সোমবার
০১ জুন ২০২৬, ১৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সোমবার
০১ জুন ২০২৬, ১৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তিতাসে পুরুষের কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে মাঠে নারী শ্রমিকরা

পাঁচশ টাকার ঘামে সোনালি ধান
তিতাস (কুমিল্লা) প্রতিনিধি
প্রকাশ : ১৭ মে ২০২৬, ০৯:৩১ পিএম
শ্রমিক সংকট ও বাড়তি খরচে কৃষিক্ষেতে বাড়ছে নারী শ্রমিকের অংশগ্রহণ
expand
শ্রমিক সংকট ও বাড়তি খরচে কৃষিক্ষেতে বাড়ছে নারী শ্রমিকের অংশগ্রহণ

কুমিল্লার তিতাস উপজেলার সাতানী ইউনিয়নের হরিণপুর গ্রামের কৃষক অজিৎ কুমার ভৌমিকের জমিতে তখন ধান কাটার কাজ চলছে। জমিতে একজন পুরুষ শ্রমিকের সঙ্গে কাজ করছেন পাঁচজন নারী শ্রমিক। কেউ কাস্তে দিয়ে ধান কাটছেন, কেউ ধানের আটি বাঁধছেন। কাটা ধান জমি থেকে পাশের সড়কের ধারে এনে স্তূপ করছেন পুরুষ শ্রমিক হরিদাস ভৌমিক।

এই নারী শ্রমিকদের বাড়ি একই গ্রামের হিন্দু সম্প্রদায়ের পরিবারে। নিজেদের সামান্য কৃষিজমিতে কাজের পাশাপাশি অন্যের জমিতে নিড়ানি দেওয়া, আগাছা পরিষ্কার, ধান রোপণ ও ধান কাটার কাজ করেই চলে তাদের সংসার।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কয়েক বছর আগেও গ্রামের নারীরা সাধারণত ধান মাড়াই, সিদ্ধ করা কিংবা বাড়ির উঠানে ধান শুকানোর কাজ করতেন। মাঠে নেমে ধান কাটার কাজ খুব কমই করতেন। কিন্তু এখন পরিস্থিতি বদলেছে। শ্রমিক সংকট, কৃষি খরচ বৃদ্ধি এবং বাইরের শ্রমিকের উচ্চ মজুরির কারণে স্থানীয় নারীরাও সরাসরি মাঠের কাজে যুক্ত হচ্ছেন।

তিতাস অঞ্চলে ধান কাটার মৌসুমে কুড়িগ্রামসহ উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা থেকে শ্রমিক আসেন। তবে বর্তমানে শ্রমিকের মজুরি অনেক বেড়ে গেছে। কৃষকদের ভাষ্য, একজন ধান কাটার শ্রমিককে দিনে ১৪শ থেকে ১৫শ টাকা মজুরি দিতে হয়। পাশাপাশি দুই বেলার খাবারের ব্যবস্থাও করতে হয়। এতে ছোট ও মাঝারি কৃষকের খরচ বেড়ে যাচ্ছে।

এমন পরিস্থিতিতে স্থানীয় নারী শ্রমিকরা তুলনামূলক কম মজুরিতে কাজ করছেন। হরিণপুর গ্রামের নারী শ্রমিক মনি রাণী বলেন, “সকাল ৬টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত কাজ করি। ধান কাটা, আটি বাঁধা, মাড়াই, সব কাজ করি। পাঁচশ টাকা মজুরি পাই। সংসারের খরচ চালানোর জন্যই কাজ করতে হয়।”

একই কথা বলেন সন্ধ্যা রাণী। তিনি জানান, আগে নারীরা মাঠে কম কাজ করলেও এখন গ্রামের অনেক নারী কৃষিকাজে যুক্ত হচ্ছেন।

ধান কাটার কাজে থাকা পুরুষ শ্রমিক হরিদাস ভৌমিক বলেন, “আমাদের গ্রামে প্রায় ১৫ থেকে ১৭ জন নারী শ্রমিক আছে। পুরুষদের পাশাপাশি তারা একই ধরনের কাজ করছে। সংসারের প্রয়োজনেই তারা মাঠে নামছে।”

কৃষক অজিৎ কুমার ভৌমিক বলেন, “বাইরের শ্রমিক আনতে খরচ অনেক বেশি। কিন্তু গ্রামের এই নারীরা ছয় ঘণ্টা কাজ করে পাঁচশ টাকায় ধান কেটে দেয়। এতে আমাদের কিছুটা সুবিধা হয়।”

তবে স্থানীয়দের কেউ কেউ বলছেন, কম মজুরিতে কঠিন পরিশ্রম করলেও নারী শ্রমিকরা এখনো ন্যায্য পারিশ্রমিক থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

সংশ্লিষ্ট ব্লকের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. কাউছার আহমেদ বলেন, “ধান কাটার মৌসুমে শ্রমিক সংকট থাকে। এ কারণে নারী শ্রমিকদের অংশগ্রহণ আগের তুলনায় বেড়েছে।”

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, “শ্রমিক সংকট ও ব্যয় বৃদ্ধির কারণে কৃষিতে যান্ত্রিকীকরণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তবে কৃষিকাজে নারীদের অংশগ্রহণ ইতিবাচক দিক। একই সঙ্গে তাদের ন্যায্য পারিশ্রমিক নিশ্চিত করাও প্রয়োজন।”

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন