রবিবার
৩১ মে ২০২৬, ১৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
রবিবার
৩১ মে ২০২৬, ১৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

খোলা আকাশের নিচে পশুর চামড়া ছড়াচ্ছে দুর্গন্ধ

আখাউড়া (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি
প্রকাশ : ৩১ মে ২০২৬, ১২:০০ পিএম
ফেলে রাখা চামড়া
expand
ফেলে রাখা চামড়া

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় কোরবানিকৃত পশুর চামড়াগুলো খোলা আকাশের নিচে লবণজাত করে রাখা হয়েছে। আশানুরূপ মূল্য না পেয়ে অনেকটাই হতাশ হয়েছে মৌসুমী ব্যবসায়ীরা।

এছাড়া অনেকে অবিক্রিকৃত চামড়া নদীতে ফেলে দিয়েছে। একইসাথে সড়কের পাশে মসজিদ মাদরাসায় সামনে রাখা চামড়াগুলো দিয়ে এখন চারদিকে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। সাধারণ লোকজন নাকে কাপড় বা রোমাল দিয়ে ভোগান্তি নিয়ে চলাচল করছে।

এদিকে চামড়া ব্যাবসায়ীরা জানান, সংগ্রহ করা চামড়াগুলো ইতিমধ্যে শ্রমিক দিয়ে লবণজাত করা হয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে পড়ে থাকা এসব চামড়া সরিয়ে ফেলা হবে।

একটি সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েক বছর ধরে গ্রামগঞ্জ থেকে বেশীভাগ কোরবানির পশুর চামড়া মাদরাসার শিক্ষার্থীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে সংগ্রহ করে থাকেন। এবারও তারা করেছেন। কিন্তু স্থানীয় বাজারে ক্রেতা না থাকায় চামড়া বিক্রিতে তারা হতাশ হয়ে পড়ে। বাধ্য হয়ে অনেকে স্বল্প দামে বিক্রি করেছেন। সংগৃহীত চামড়া বিক্রি করে যে অর্থ পায় মাদরাসাগুলো, তা দিয়ে লিল্লাহ বোর্ডিং ও এতিম শিক্ষার্থীদের ব্যয় নির্বাহ করে থাকেন।

সরেজমিনে গিয়ে পৌর শহরের বড় বাজারসহ বেশ কেয়েকটি মাদরাসায় গিয়ে দেখা যায় সংগ্রহকৃত চামড়াগুলো খোলা আকাশের নিচে লবণজাত করে রাখা আছে। অনেক বিক্রি না হওয়া চামড়া নদীতে পড়ে আছে। পড়ে থাকা চমড়াগুলো দিয়ে দুর্গন্ধ ছড়ানোর ফলে সাধারণ মানুষের চলাফেরা করতে খুবই কষ্ট হচ্ছে।

স্থানীয়রা অভিযোগ রয়েছে, চামড়ার বাজারে একটি সিন্ডিকেট সক্রিয় থাকায় প্রকৃত মূল্য পাওয়া যাচ্ছে না। এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে অসহায় গরিব ও এতিমরা। কোরবানির চামড়া মূলত অসহায় মানুষের হক হিসেবে বিবেচিত হলেও সেই অর্থ থেকে তারা বঞ্চিত হচ্ছে। তারা সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি চামড়া শিল্পকে রক্ষায় কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ, বাজারে স্বচ্ছতা নিশ্চিত এবং কথিত সিন্ডিকেট ভেঙে ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার দাবি জানান। তাদের মতে, চামড়ার সঠিক মূল্য নিশ্চিত করা গেলে একদিকে যেমন অসহায় গরিব ও এতিমরা উপকৃত হবে, অন্যদিকে দেশের সম্ভাবনাময় চামড়া শিল্পও ঘুরে দাঁড়াবে।

