বুধবার
১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২৭ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
বুধবার
১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২৭ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

জামায়াত অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করছে: জোনায়েদ সাকি

বাঞ্ছারামপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ : ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৬:৫০ পিএম
সংবাদ সম্মেলনে কথা বলছেন জোনায়েদ সাকি
expand
সংবাদ সম্মেলনে কথা বলছেন জোনায়েদ সাকি

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ (বাঞ্ছারামপুর) আসনে জামায়াত অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করছে বলে অভিযোগ তুলেছেন গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক ও বিএনপি জোটের ‘মাথাল’ প্রতীকের প্রার্থী জোনায়েদ সাকি। তিনি মঙ্গলবার বিকেলে এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ তোলেন।

এ সময় তিনি বলেন, দুর্ভাগ্যজনকভাবে নির্বাচন নিয়ে নানা ধরনের আশঙ্কার কথা আমরা শুনছি। ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের আশঙ্কা সারা দেশেই আছে—এ নিয়ে আলোচনা চলছে। আমরা দেখেছি, গত দুদিনের মধ্যে হঠাৎ করে পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর একটি পরিকল্পিত চেষ্টা হচ্ছে। গতকাল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখেছি, জামায়াতে ইসলামের বিভিন্ন প্রার্থী বিভিন্ন জায়গায় ভোট দখল বা ভোট কারচুপি ঠেকানোর নামে ভোটারদের বাঁশের লাঠি নিয়ে ভোটকেন্দ্রে আসার আহ্বান জানাচ্ছেন। গুরুত্বপূর্ণ পত্রপত্রিকায় এ বিষয়ে সংবাদও প্রকাশিত হয়েছে।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, গতকাল বাঞ্ছারামপুরেও আমরা দেখেছি একটি অটোতে করে বেশ কিছু ছোট ছোট বাঁশ নিয়ে যাওয়া হচ্ছে এবং বিভিন্ন জায়গায় সেগুলো জমা করা হচ্ছে, যাতে অনেকগুলো কেন্দ্রে এ ধরনের ঘটনা ঘটানো যায়। ওই অটোতে জামায়াতে ইসলামের ব্যানার ছিল। এ সময় জামায়াতে ইসলামের ইউনিয়ন পর্যায়ের এক নেতাকে জনতা আটক করে পুলিশি হেফাজতে নিলে তাকে ছাড়িয়ে নিতেও যায় জামায়াতের নেতাকর্মীরা। এর অর্থ স্পষ্ট—কিছু দল, যারা আমাদের প্রতিদ্বন্দ্বী, তারা পরিকল্পিতভাবে ভোটকেন্দ্রে বাঁশের লাঠি ও দেশীয় অস্ত্র জমা করছে। এতে ভোটকেন্দ্রে অঘটন ঘটার আশঙ্কা রয়েছে। আমরা মনে করি, এটি অত্যন্ত বিপজ্জনক ও ভয়ংকর উস্কানিমূলক কার্যক্রম। এটি অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি ছাড়া আর কিছুই নয়।

তিনি আক্ষেপ করে বলেন, আমরা যেখানে বলছি বাঞ্ছারামপুরের প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে জনগণ যেন নির্ভয়ে ভোট দিতে যায়। জনগণ যাকে ভোট দেবে, আমরা তাকেই মেনে নিতে প্রস্তুত। জনতার ভোটেই প্রতিনিধি নির্বাচিত হবে। আমরা শতভাগ চাই সুষ্ঠু নির্বাচন হোক। কিন্তু ভোট দখল হয়ে যাবে—এমন আগাম আওয়াজ তুলে উস্কানিমূলক পরিস্থিতি তৈরি করা হচ্ছে, ভোট বানচাল বা ভোটকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা চলছে। এই অভিযোগ আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে জানাচ্ছি।

তিনি বলেন, জনগণকে অবহিত করছি—আমরা শতভাগ সুষ্ঠু নির্বাচন চাই। ভোট গণতন্ত্রের জন্য অপরিহার্য। কতিপয় ব্যক্তি মিলে গণতন্ত্র কায়েম করা যায় না।

তিনি বিগত সরকারের সমালোচনা করে বলেন, আমরা দেখেছি কীভাবে ভোটব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দিয়ে বাংলাদেশকে বিভক্ত করে দেওয়া হয়েছে। বিভক্তির সুযোগে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের ওপর বিদেশিরা কীভাবে প্রভাব বিস্তার করেছে। বর্তমান বিশ্বব্যবস্থা, ভূরাজনৈতিক ও আঞ্চলিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে জনগণের ঐক্যই হচ্ছে স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের একমাত্র গ্যারান্টি। তাই ভোট বানচালের যেকোনো তৎপরতা বাংলাদেশের অস্তিত্বকে সংকটে ফেলবে। বাংলাদেশের স্বার্থে আমাদের প্রথম কাজ হচ্ছে মানুষের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠা করা।

তিনি শুরুতেই বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে সুষ্ঠু, অবাধ, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের জন্য লড়াই করেছি। মানুষের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য সংগ্রাম করেছি। বিগত তিনটি নির্বাচনের অভিজ্ঞতার বাস্তবতায় বিরোধী দলগুলো যুগপৎভাবে মাঠে ছিল। এই লড়াইয়ের মধ্য দিয়েই ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান সংঘটিত হয়েছে। এই লড়াইয়ে হাজারো ছাত্র-জনতা শহীদ হয়েছেন। তাদের রক্তের ঋণে আমরা সবাই আবদ্ধ। রক্তের প্রতি যদি সামান্যতম অঙ্গীকার থাকে, তবে আমাদের সবার দায়িত্ব অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করা। আমরা জনসংযোগের সময় প্রতিটি এলাকায় জনগণকে সচেতন করেছি, যাতে সবাই শান্তিপূর্ণভাবে ভোট দিতে যায়।

তিনি বিএনপির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, বৃহত্তর দল হিসেবে বিএনপির নেতাকর্মীরা জনমত গঠন ও ‘মাথাল’ প্রতীকের পক্ষে যে আন্তরিকতা দেখিয়েছেন, তাতে আমরা কৃতজ্ঞ। আমরা মনে করি, এটি রক্তের মধ্য দিয়ে গড়ে ওঠা ঐক্যের একটি নির্দশন।

মঙ্গলবার বাঞ্ছারামপুর উপজেলা সদরের ভোজনবাড়ি রেস্টুরেন্টের ছাদে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে জোনায়েদ সাকির সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি কৃষিবিদ মেহেদী হাসান পলাশ, সাধারণ সম্পাদক ভিপি এ কে এম মূসা, সাংগঠনিক সম্পাদক হারুনুর রশিদ, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সালেহ মূসাসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

X