সোমবার
২৪ আগস্ট ২০২৬, ৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সোমবার
২৪ আগস্ট ২০২৬, ৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইরানে দ্বিতীয় দফা বিমান হামলা যুক্তরাষ্ট্রের

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ২৮ জুন ২০২৬, ০৯:০০ এএম
সংগৃহীত
expand
সংগৃহীত

আবারও ইরানে সামরিক হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। টানা দ্বিতীয় দিনের এই অভিযানে ইরানের সামরিক ও নজরদারি অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন সামরিক কর্তৃপক্ষ। সাম্প্রতিক একটি বাণিজ্যিক তেলবাহী জাহাজে হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে এই অভিযান চালানো হয়েছে।

শনিবার (২৭ জুন) প্রকাশিত আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সংঘাত প্রশমনে গত ১৭ জুন একটি প্রাথমিক সমঝোতা স্মারক সই হলেও সাম্প্রতিক হামলা-পাল্টা হামলার কারণে সেই উদ্যোগ কার্যত ভেঙে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন বাহিনীর কার্যক্রম পরিচালনাকারী ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে এই অভিযান পরিচালিত হয়েছে। তাদের দাবি, বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর ইরানের ধারাবাহিক হামলার জবাব হিসেবেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

সেন্টকমের ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযানে ইরানের সামরিক নজরদারি কেন্দ্র, যোগাযোগব্যবস্থা, আকাশ প্রতিরক্ষা স্থাপনা, ড্রোন সংরক্ষণাগার এবং সমুদ্রে মাইন স্থাপনের সক্ষমতাসংশ্লিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়েছে।

এদিকে আল জাজিরা জানিয়েছে, দক্ষিণ ইরানের সিরিক বন্দরের কাছে তাহরুই গ্রামের আশপাশে একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। একই এলাকায় শুক্রবারও হামলা হয়েছিল। এছাড়া কেশম দ্বীপেও হামলার খবর দিয়েছে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম।

হামলার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানকে কঠোর হুঁশিয়ারি দেন। তিনি বলেন, ওয়াশিংটনের প্রত্যাশা পূরণ না হলে সাম্প্রতিক হামলা আরও বড় সামরিক সংঘাতে রূপ নিতে পারে। যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের জন্য তিনি ইরানকে দায়ী করেন, যদিও উভয় দেশই একে অপরের বিরুদ্ধে একই অভিযোগ করে আসছে।

ট্রাম্প লিখেছেন, ‘ইরান কখনোই শিক্ষা নেয় না। এভাবে চলতে থাকলে আমরা আর ধৈর্য ধরব না। আমরা যে অভিযান শুরু করেছি, প্রয়োজন হলে তা সামরিকভাবেই শেষ করব।’

এর আগে শনিবার ভোরে হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের সময় পানামার পতাকাবাহী তেলবাহী ট্যাঙ্কার কিকু ক্ষেপণাস্ত্র বা আত্মঘাতী ড্রোনের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তবে এতে কোনো নাবিক হতাহত হননি এবং জাহাজে থাকা অপরিশোধিত তেলেরও ক্ষতি হয়নি।

সেন্টকমের তথ্য অনুযায়ী, ট্যাঙ্কারটি প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল বহন করছিল। জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী ওয়েবসাইট মেরিনট্রাফিক জানিয়েছে, এটি কাতারের আল শাহীন তেলক্ষেত্র থেকে যাত্রা শুরু করেছিল এবং রোববার সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরাহ বন্দরে পৌঁছানোর কথা ছিল।

সূত্র: আল জাজিরা

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন