

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


বান্দরবনে শ্বশুর-শাশুড়িকে পিতামাতা সাজিয়ে ভুয়া জন্ম নিবন্ধন ও এনআইডি তৈরি করে পার্বত্য এলাকার জমি কেনার অভিযোগ উঠেছে কামরুল হাসান নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে।
পার্বত্য এলাকার আইন অনুযায়ী, জমি কিনতে হলে আগে থেকেই তার বা তার ওয়ারিশদের নামে পার্বত্য এলাকায় জমি থাকতে হবে। এছাড়াও এই আইন অনুযায়ী জেলার বাহিরের কারোর জন্য জমি কেনার সুযোগ থাকবে না।
অদৃশ্য শক্তির প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে অভিযুক্ত কামরুল হাসান তার জন্ম নিবন্ধন ও এনআইডি তৈরি করেন। তিনি চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার বাসিন্দা। তবে বান্দরবনে বিয়ে করে শ্বশুর-শাশুড়িকে পিতামাতা সাজিয়ে এসব গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র তৈরি করেন। এসব কাগজপত্র ব্যবহার করে তিনি জমি কেনা শুরু করেন এবং ইতোমধ্যে বেশ কিছু জমি তার নামে রেজিস্ট্রি হয়েছে বলেও জানা গেছে।
এ বিষয়ে ২০২৩ সালে জানাজানি হওয়ার পর সত্যতা পেয়েছিলেন তৎকালীন পৌরসভার মেয়র ইসলাম বেবি। তবে ২০২৩ সালেই তিনি মারা যাওয়ার পর বর্তমান পৌর প্রশাসক হিসেবে দায়িত্বরত অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক এস এম মনজুরুল হক কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এদিকে, জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন আইন, ২০০৪ এর ধারা ১৫(ক) মোতাবেক রেজিস্টার জেনারেল কার্যালয় থেকে কামরুল হাসানের ইস্যুকৃত জন্মসনদটি আইনসিদ্ধ না হওয়ায় এটি বাতিলযোগ্য।
এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক বাসিন্দা জানান, অবৈধ উপায়ে এবং ভুল তথ্যের দিয়ে জন্মনিবন্ধন ও এনআইডি করা দেশের প্রচলিত আইনে অপরাধ হিসেবে গণ্য হওয়া সত্ত্বেও এই অপরাধের বিচার না করে উল্টো প্রশাসন তাদের পক্ষ নেওয়া মানে হচ্ছে তাদেরকে অবৈধ কাজে উৎসাহিত করা।
বিষয়টি অস্বীকার করে অভিযুক্ত কামরুল হাসান বলেন, আমার শ্বশুর-শাশুড়ি ১০ থেকে ১২ বছর আগে আমাকে দত্তক নিয়েছিল। সেই সূত্রে তাদেরকে বাবা হিসেবে আমি আমার জন্ম নিবন্ধন ও এনআইডি তৈরি করেছি।
বান্দরবান পৌরসভার প্রশাসক ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক এস এম মনজুরুল হক বলেন, বিষয়টা এখনও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। রেজিস্টার জেনারেল কার্যালয় থেকে নির্দেশনা দিয়ে যে চিঠি দেওয়া হয়েছে তার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা রেজিস্টার জেনারেলের কাছে আবারও চিঠি লিখেছি। বিষয়টি আরও ক্লিয়ার হওয়া দরকার। আমরা চাইলেই তো জন্মনিবন্ধন বাতিল করতে পারিনা।


