শুক্রবার
১২ জুন ২০২৬, ২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শুক্রবার
১২ জুন ২০২৬, ২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফিলিস্তিন ইস্যুতে আন্তর্জাতিক বৈঠক আজ

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ১২ জুন ২০২৬, ০৭:২২ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
expand
ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধের মধ্যেও দ্বি-রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের প্রশ্নটি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সক্রিয় রেখেছে ফ্রান্স। এর ধারাবাহিকতায় শুক্রবার (১২ জুন) ইসরায়েলি ও ফিলিস্তিনি নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা ফ্রান্সের প্যারিসে বৈঠকে বসবেন। তবে, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র এই বৈঠকে অংশগ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুক্রবারের বৈঠকে বিভিন্ন দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা অংশ নেবেন। এটি জাতিসংঘ-সমর্থিত নিউ ইয়র্ক ডিকলারেশনের এক বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এই বৈঠকের লক্ষ্য হলো দ্বি-রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধান থেকে সরে না যেতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আহ্বান জানানো।

ওই ঘোষণাপত্রে ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার একটি রূপরেখা তুলে ধরা হয়েছিল। এই ডিকলারেশনের পর ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য ও কানাডাসহ বেশ কয়েকটি দেশ ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।

ফ্রান্সের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বলেন, অবিরাম সংঘাত, বিপুল বেসামরিক হতাহত এবং সহিংসতার চক্রের পাশাপাশি গাজা যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়ন স্থবির হয়ে পড়ায়, এই সম্মেলন এখন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি জরুরি ও গুরুত্বপূর্ণ।

সম্মেলনের শেষে আট দফা ‘কল ফর অ্যাকশন’ প্রকাশ করা হবে। এর মাধ্যমে যেসব বিষয়ে আহ্বান জানানো হবে তা হচ্ছে- ১) স্থায়ী যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠা

২) ইসরায়েলি বসতি স্থাপন সম্প্রসারণ বন্ধ

৩) গাজার পুনর্গঠন

৪) প্রশাসনিক সংস্কার

৫) নাগরিক সমাজের প্রতি আন্তর্জাতিক সমর্থন জোরদার

এই কর্মপরিকল্পনা আগামী সোমবার ফ্রান্সের আল্পস অঞ্চলে অনুষ্ঠিত জি-৭ নেতাদের সম্মেলনে উপস্থাপন করা হবে।

নথিতে বলা হয়েছে, অঞ্চলটি ক্রমাগত বিভক্ত হয়ে পড়ছে। গাজা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। আর ইসরায়েল এখনও হুমকির মুখে রয়েছে। বসতি স্থাপনকারীদের সন্ত্রাস, বসতি সম্প্রসারণ, কার্যত সংযুক্তীকরণ এবং ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে হুমকি ভবিষ্যৎ ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রের সম্ভাবনাকে দুর্বল করে দিচ্ছে।

এতে আরও বলা হয়, ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের উভয় দেশের জনগণই ভয়, অনিরাপত্তা ও মানসিক আঘাতের মধ্যে বন্দি হয়ে আছে। জি-৭ সম্মেলনের সময় এই সংঘাত আবারও উপেক্ষিত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। সমাধানের সুযোগ এখনও আছে কিন্তু তা দ্রুত রুদ্ধ হয়ে আসছে।

অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা বাড়ার মধ্যে এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু-এর সরকারের বিরুদ্ধে পশ্চিমা দেশগুলোর অসন্তোষও বাড়ছে। কূটনীতিকদের মতে, বসতি সম্প্রসারণের লক্ষ্য হলো ভবিষ্যতে একটি স্বাধীন ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনাকে দুর্বল করা।

বিশেষ উদ্বেগের বিষয় হলো জেরুজালেমের পূর্বে ইসরায়েলের পরিকল্পিত ই-১ স্যাটেলমেন্ট প্রজেক্ট। সমালোচকদের মতে, এটি বাস্তবায়িত হলে পশ্চিম তীর দুই ভাগে বিভক্ত হবে এবং পূর্ব জেরুজালেম থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে। এর ফলে ফিলিস্তিনিদের স্বাধীন রাষ্ট্রের দাবি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

এর আগে গত মঙ্গলবার ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, কানাডা এবং নরওয়ে পশ্চিম তীরে সহিংসতায় জড়িত ইসরায়েলি নেটওয়ার্কগুলোর বিরুদ্ধে সমন্বিত নতুন নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করেছে।

এদিকে এক বিবৃতিতে ইসরায়েলি দূতাবাস জানিয়েছে, রাষ্ট্রদূতকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল কিন্তু তিনি সম্মেলনে অংশ নেবেন না। এর কারণ এটি শান্তি প্রতিষ্ঠার সঙ্গে কোনো সম্পর্ক রাখে না।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনিদের মধ্যে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ফ্রান্স কোনো ভূমিকা পালন করতে পারে না। দুই-রাষ্ট্র সমাধানের প্রসঙ্গে রাষ্ট্রদূত পূর্বের ঘটনা স্মরণ করিয়ে দেন। এতে ফিলিস্তিনিরা পাঁচবার পৃথক ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন