বুধবার
০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বুধবার
০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কুয়েত-বাহরাইনে তেলবাহী জাহাজে হামলার হুমকি ইরানের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:৩৪ এএম
ছবি: সংগৃহীত
expand

ইরানের তেলবাহী জাহাজে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার খবরের পর কুয়েত ও বাহরাইনের বন্দরে থাকা তেলবাহী জাহাজে পাল্টা হামলার হুমকি দিয়েছে তেহরান। এসব জাহাজের কর্মীদের দ্রুত জাহাজ ছেড়ে যাওয়ার নির্দেশও দেয়া হয়েছে।

বার্তাসংস্থা আনাদোলু বলছে, রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবিতে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে ইরানের নৌবাহিনী বলেছে, কয়েকটি ইরানি তেলবাহী জাহাজে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলার জবাবেই এই সতর্কবার্তা দেয়া হয়েছে। এমন অবস্থায় কুয়েত ও বাহরাইনের বন্দরে নোঙর করা সব তেলবাহী জাহাজের কর্মীদের অবিলম্বে জাহাজ ছেড়ে যেতে বলেছে ইরানি নৌবাহিনী। সতর্ক করে বলা হয়েছে, এসব জাহাজ হামলার লক্ষ্যবস্তু হবে।

বিবৃতিতে কুয়েত ও বাহরাইনের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাদের আশ্রয় দেয়া এবং ইরানি জাহাজে হামলায় তাদের সঙ্গে সহযোগিতা করার অভিযোগও আনা হয়েছে।

ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসও (আইআরজিসি) বলেছে, ‘কুয়েত ও বাহরাইনের বন্দরে থাকা সব তেলবাহী ট্যাংকারের কর্মীদের আমরা সতর্ক করছি—জাহাজ নোঙর করা থাকুক বা বন্দরে থাকুক, অবিলম্বে তা ছেড়ে যান। কারণ এসব জাহাজ হামলার লক্ষ্যবস্তু হবে।’

এক বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, গত দুই দিনে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) একটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজে দুবার হামলার চেষ্টা করেছিল। তবে জাহাজটি ‘সফলভাবে ইরানের হামলা এড়িয়ে যায়’। সেন্টকম বলেছে, ‘কোনো মার্কিন সেনা বা কর্মী আহত হননি।’

এরপর পাল্টা জবাবে ইরানের তেলবাহী জাহাজগুলোতে হামলা চালিয়ে ধ্বংস করার কথা জানিয়েছে সেন্টকম। হামলা চালানো ট্যাংকারগুলো হলো এম/টি কাভিজ, এম/টি চারমিনার, এম/টি হরাইজন-১ ও এম/টি রিয়েস্কো। এগুলো ওমান উপসাগরে ছিল। এছাড়া খার্গ দ্বীপের কাছে এম/টি দেরিয়া নামের আরেকটি ট্যাংকারেও হামলা চালানো হয়।

সেন্টকম আরও জানিয়েছে, হামলার আগে মার্কিন বাহিনী জাহাজগুলোর কর্মীদের সরে যেতে নির্দেশ দিয়েছিল। এরপর ট্যাংকারগুলোতে হামলা চালিয়ে সেগুলো অচল করে দেয়া হয়।

আইআরআইবি খার্গ দ্বীপের কাছে হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। যুদ্ধ শুরুর আগে ইরানের প্রায় ৯০ শতাংশ তেল রপ্তানি এই দ্বীপের মাধ্যমে হতো। আইআরআইবি জানিয়েছে, হামলার পর জাহাজের কর্মীদের সরিয়ে নেয়া হয়েছে। ওমান উপসাগরের দক্ষিণাঞ্চলীয় জাস্ক বন্দরের কাছেও আরেকটি ট্যাংকারে হামলা হয়েছে বলে জানায় তারা।

হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ার মধ্যেই এসব ঘটনা ঘটল। যদিও গত জুনে দুই পক্ষ একটি সমঝোতা স্মারকে সই করেছিল। ওই সমঝোতায় বৃহত্তর শান্তি চুক্তির পথে গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথটি আবার খুলে দেয়ার বিষয়ে একটি সম্ভাব্য সমাধানের কথা বলা হয়েছিল।

এদিকে মঙ্গলবারের (৮ সেপ্টেম্বর) এই সংঘাতের মধ্যে কিছু সময়ের জন্য তেলের দাম বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯৯ দশমিক ৪৬ ডলারে উঠেছিল বলে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
X
City bank
City bank