

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে পাওনা টাকাকে কেন্দ্র করে দুই গ্রামবাসীর বিরোধে টানা তিন দিন ধরে রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে উপজেলার কালিকচ্ছ বাজার। দিন-রাত দফায় দফায় চলা এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে এক ব্যক্তি নিহত এবং পুলিশ সদস্যসহ প্রায় শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন। সংঘর্ষ চলাকালে স্থানীয় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়েছে। পুলিশ বারবার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনলেও এলাকায় থমথমে অবস্থা ও চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া আর ইট-পাটকেল নিক্ষেপে অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে কালিকচ্ছ বাজার। সবশেষ মঙ্গলবার (৩০ জুন) সকাল ১০টা থেকে কালিকচ্ছ বাজারে নতুন করে উপজেলার কালিকচ্ছ ইউনিয়নের সূর্যকান্দি ও ধরন্তি গ্রামের বাসিন্দারা এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে জড়ায়।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, বিরোধের সূত্রপাত মূলত বিলের পাটি বিক্রির টাকা নিয়ে। সূর্যকান্দি গ্রামের বাসিন্দা মোশারফ মিয়া পার্শ্ববর্তী ধরন্তি গ্রামের খাদিম মিয়া, আলাল ও আশিকের কাছে পাওনা ১ লাখ টাকা দাবি করেন। কিন্তু খাদিম মিয়া ওই টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে গত রোববার রাতে দুই গ্রামের মানুষের মধ্যে প্রথম দফায় সংঘর্ষ বাঁধে। ওই সংঘর্ষে গুরুতর আহত হয়ে ধরন্তি গ্রামের মো. খাদিম মিয়া নিহত হন।
হত্যাকাণ্ডের জের ধরে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত রূপ নেয়। সোমবার বিকেলে নিহত খাদিমের জানাজার নামাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে ফের সংঘর্ষে লিপ্ত হয় দুই পক্ষ। এর ধারাবাহিকতায় আজ সকাল থেকেও তৃতীয় দফায় মাঠ দখলে নেয় গ্রামবাসী। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দীর্ঘ চার ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে এবং সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। টানা তিন দিনের এই দফায় দফায় সংঘর্ষে পুলিশ সদস্যসহ অন্তত ১০০ জন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষের সুযোগে কালিকচ্ছ বাজারের একাধিক দোকানে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে।
জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. ওবায়দুর রহমান জানান, পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে। পরবর্তী সংঘর্ষ এড়াতে এলাকায় পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। নিহত কিংবা সংঘর্ষের ঘটনায় এখনো কেউ কোনও অভিযোগ দেয়নি। এসব ঘটনায় পুলিশের পক্ষ থেকে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
