেশিয়ার কালিমান্তান অঞ্চলে জ্বলতে থাকা বন ও পিটভূমির আগুনের ধোঁয়ায় বিশেষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং বাঁধ ও জলাধারে পানির স্তর স্বাভাবিক রাখতে মালয়েশিয়া বৃহস্পতিবার থেকে সারাওয়াকে তিন দিনব্যাপী কৃত্রিম বৃষ্টিপাতের উদ্যোগ নিয়েছে।
এই পদ্ধতিতে বৃষ্টির উপযোগী মেঘের মধ্যে নির্দিষ্ট ধরনের কণা ছড়িয়ে দেওয়া হয়। এর ফলে মেঘে ঘনীভবন বাড়িয়ে বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা তৈরি করা যায়। একইভাবে ইন্দোনেশিয়াও দেশটির বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়া বন ও পিটভূমির আগুন মোকাবিলায় কৃত্রিম বৃষ্টিপাতের কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
ইন্দোনেশিয়ার জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থার মুখপাত্র বার্তন পাঞ্জাইতান আনাদোলুকে জানান, ২৬ আগস্ট থেকে ২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশটিতে কৃত্রিম বৃষ্টিপাতের কার্যক্রম চালানো হয়। এর উদ্দেশ্য ছিল সম্ভাব্য বৃষ্টিপাতকে কাজে লাগিয়ে মাটি ও পিটভূমিতে আর্দ্রতা বাড়ানো, সক্রিয় আগুন নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করা এবং নতুন করে আগুন ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি কমানো।
তিনি আরও জানান, আবহাওয়া পরিবর্তন বা কৃত্রিম বৃষ্টিপাতের এই কার্যক্রম পরিচালনা এবং অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত এলাকাগুলোতে সহায়তা দেওয়ার জন্য ইন্দোনেশিয়া মোট ৩৪টি উড়োজাহাজ ব্যবহার করেছে।