মৌসুমি ব্যবসায়ী হেলাল মিয়া বলেন, এবার কোরবানির পশুর ১২৫টি চামড়া সংগ্রহ করি। ঈদের দিন বিকাল থেকে হন্যে হয়ে ঘুরেও কোনো চামড়া বিক্রি করতে পারেনি। উপায়ান্তর না পেয়ে বেশীভাগ চামড়া তিতাস নদীতে ফেলা হয়। আর কয়েকটি চামড়া লবনজাত করে রেখেছি। এবার আমার বড় ধরনের লোকসান হয়ে গেলে।

মো: আলগমীর হোসেন বলেন, আমাদের মাদরাসা মসজিদ এক সাথে। এখন মাদরাসা বন্ধ থাকলেও কিন্তু মসজিদে নামাজ পড়ানো হচ্ছে। কিন্তু চামড়ার দুর্গন্ধে আসা যাওয়ায় খুবই কষ্ট হচ্ছে।

মো: জামাল মিয়া বলেন, বলেন, এবার ১ লাখ ৫০ হাজার টাকায় গরু কেনা হয়েছে। জবেহ করার পর একজন লোক এসে চামড়া ১৫০ টাকা বলায় বিক্রি করা হয়নি। বিকাল ৫ পযর্ন্ত অপেক্ষা করে দরদাম না বাড়ায় শেষ পযর্ন্ত স্থানীয় একটি মাদরাসায় দেওয়া হয়। তিনি আরও বলেন আজ থেকে প্রায় ১০ বছর আগে ৪০ হাজার টাকার গরুর চামড়া ১৫শ টাকা বিক্রি করেছি। দিন দিন সব জিনিসের দাম বৃদ্ধি পাচ্ছে আর চামড়ার দামই শুধু কমছে।

মো: মনোয়ার হোসেন বলেন, একটা সময় ছিল কোরবানির ঈদ আসলে শহরসহ গ্রামাঞ্চলের অসহায় হতদরিদ্র ও দুস্থরা কোরবানির চামড়ার আয়ের দিকে চেয়ে থাকতো। আবার অনেক নিকট গরিব আত্মীয় স্বজন চামড়ার টাকা নিতে ঈদের আগে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতো। মাদরাসার অসহায় হতদরিদ্র ও দুস্থরা ঈদের পর দিন থেকে চামড়ার টাকা সংগ্রহের জন্য বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভিড় জমাতো। কিন্তু গত কয়েক বছর ধরে চামড়া দর অনেক কমে যাওয়ায় গরীবরা সেই টাকা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

মুহিউসসুন্নাহ মাদরাসার প্রিন্সিপাল মাও: আসয়াদ আল হাবীব বলেন, এবার পাড়া মহল্লা থেকে ৫শতাধিক চামড়া সংগ্রহ করা হয়। এ চামড়া সংগ্রহ করতে আমাদের প্রায় ৪০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। কিন্তু ক্রেতা না পেয়ে শেষে একজনের কাছে ৩৬০ টাকা দরে বিক্রি করেছি। তাও এক মাস পরে টাকা দিবে বলেছে। এরকম হলে আগামী বছর আর চামড়া সংগ্রহ করবো না।

দেবগ্রাম জামিয়া মাজহারুল হক মাদ্রাসা কমিটির সদস্য মো: কাউছার আহমেদ বলেন, এবার আমরা ১ হাজার চামড়া সংগ্রহ করি। এতে শ্রম ও অর্থ অনেক ব্যয় হয়েছে। আশানুরূপ দর পাইনি। একজনের কাছে ৩৬০ টাকা দরে বিক্রি করেছি। তাও টাকা দেওয়ার জন্য এক মাস সময় চেয়েছে। তিনি বলেন এ ব্যপারে সরকারের সুদৃষ্টি দেওয়া দরকার।

উত্তর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ও সিঙ্গারবিল বাজার কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুস ছাত্তার মিয়া জানান, 'চামড়া দেশের একটি মূল্যবান জাতীয় সম্পদ। পশুর চামড়ার বিক্রির অর্থ সাধারণত গরিব ও অসহায় মানুষের কল্যাণে ব্যবহৃত হয়। কিন্তু বিগত বেশ কয়েক বছর ধরে চামড়ার ন্যায্য মূল্য না পাওয়া গরিব মানুষেরা তাদের হক থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন