মঙ্গলবার
১০ মার্চ ২০২৬, ২৬ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
মঙ্গলবার
১০ মার্চ ২০২৬, ২৬ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সালিসে চোর সাব্যস্ত করায় তরুণের আত্মহত্যা

চাঁদপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ : ০৯ মার্চ ২০২৬, ০২:৪৭ পিএম
মো. মাসুম (২০)
expand
মো. মাসুম (২০)

হাঁস চুরির ঘটনায় বসেছিল গ্রাম্য সালিস। সেখানে চোর সাব্যস্ত করায় মো. মাসুম (২০) নামের এক তরুণ আত্মহত্যা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

রোববার (৮ মার্চ) রাতে চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার গোবিন্দপুর উত্তর ইউনিয়নের চরমথুরা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

মাসুম ওই গ্রামের দেওয়ানবাড়ির আলাউদ্দিন মিয়ার ছেলে। খবর পেয়ে মরদেহ উদ্ধার করে থানা-পুলিশ।

সরেজমিনে জানা গেছে, একই গ্রামের পাটওয়ারীবাড়ির মোফাজ্জল পাটওয়ারীর ছেলে মো. নয়ন পাটওয়ারীর দুটি চীনা হাঁস এবং ১টি দেশীয় প্রজাতির হাঁস ৬ মার্চ রাতে চুরি হয়।

পরদিন সকালে হাঁস না পেয়ে নয়নের পরিবারের লোকজন জানতে পারে, হাঁসটি একই গ্রামের মো. মাসুম গং চুরি করে প্রতিবেশী রাবেয়া নামক এক নারীর কাছে বিক্রি করেছে। এ চুরির ঘটনায় অভিযুক্ত যুবক মাসুমের বাড়িতে রোববার দুপুরে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্যের উপস্থিতিতে গ্রাম্য সালিস বসে।

সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে চুরির অপরাধ স্বীকার করায় মাসুমকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা এবং নাকে খত দেওয়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।

নাকে খত দেওয়ার ঘটনায় মাসুম অপমানিত বোধ করে পরিবারের সদস্যদের অগোচরে নিজের বসতঘরের আড়ার সঙ্গে গলায় রশি পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেন। টের পেয়ে স্থানীয়রা এসে মাসুমের মৃত্যুর বিষয়টি পুলিশকে জানায়।

স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মিজানুর রহমান বলেন, হাঁস চুরির ঘটনায় অপরাধ স্বীকার করায় তাঁকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা এবং পরে এমন ঘটনা না ঘটানোর জন্য নাকে খত দেওয়ানো হয়। সন্ধ্যায় সে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। এর বাইরে আমার আর কিছু জানা নেই।

মাসুমের বাবা আলাউদ্দিন মিয়া বলেন, আমার ছেলেকে চুরির অপবাদ দিয়ে আমাদের বসতঘরে এসে মারধর করেছে নয়ন গং। মেম্বারের নেতৃত্বে একতরফা সালিস করে আমার ছেলেকে ফাঁসিয়ে দেওয়া হয়েছে। অপমান সইতে না পেরে ছেলে আত্মহত্যা করেছে। ছেলের মৃত্যুর জন্য মেম্বার ও সালিসকারীগণ ও নয়নেরা দায়ী। আমি বিচার চাই। থানায় অভিযোগ দেব।

হাঁসের মালিক নয়ন পাটওয়ারী বলেন, আমার হাঁস চুরির ঘটনা মেম্বার ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিকে জানালে তাঁরা বিচার করে দিয়েছেন। রায়ে আমি সন্তুষ্ট। আমার বিরুদ্ধে আনীত মারধরের অভিযোগ সত্য নয়।

ফরিদগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. হেলাল হোসেন বলেন, মাসুমের মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন করা হয়েছে। ময়না তদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে। মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত হয়ে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন