মঙ্গলবার
০৪ আগস্ট ২০২৬, ২০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
মঙ্গলবার
০৪ আগস্ট ২০২৬, ২০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শেরপুরে পে-অর্ডার জালিয়াতির অভিযোগ সাব-রেজিস্ট্রারের বিরুদ্ধে

শেরপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি
প্রকাশ : ২৭ জুলাই ২০২৬, ০৬:৩৯ পিএম আপডেট : ২৮ জুলাই ২০২৬, ০৫:০১ পিএম
ছবি : সংগৃহীত।
expand
ছবি : সংগৃহীত।

বগুড়ার শেরপুরে একটি জমির নিবন্ধন সম্পন্ন না হওয়ার সুযোগে ৪২ লাখ ৫০ হাজার টাকার পে-অর্ডার অবমুক্তে অনিয়ম এবং ২০ লাখ ১৪ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার নাঈমা সিদ্দিকার বিরুদ্ধে।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ক্রেতার পক্ষ থেকে থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়ার দাবি করা হলেও পুলিশ বলছে তারা এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পায়নি।

ভুক্তভোগী পরিবার, সংশ্লিষ্ট নথি ও অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ২৭ নভেম্বর শেরপুর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে ৩২৮ শতক জমি নিবন্ধনের জন্য ক্রেতা মাহমুদুল হাসান ও বিক্রেতা সামসুজ্জোহা উপস্থিত হন। সোনালী ব্যাংক শেরপুর শাখার মাধ্যমে আটটি পে-অর্ডারে মোট ৪২ লাখ ৫০ হাজার টাকা জমা দেওয়া হয়। তবে আইনি জটিলতায় সেদিন জমির নিবন্ধন সম্পন্ন হয়নি এবং পে-অর্ডারগুলো সেখানেই জমা থাকে।

বিচারাধীন এই পরিস্থিতির মধ্যেই ২০২৬ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি সাব-রেজিস্ট্রারের অনুমতিক্রমে ৬ লাখ ৭১ হাজার টাকার একটি পে-অর্ডার অবমুক্ত করে টাকা উত্তোলন করা হয়।

বিষয়টি জানতে পেরে ক্রেতার আমমোক্তার মো. নূর আলম শাকিল অবশিষ্ট পে-অর্ডারগুলো নগদায়ন বন্ধ রাখতে সাব-রেজিস্ট্রার ও সোনালী ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে লিখিত অনুরোধ জানান।

কিন্তু সেই আবেদন উপেক্ষা করে গত ৭ মে আরও প্রায় ১৩ লাখ ৪৩ হাজার টাকার দ্বিতীয় পে-অর্ডারটি অবমুক্ত করা হয়। অভিযোগ উঠেছে, সাব-রেজিস্ট্রার, দলিল লেখক ও ব্যাংক কর্মকর্তাদের যোগসাজশে মোট ২০ লাখ ১৪ হাজার টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে।

ক্রেতা মাহমুদুল হাসান আরও অভিযোগ করেন, দলিলে তাঁর স্ত্রী সাদেকা খানমের নাম পরিবর্তন করে জালিয়াতির মাধ্যমে তানিয়া আক্তার নামে এক অপরিচিত নারীর নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এ বিষয়ে আদালতে একটি মামলা চলমান রয়েছে।

সোনালী ব্যাংক শেরপুর শাখার ব্যবস্থাপক মাহবুবুল আলম বলেন, “সাব-রেজিস্ট্রার পে-অর্ডার দুটি অবমুক্ত করায় নিয়ম অনুযায়ী টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। পরবর্তী দুটি পে-অর্ডার ভাঙানোর চেষ্টা করা হলেও আমরা তা স্থগিত রেখেছি।”

অভিযুক্ত দলিল লেখকের সহকারী সামছু হোসেন আত্মসাতের অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেন, তিনি উত্তোলিত টাকা তানিয়া আক্তার ও আমমোক্তার নূর আলম শাকিলকে বুঝিয়ে দিয়েছেন।

শেরপুর উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার নাঈমা সিদ্দিকা বলেন, “আমার বিরুদ্ধে করা কোনো অভিযোগের বিষয়ে আমি অবগত নই। সরকারি চাকরি বিধিমালা অনুযায়ী ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া এ বিষয়ে আমি গণমাধ্যমে কথা বলতে পারব না।”

জমির ক্রেতার স্ত্রী মোছা. সাদেকা খানম জানান, গত ২২ জুলাই তদন্তের নামে তাদের দপ্তরে ডেকে হেনস্তা করা হয়েছে। এর প্রেক্ষিতে তিনি সাব-রেজিস্টার ও দলীল লেখকের সহকারি সামছু হোসেনসহ অজ্ঞাতনামাদের বিরুদ্ধে শেরপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

এদিকে শেরপুর থানা পুলিশের পরিদর্শক (তদন্ত) জয়নুল আবেদীন জানান, “এই বিষয়ে উভয় পক্ষই থানায় এসে মৌখিক অভিযোগ করেছেন। লিখিত অভিযোগ করা হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।“

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন