

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


বরগুনার পাথরঘাটা সৈয়দ ফজলুল হক ডিগ্রি কলেজের মানবিক বিভাগের এইচএসসি পরীক্ষার্থী গোলাম রাসুল ফাহিম (১৮) ভবিষ্যতের স্বপ্ন নিয়ে প্রথম পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন। কিন্তু সেই স্বপ্ন থমকে যায় ৩ জুলাই রাতে এক মর্মান্তিক মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায়। বর্তমানে তিনি রাজধানীর একটি হাসপাতালে জীবন-মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, ২ জুলাই অনুষ্ঠিত এইচএসসির প্রথম পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার পর ৩ জুলাই রাত ১০ টার দিকে প্রাইভেট পড়া শেষে বাসায় ফেরার পথে বরগুনার কলেজ ব্রাঞ্চ রোড এলাকায় একটি মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় তিনি গুরুতর আহত হন ফাহিম। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে অবস্থার অবনতি হলে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানেও শারীরিক অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় নেওয়া হয়। বর্তমানে তিনি ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।
ফাহিম পাথরঘাটা ফজলুল হক ডিগ্রি কলেজের মানবিক বিভাগের ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষার্থী। দুর্ঘটনার কারণে তিনি চলমান এইচএসসি পরীক্ষার বাকি পরীক্ষাগুলোয় আর অংশ নিতে পারেননি। জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সময়ে পরীক্ষা কেন্দ্রের বদলে এখন তার দিন কাটছে হাসপাতালের শয্যায়।
দুর্ঘটনায় ফাহিমের মেরুদণ্ড, বাঁ কাঁধসহ শরীরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ হাড় গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তার একাধিক অস্ত্রোপচার ও উন্নত চিকিৎসার জন্য মোট প্রায় ৫-৬ লাখ টাকার প্রয়োজন। এর মধ্যে শুধু মেরুদণ্ডের অস্ত্রোপচার ও প্রাথমিক চিকিৎসার জন্যই প্রায় ৩ লাখ টাকা নির্ধারণ করেছেন চিকিৎসকরা। এ ছাড়া অন্যান্য অস্ত্রোপচার, ওষুধ, পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও পরবর্তী চিকিৎসার জন্য আরও বিপুল অর্থের প্রয়োজন হবে বলে জানায় ফাহিমের পরিবার।
ফাহিমের বাবা আগেই মারা গেছেন। অসহায় মা ফাতিমা মনি একমাত্র ছেলের চিকিৎসার ব্যয় বহন করতে হিমশিম খাচ্ছেন। পরিবারের আয়ের কোনো স্থায়ী উৎস না থাকায় চিকিৎসার এই বিপুল ব্যয় মেটানো তাদের পক্ষে প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
ফাহিমের বন্ধু ও সহপাঠীরা বলেন, ‘ফাহিম আমাদের সবার খুব কাছের একজন। সে সব সময় হাসিখুশি আর প্রাণবন্ত ছিল। বন্ধুদের সঙ্গে ভাইয়ের মতো মিলেমিশে থাকত। আজ সে জীবন-মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছে। কিন্তু তার পরিবারের আর্থিক অবস্থা ভালো না হওয়ায় চিকিৎসার ব্যয় বহন করা কঠিন হয়ে পড়েছে। আমরা সমাজের সকল হৃদয়বান মানুষের কাছে অনুরোধ জানাই, আপনারা সবাই এগিয়ে আসুন। আপনাদের সামান্য সহযোগিতাই আমাদের বন্ধুর জীবন বাঁচাতে পারে।’
রাতা আরো বলেন, ‘ আমরা নিজেরা যার যার সামর্থ্য অনুযায়ী অর্থ সংগ্রহের চেষ্টা করছি এবং বিভিন্ন স্থান থেকে তার জন্য সহায়তা সংগ্রহ করছি। কিন্তু উন্নত চিকিৎসার জন্য আরও অনেক অর্থের প্রয়োজন। সমাজের বিত্তবান ও মানবিক মানুষ এগিয়ে এলে হয়তো তাকে সুস্থ জীবনে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে। আমরা সকলের কাছে আবেদন জানাই, একটি শিক্ষার্থীর জীবন বাঁচাতে আপনারা সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিন।’
ফাহিমের বড় বোন জান্নাত আরা বলেন, ‘আমার ভাই বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গুরুতর আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন। তার অপারেশনপর জন্য বিপুল পরিমাণে টাকার প্রয়োজন। এত বড় ব্যয় বহন করা আমাদের পরিবারের পক্ষে সম্ভব নয়। তাই সমাজের সকল বিত্তবান, প্রবাসী ও হৃদয়বান মানুষের কাছে আকুল আবেদন, আপনারা যার যার সামর্থ্য অনুযায়ী আমার ভাইয়ের চিকিৎসায় সহযোগিতা করুন। আপনাদের সামান্য সহায়তাই হয়তো আমার ভাইকে নতুন জীবন ফিরিয়ে দিতে পারে।’
চিকিৎসা ব্যয় মেটাতে তারা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে উন্নত চিকিৎসা অব্যাহত রাখতে আরও অর্থের প্রয়োজন। তাই সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, প্রবাসী, বিভিন্ন সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনসহ সকলের কাছে ফাহিমের চিকিৎসার জন্য মানবিক সহায়তার আবেদন জানিয়েছে ফাহিমের পরিবার।
সহায়তা পাঠাটে এই নম্বরে যোগাযোগ করুন- ০১৬২৬-৫৫৯২৫৯