বুধবার
২৯ এপ্রিল ২০২৬, ১৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বুধবার
২৯ এপ্রিল ২০২৬, ১৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইজারা ছাড়াই হাটের খাজনা আদায়ের অভিযোগ 

শেরপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি:
প্রকাশ : ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:৪০ পিএম
বগুড়ার শেরপুরে অবস্থিত বারোদুয়ারী হাট
expand
বগুড়ার শেরপুরে অবস্থিত বারোদুয়ারী হাট

বগুড়ার শেরপুর পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কারও ৩০ মাস, কারও আবার ৫৬ মাসের বেতন বকেয়া রয়েছে। দীর্ঘদিন বেতন না পেয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন তারা। এ অবস্থায় বকেয়া বেতনের দাবিতে সোমবার (২৭ এপ্রিল) সকাল থেকে কর্মবিরতি পালন করেছেন পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। তাদের অভিযোগ ইজারা ছাড়াই বারদুয়ারী হাটে খাজনা আদায় করছে একটি চক্র। অথচ বেতন না পেয়ে তারা মানবেতর জীবন যাপন করছেন।

সূত্র জানায়, সবশেষ চৈত্র মাসের মধ্যেই শেরপুর বারোদুয়ারী হাটের ইজারা কার্যক্রম সম্পন্ন হওয়ার কথা। চলতি অর্থ বছরে হাটের ইজারা মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৮৪ লক্ষ টাকা। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হলেও কেউ অংশগ্রহণ করেনি।

নিয়ম অনুযায়ী, নতুন করে ইজারা না হওয়ায় বৈশাখের শুরু থেকে পৌরসভার কর্মচারী দিয়ে খাজনা আদায় করে তা তহবিলে জমা দেওয়ার কথা। তবে বাজার থেকে খাজনা আদায় হলেও তা তহবিলে জমা হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

শেরপুর পৌরসভার টিকাদানকারী আফরুজা বেগম বলেন, ‘একদিকে টাকার অভাবে আমাদের বেতন দিচ্ছে না। অন্যদিকে ইজারা ছাড়াই শেরপুর বারোদুয়ারী হাটের খাজনা তোলা হচ্ছে। কারা তুলছে অফিসে জিজ্ঞেস করলে কেউ উত্তর দিতে পারে না। একটা সিন্ডিকেট পৌরসভার টাকা লুটপাট করছে, কিন্তু আমরা বেতন না পেয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছি।’

বারোদুয়ারী হাট ঘুরে খাজনা আদায়ের সত্যতা পাওয়া যায়। হাটের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, নিয়মিতভাবেই বিভিন্ন দোকান ও ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে খাজনা আদায় করা হচ্ছে।

কাঁচাবাজারের ব্যবসায়ী নূরুল ইসলাম বলেন, ‘এখানে অনেক দোকান আছে যারা প্রতিদিন বসে। তাদের কাছ থেকে প্রতিদিন খাজনা আদায় করা হয়।’

মাছ ব্যবসায়ী আলম শেখ বলেন, ‘আগে যারা খাজনা নিত তারা আর আসে না। তিন হাট হলো ফেরদৌস আলম এসে খাজনা নেয়। সবাই দেয়, তাই বাধ্য হয়ে আমিও দেই।’

মুদিদোকানী টিংকু সাহা বলেন, ‘আমরা জেনেছি এই হাট এখনও ইজারা দেওয়া হয়নি। কিন্তু ইজারাদার পরিচয়ে কিছু লোক নিয়মিত আমার কাছ থেকে ১৫০ টাকা করে খাজনা নিচ্ছে। এখানে হাটের দিন ছাড়াও খাজনা আদায় করা হয়। তাদের অত্যাচারে লোকজন অন্য হাটে যাচ্ছে। দিনে দিনে এখানে ব্যবসা করা কঠিন হয়ে যাচ্ছে।’

ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, স্থানীয় সোহেল রানার লোকজন এই খাজনা আদায় করছেন। তবে হাটে সোহেল রানাকে পাওয়া যায়নি। পরে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘আমি ইজারাদার নই। পৌর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে খাস আদায় করা হচ্ছে।’

পৌর প্রশাসনিক কর্মকর্তা ইমরোজ মুজিব বলেন, ‘গত অর্থবছরে একটি সিস্টেমের মাধ্যমে হাটের খাজনা আদায় করা হতো। এবারও সেভাবে হওয়ার কথা। কিন্তু কীভাবে খাজনা আদায় হচ্ছে, তা আমার জানা নেই। এ বিষয়ে ইউএনও সাহেব ভালো বলতে পারবেন।’

শেরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক মো. সাইদুজ্জামান হিমু বলেন, ‘টেন্ডার আহ্বান করার পরও কেউ অংশগ্রহণ করেনি। ফলে পৌর কর্মচারীদের মাধ্যমে খাস আদায় করা হচ্ছে। কিন্তু সোমবার তারা কর্মবিরতি পালন করায় আদায় করা হয়নি। অন্য কেউ আদায় করে থাকলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন