বৃহস্পতিবার
২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৪ ফাল্গুন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বৃহস্পতিবার
২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৪ ফাল্গুন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বঙ্গোপসাগরে জলদস্যু আতঙ্কে মৎস্যজীবীরা, বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন

পাথরঘাটা (বরগুনা) প্রতিনিধি
প্রকাশ : ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৮:২৫ পিএম
পাথরঘাটা পৌর শহরের গোলচত্বরে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
expand
পাথরঘাটা পৌর শহরের গোলচত্বরে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

দীর্ঘদিন দস্যুতা শূন্যের কোটায় নেমে আসায় সুন্দরবন ও বঙ্গোপসাগর সংলগ্ন উপকূলজুড়ে জেলে ও মৎস্যজীবীদের মাঝে স্বস্তি ফিরেছিল। তবে সম্প্রতি আবারও জলদস্যুদের তৎপরতা শুরু হওয়ায় উপকূলজুড়ে নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

গত কয়েকদিন ধরে সাগর ও নদীতে জেলে বহরে হামলা, লুটপাট, অপহরণ ও গুলিবর্ষণের একাধিক ঘটনা ঘটেছে। এ পরিস্থিতিতে জলদস্যুদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে পাথরঘাটায় মানববন্ধন করেছে বরগুনা জেলা মৎস্যজীবী ট্রলার মালিক সমিতি, বিএফডিসি মৎস্য আড়ৎদার সমিতি, বিএফডিসি মৎস্য পাইকার সমিতি, বরগুনা জেলা ফিশিং ট্রলার শ্রমিক ইউনিয়ন ও বিএফডিসি মৎস্য বাজার ঘাট শ্রমিক ইউনিয়নসহ কয়েক হাজার মৎস্যজীবী।

বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টার দিকে পাথরঘাটা পৌর শহরের গোলচত্বরে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (উএনও) মাধ্যমে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বরাবরে একটি স্মারকলিপি প্রদান করে জেলা মৎস্যজীবী ট্রলার মালিক নেতারা।

জেলেদের অভিযোগ, বড় জাহাঙ্গীর ও ছোট জাহাঙ্গীর বাহিনীর নামে পরিচিত দুই জলদস্যু চক্র সম্প্রতি সুন্দরবন ও বঙ্গোপসাগরে সক্রিয় হয়ে উঠেছে। তাদের বিরুদ্ধে একাধিক ট্রলার ডাকাতি, অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে।

গত ১৫ ফেব্রুয়ারি সুন্দরবনের কটকা এলাকায় পাথরঘাটা সদর ইউনিয়নের রুহিতা গ্রামের মাসুম মাঝির ট্রলারসহ তাকে ও আরও চারজন জেলেকে অপহরণ করে জলদস্যুরা। পরে ২০ ফেব্রুয়ারি চার লাখ টাকা মুক্তিপণ দিয়ে মাসুম মাঝি মুক্তি পেলেও তার ট্রলারের তিন মাঝি মাহবুব (২৭), সোহেল (১৭) ও রাজু (২৬) এখনও জলদস্যুদের হাতে আটক রয়েছেন বলে জানিয়েছেন স্বজনরা।

এদিকে গতবুধবার দুপুরে জলদস্যুরা জেলে রাজু (৩১) ও কাঁকড়া শিকারি নিহার মণ্ডল (৪৫)-কে এক লাখ টাকা করে মুক্তিপণ নিয়ে ছেড়ে দেয়। তারা একটি ট্রলারযোগে পাথরঘাটা মৎস্য ঘাটে ফিরে আসেন। তবে ফেরার পথে আরেকটি জলদস্যু দল তাদের ট্রলার লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়ে। এতে ট্রলারটি ক্ষতিগ্রস্ত হলেও তারা অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা পান।

মুক্ত হয়ে ফেরা নিহার মণ্ডল জানান, তিনি প্রতি মাসে মাসোহারা দিয়ে সুন্দরবনের পাঠাকাটা এলাকায় কাঁকড়া শিকার করতেন। টাকা দেওয়ার পরও তাকে চোখ বেঁধে অপহরণ করে জঙ্গলে নিয়ে যাওয়া হয় এবং পায়ে শিকল পরিয়ে আটকে রাখা হয়। পরিবারের কাছে মোটা অঙ্কের মুক্তিপণ দাবি করা হলে এক লাখ টাকা দেওয়ার পর তিনি মুক্তি পান।

অপর জেলে রাজু জানান, কটকা এলাকায় জাল ফেলতে গেলে জলদস্যুরা ট্রলারসহ তাদের ধরে নিয়ে যায় এবং কয়েকদিন আটকে রাখে। মুক্তি পাওয়ার পর ফেরার সময় আরেকটি দস্যু দল তাদের পুনরায় আটক করার চেষ্টা করলে তারা দ্রুত ট্রলার চালিয়ে পালিয়ে আসেন। এ সময় তাদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হয়, তবে কেউ হতাহত হননি।

বরগুনা জেলা মৎস্যজীবী ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরীর সভাপতিত্বে মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, জেলা মৎস্যজীবী ট্রলার মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান মাসুম, আবুল হোসেন ফরাজী, দুলাল মাস্টার, নজরুল ইসলাম প্রমুখ।

বক্তারা দ্রুত জলদস্যু দমনে যৌথ বাহিনীর অভিযান জোরদার, নিয়মিত নৌ টহল বৃদ্ধি এবং অপহৃত জেলেদের দ্রুত উদ্ধারের দাবি জানান। তারা বলেন, দস্যুদের দৌরাত্ম্যে জেলেরা সাগরে যেতে ভয় পাচ্ছেন, এতে উপকূলীয় অর্থনীতি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

এ বিষয়ে পাথরঘাটা ইউএনও ইসরাত জাহান বলেন, জেলেদের পক্ষ থেকে একটি স্মারকলিপির কাগজ পাওয়া গেছে। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

X