

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর, অস্থায়ী আবাসন প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়ন এবং মেডিকেল সেন্টারের উন্নয়নসহ বিভিন্ন দাবিতে প্ল্যাকার্ড প্রদর্শনকে কেন্দ্র করে শাখা ছাত্রদল ও শিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
এসময় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের (জকসু) প্রতিনিধি, শিক্ষক ও সাংবাদিকদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে ইউজিসি চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে যোগ দিতে যাওয়ার সময় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
জকসু সূত্রে জানা যায়, দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের কাজ দ্রুত সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর, কেরানীগঞ্জে অস্থায়ী আবাসন প্রকল্পের দ্রুত বাস্তবায়ন এবং মেডিকেল সেন্টারের চিকিৎসাসেবা উন্নয়নসহ বিভিন্ন দাবিতে প্ল্যাকার্ড নিয়ে অনুষ্ঠানে প্রবেশের চেষ্টা করেন জকসুর প্রতিনিধিরা।
তবে মিলনায়তনে প্রবেশের সময় তাদের বাধা দেওয়া হয়। একপর্যায়ে জকসুর প্রতিনিধি, ছাত্রদলের নেতাকর্মী ও প্রশাসনের সংশ্লিষ্টদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি এবং ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ ওঠে। এ সময় প্ল্যাকার্ড ছিঁড়ে ফেলা এবং জকসু প্রতিনিধিদের ওপর হামলা চালানো হয় বলেও অভিযোগ করেন তারা।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, জকসু ভিপি রিয়াজুল ইসলামসহ কয়েকজন প্রতিনিধি অডিটোরিয়ামে প্রবেশের চেষ্টা করলে জবি ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেল তাদের বাধা দেন। পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষক ড. কে এ এম রিফাত হাসানকে ধাক্কা দেওয়া হয় বলে ভিডিওতে দেখা যায়।
একই সময় একটি ভিডিওতে কাউকে বলতে শোনা যায়, ‘এই দরজা বন্ধ কর, দ্রুত গেট আটকা।’ এরপর অডিটোরিয়ামের গেট বন্ধ করে দেওয়া হয়।
ঘটনার সময় উপস্থিত সাংবাদিকদের সঙ্গেও ধাক্কাধাক্কির অভিযোগ ওঠে। পরে অডিটোরিয়ামের সামনে ছেঁড়া প্ল্যাকার্ড হাতে বিক্ষোভ করতে দেখা যায় জকসু প্রতিনিধিদের।
জকসু নেতাদের দাবি, শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবিগুলো ইউজিসি চেয়ারম্যানের সামনে শান্তিপূর্ণভাবে তুলে ধরতেই তারা প্ল্যাকার্ড নিয়ে প্রবেশ করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তাদের বাধা দেওয়া হয়, প্ল্যাকার্ড ছিঁড়ে ফেলা হয় এবং হামলা চালানো হয়।
জকসুর সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আলিম আরিফ নিজের ফেসবুক পোস্টে লেখেন, ‘প্রক্টর ছাত্রদল হয়ে গেছে নাকি ছাত্রদল প্রক্টরের ভূমিকায়? আমন্ত্রণ জানিয়েও অডিটোরিয়ামে প্রবেশে বাধা। ধাক্কাধাক্কি করা শুধু ছাত্রদলের দ্বারাই সম্ভব।’
জকসু ভিপি রিয়াজুল ইসলাম বলেন, ‘জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রদলের হামলা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবির পোস্টার ছিঁড়ে ফেলেছে প্রক্টর অফিস ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। জকসুর প্রতিনিধিদেরও ধাক্কা দেওয়া হয়েছে। এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার বিচার এবং শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবি দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে।’
প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত এ অভিযোগের বিষয়ে জবি ছাত্রদল ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা সংযোজন করা হবে।