রবিবার
০৯ আগস্ট ২০২৬, ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
রবিবার
০৯ আগস্ট ২০২৬, ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

 নারীকে হত্যার পর লাশ টুকরা করে মুড়িয়ে রাখে পলিথিনে, অতঃপর

কুমিল্লা প্রতিনিধি
প্রকাশ : ০৯ আগস্ট ২০২৬, ০৭:১৫ এএম
ফরিদা ইয়াসমিন (৫০)
expand
ফরিদা ইয়াসমিন (৫০)

কুমিল্লার দেবিদ্বারে ফরিদা ইয়াসমিন (৫০) নামের এক নারীকে হত্যার পর তার লাশ টুকরা করে পলিথিনের প্যাকেটে ভরে বাড়ির পেছনে ফেলে রাখার অভিযোগ উঠেছে।

এ ঘটনায় ওই নারীর ভাড়াটিয়া লাইলি আক্তারকে আটক করেছে পুলিশ। স্থানীয় লোকজন তাকে আটক করে গণধোলাই দিয়ে পুলিশের হাতে তুলে দেন।

শনিবার (৮ আগস্ট) সন্ধ্যায় দেবিদ্বার পৌর এলাকার ছোট আলমপুর গ্রাম থেকে ফরিদা ইয়াসমিনের খণ্ডিত লাশ উদ্ধার করা হয়।

রাত সাড়ে ৭টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে পলিথিনে মোড়ানো লাশের নয়টি প্যাকেট উদ্ধার করে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ছোট আলমপুরে স্বামী ও সন্তানদের নিয়ে প্রায় ৩০ বছর ধরে বসবাস করছিলেন ফরিদা ইয়াসমিন। তার স্বামী মফিজুল ইসলাম জাহাজে চাকরি করেন। তাদের দুই মেয়ে বিয়ে হয়ে শ্বশুরবাড়িতে থাকেন। স্বামী কর্মস্থলে থাকায় ফরিদা বাড়িতে একাই থাকতেন। ওই বাড়ির একটি ঘর লাইলি আক্তারের কাছে ভাড়া দেওয়া হয়েছিল। লাইলি দেবিদ্বার পৌর এলাকার চাঁপানাঘর গ্রামের আবুল কালাম আজাদের স্ত্রী।

শনিবার সকালে ফরিদার ছোট মেয়ে মরিয়ম আক্তার বাবার বাড়িতে এসে মাকে দেখতে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন।

একপর্যায়ে ফরিদার বোনের ছেলে মামুন বাড়ির পেছনে পলিথিনের কয়েকটি প্যাকেট দেখতে পান। পরে প্যাকেট খুলে ফরিদার খণ্ডিত লাশ দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেওয়া হয়।

ঘটনাটি জানাজানি হলে স্থানীয় লোকজন সেখানে জড়ো হন। একপর্যায়ে তারা ভাড়াটিয়া লাইলি আক্তারকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করেন।

স্থানীয়দের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে তিনি ফরিদাকে হত্যার কথা স্বীকার করেন এবং তার সঙ্গে আরও কয়েকজন জড়িত থাকার কথা বলেন। পরে পুলিশ তাকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।

নিহতের স্বামী মফিজুল ইসলাম বলেন, তিনি চট্টগ্রামে জাহাজে চাকরি করেন। শনিবার সকাল থেকে স্ত্রীর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও সাড়া পাননি। পরে তিনি মেয়েকে বাড়িতে গিয়ে খোঁজ নিতে বলেন। বাড়িতে গিয়ে বারান্দা ভেজা দেখতে পেয়ে তাদের সন্দেহ হয়। এরপর ভাড়াটিয়া লাইলিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তার কথাবার্তা অসংগতিপূর্ণ মনে হয়। পরে পুলিশকে খবর দিয়ে তাকে একটি কক্ষে আটকে রাখা হয়।

নিহতের স্বামী মফিজুল ইসলাম বলেন, তার স্ত্রীর শরীরে স্বর্ণালংকার ছিল। তার ধারণা, স্বর্ণালংকারের লোভে ফরিদাকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে।

তিনি বলেন, লাশের শরীরের কয়েকটি অংশ পাওয়া গেলেও মাথা ও পায়ের অংশ এখনো পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে দেবিদ্বার থানার ওসি মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ফরিদা ইয়াসমিনের খণ্ডিত লাশ পলিথিনে মোড়ানো নয়টি প্যাকেট উদ্ধার করা হয়েছে।

তবে মাথা ও পায়ের অংশ এখনো পাওয়া যায়নি। আটক লাইলি আক্তারকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এ ঘটনায় আরও চারজন জড়িত থাকার কথা জানা গেছে। তাঁদের আটক করার চেষ্টা চলছে।

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং হত্যাকাণ্ডে কারা কীভাবে জড়িত, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন