বৃহস্পতিবার
১৬ জুলাই ২০২৬, ১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বৃহস্পতিবার
১৬ জুলাই ২০২৬, ১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পর্নোগ্রাফি মামলায় হানিট্রাপ খ্যাত লাইলি কারাগারে

দেবীদ্বার (কুমিল্লা) প্রতিনিধি
প্রকাশ : ০৭ এপ্রিল ২০২৬, ১০:০৩ পিএম
হানিট্রাপ খ্যাত লাইলি
expand
হানিট্রাপ খ্যাত লাইলি

কুমিল্লার দেবীদ্বারে হানিট্রাপ করে মোকবল হোসেন মাস্টার নামে স্কুল শিক্ষককে নির্যাতনের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরালের পর দেবীদ্বার থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে লাইলি আক্তার (৩৫) নামে ওই নারীকে আটকপূর্বক আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করেন।

ঘটনায় মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) ভুক্তভোগী মোকবল হোসেন মাস্টার অভিযুক্ত লাইলি আক্তারকে এজহারভূক্ত করে এবং অজ্ঞাত ৩ নারী ও ৫ পুরুষের নামে পর্ণগ্রাফি আইনে মামলা দায়ের করেন। আটককৃত লাইলি আক্তার উপজেলার ঘোষঘর গ্রামের আব্দুর রশিদ মিয়া মেয়ে। তার একাধিক স্বামী থাকলেও প্রথম স্বামী মারা যান এবং সর্বশেষ স্বামী প্রবাসে থাকেন। লাইলি আকিতার ৩ সন্তানের জননী।

মামলার বিবরণী ও ভুক্তভোগী উপজেলার জাফরগঞ্জ মাজেদা আহসান মূন্সী বালিকা উচ্চ বিদ‍্যালয়ের সহকারি শিক্ষক মোকবল হোসেন জানান, তার আত্মীয় ইমন ও বাদল এর সাথে লাইলি আক্তারের গাড়ি বিক্রয়ের লেনদেন সংক্রান্ত বিরোধ চলছিল। বিষয়টি আপোষ মীমাংসার জন্য তাকে অনুরোধ করে। সেই সুবাদে গতকাল ৬ এপ্রিল বাদ আসর নামাজ তিনি দেবীদ্বার এলাকার মোল্লাবাড়ির জামে মসজিদে নামাজ পড়ে বের হন।

মসজিদের পাশেই “আহসান মঞ্জিলে” লাইলি আক্তার ভাড়া বাসায় থাকেন। বিষয়টি নিয়ে কথা বলবেন বলে মোকবল মাস্টারকে ডেকে নেন। সেখানে যাওয়ার পর ৩জন মহিলা ও ৫ জন পুরুষ তাকে আটক করে ফেলে। এবং তার আত্নীয়ের কাছ থেকে পাওয়া টাকা আদায় করে দিতে চাপ প্রয়োগ করেন।

তিনি পারবেনা বলে দ্বিমত পোষণ করলে, জোরপূর্বক তার সাথে অবৈধ মেলামেশা করে ভিডিও ধারণ করেন চক্রটি। তারপর ফের তাকে নির্যাতন ও মারধর করে একটি ভিডিও ধারণ করেন লাইলিসহ চক্রটি। গোপন ভিডিও দ্বারা জিম্মি করে তার পকেট থেকে ৭ হাজার টাকা, এবং তাহার আত্মীয় ইমন ও দেলোয়ারের কাছ থেকে বিকাশে ২০ হাজার টাকা আদায় করেন। এতেও তারা ক্ষান্ত হয়নি নগদ ১ লাখ টাকা ফের জিম্মির মুখে আদায় করেন। এরইমধ্যে মোকবল হোসেন মাস্টারকে নির্যাতনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়। ভাইরাল ভিডিওর সূত্র ধরে দেবীদ্বার থানা পুলিশ তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে লাইলি আক্তারকে আটক ও জিম্মি মোকবল হোসেনকে উদ্ধার করেন।

এদিকে ঘটনার পর থেকে লাইলি আক্তারকে হানিট্রাপের সদস্য বলে তাহার একাধিক ভিডিও, ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হতে থাকে। প্রাথমিক অনুসন্ধানে একাধিক রাজনৈতিক দলের নেতাদের একই ভাবে জিম্মি করে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন বলে জানা যায়। আর তার এ হানিট্রাপ থেকে বাদ যায়নি বিএনপি ও আ'লীগের নেতাকর্মী কাউ।

নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি জানান, লাইলি দীর্ঘদিন ধরে মাদকসহ নারী দিয়ে অনৈতিক কর্মকান্ড পরিচালনা করে আসছেন। এবং দেহ ব্যবসার আড়ালে গোপন ভিডিও ধারণ করে ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন।

এবিষয়ে লাইলি আক্তার বলেন, মোকবল হোসেন মাস্টারের সাথে তার অবৈধ সম্পর্ক রয়েছে। মোকবল হোসেনের সাথে অনৈতিক কর্মকান্ডের ভিডিও রয়েছে তার মুঠোফোনে। সে তার ব্যক্তিগত পাওনা টাকা চাইতে গেলে উভয়ের মধ্যে ঝগড়া সৃষ্টি হয়।

এ বিষয়ে দেবীদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি ) মোঃ মনিরুজ্জামান বলেন, একাধিক সূত্রে পাওয়া নির্যাতনের ভিডিওর সূত্র ধরে আমরা লাইলিকে আটক ও জিম্মি মোকবল হোসেন মাস্টারকে উদ্ধার করেছি। সে বিভিন্ন অপর্কমের সাথে জড়িত। শুনেছি বিভিন্ভুন রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীও তার থেকে পরিত্রাণ পায়নি। ক্তভোগীর দায়ের করা পর্নগ্রাফি মামলায় আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেণ করেছি।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
X
UPCOMING
France VS England
Scheduled
19 Jul, 03:00 AM
VS
World Cup