মঙ্গলবার
২৫ আগস্ট ২০২৬, ১০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
মঙ্গলবার
২৫ আগস্ট ২০২৬, ১০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইসলাম ধর্ম গ্রহণের ৫ মাসেই কোরআন মুখস্ত, কে এই ব্যক্তি?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ : ১৪ আগস্ট ২০২৬, ০৮:১১ এএম
বিনত্রা বুশিমা আমিন। ছবি: সংগৃহীত
expand
বিনত্রা বুশিমা আমিন। ছবি: সংগৃহীত

বুরুন্ডি প্রজাতন্ত্রের নাগরিক বিনত্রা বুশিমা আমিন মাত্র ১৪ বছর বয়সে এক মুসলিম বন্ধুর আমন্ত্রণে ইসলাম সম্পর্কে জানতে শুরু করেছিলেন। ইসলাম ধর্মের মূল্যবোধ, নৈতিকতা ও সৌন্দর্য তাঁর হৃদয়কে গভীরভাবে স্পর্শ করে। এরপর তিনি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। আশ্চর্যের বিষয়, তার ইসলাম গ্রহণের পথ অনুসরণ করে পরিবারের আরও চার সদস্যও ইসলামের ছায়াতলে আসেন।

ইসলাম গ্রহণের পর বিনত্রার জীবনে শুরু হয় পবিত্র কোরআনের সঙ্গে এক গভীর সম্পর্ক। দৃঢ় সংকল্প, অধ্যবসায় ও শেখার অদম্য আগ্রহকে সঙ্গী করে তিনি কোরআন হিফজ শুরু করেন। অবিশ্বাস্যভাবে মাত্র পাঁচ মাসে পুরো পবিত্র কোরআন মুখস্থ করে ফেলেন তিনি। তবে হিফজ শেষ করেই থেমে যাননি; বরং মুখস্থ করা আয়াতগুলো বারবার ঝালাই করে তেলাওয়াতকে আরো নির্ভুল ও সুদৃঢ় করার চষ্টো চালিয়ে যান।

শুধু তাই নয়, তিনি বুরুন্ডি প্রজাতন্ত্রের একটি স্থানীয় কোরআন প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে প্রায় ৫০০ প্রতিযোগীকে পেছনে ফেলে প্রথম স্থান অর্জন করেন। তার এই সাফল্যের ফলেই তিনি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজ দেশের প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পান। এরপর আসে তার জীবনের সবচেয়ে স্মরণীয় অধ্যায়। বুরুন্ডির প্রতিনিধি হিসেবে তিনি অংশ নেওয়ার সুযোগ পান ৪৬তম কিং আব্দুল আজিজ আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতায়। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত কোরআনের হাফেজ ও কারিদের সঙ্গে মক্কার পবিত্র পরিবেশে দাঁড়ানোর সুযোগ পান তিনি।

এবারের প্রতিযোগিতায় ১৩৩টি দেশের ৩৩৪ জন পুরুষ ও নারী প্রতিযোগী পবিত্র কোরআন হিফজ, তেলাওয়াত ও ব্যাখ্যার বিভিন্ন বিভাগে অংশ নিচ্ছেন। তাদের মধ্যে বুরুন্ডির বিনত্রার উপস্থিতি যেন একটি অনন্য অনুপ্রেরণার গল্প।

মাত্র এক বছর আগেও তিনি ছিলেন ইসলামের পথে নতুন একজন মানুষ। আর আজ তিনি মক্কার গ্র্যান্ড মসজিদের নিকটবর্তী পবিত্র পরিবেশে দাঁড়িয়ে হাতে তুলে নিয়েছেন সেই কোরআন যার প্রতি ভালোবাসা তাকে মাত্র পাঁচ মাসে পুরো কোরআন মুখস্থ করার অনুপ্রেরণা দিয়েছিল।

ইতিমধ্যে তিনি এক সাক্ষাতকারে নিজের এই যাত্রার জন্য পবিত্র কোরআন ও কোরআনের সঙ্গে সম্পৃক্ত মানুষদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক এই প্রতিযোগিতার আয়োজন এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশের হাফেজ ও কোরআনপ্রেমীদের মক্কার পবিত্র ভূমিতে একত্র হওয়ার সুযোগ করে দেওয়ার জন্য তিনি সৌদি আরবের নেতৃত্বের প্রতিও কৃতজ্ঞতা ও প্রশংসা জানিয়েছেন।

সূত্র: সৌদি প্রেস এজেন্সি

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন