

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


বিএনপি সরকারের পতনের বিষয়ে কর্নেল অলি আহমেদের সাম্প্রতিক বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে বিস্ফোরক তথ্য দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান। তার দাবি, অতীতে গোয়েন্দা সংস্থার এজেন্ট হিসেবে পরিচিত মাসুদ করিমের সঙ্গে কর্নেল অলির সম্পর্ক ও লেনদেনের বিষয়টি সামনে এনেছেন তিনি।
সোমবার (৩ আগস্ট) মধ্যরাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে এসব মন্তব্য করেন রাশেদ খান। কর্নেল অলিকে উদ্দেশ করে একাধিক অভিযোগ ও বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন তিনি।
পোস্টে শুরুতেই তিনি উল্লেখ করেন, ‘মিস্টার কর্নেল অলি আহমেদ, আপনি ১ সপ্তাহের মধ্যে বিএনপি সরকারের পতন ঘটানোর হুমকি দেওয়ার প্রেক্ষিতে গোয়েন্দা সংস্থার এজেন্ট জনৈক মাসুদ করিমের সঙ্গে আপনার সখ্যতা ও লেনদেনের বিষয়টি আমি সামনে এনেছি, যে সংবাদ ইতোপূর্বে প্রথম আলোসহ বিভিন্ন পত্রিকায় এসেছিল। আপনার সৎ সাহস থাকলে বলুন যে, আপনার সঙ্গে মাসুদ করিমের কোনো সম্পর্ক ছিল না।’
রাশেদ খানের দাবি, কর্নেল অলি আহমেদ তার সমালোচনা সহ্য করতে না পেরে তার বাবা-মাকে নিয়ে দিয়েছেন ‘ঘৃণ্য বক্তব্য’। তিনি বলেন, ‘এরপর থেকে তিনি আর ন্যূনতম সম্মান পাওয়ার যোগ্যতা রাখেন না। তবুও আমি তাকে সম্মান দিয়েই কথা বলব।’
তিনি আরও মন্তব্য করেন, ‘আপনি আমাকে ‘র’ বা মোসাদের এজেন্ট বলেছেন। কিন্তু এই বাংলাদেশে আমরা যখন আধিপত্যবিরোধী সংগ্রাম করতে গিয়ে মার খেয়েছি, মামলা খেয়েছি, তখন আপনি হাসিনার গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে আপস করে বিরোধী দলের আন্দোলনকে ব্যর্থ করার ফাঁদে পা দিয়েছিলেন। আপনি জামায়াতের হাতে আসন তুলে দেওয়ার জন্য বিএনপি থেকে বেশি আসন চেয়েছিলেন। কিন্তু বিএনপি তদন্ত করে পায়, দুর্বল প্রার্থীদের কাছে এত আসন ছাড়লে সেগুলো জামায়াতের দখলে চলে যাবে।’
পোস্টে তিনি আরও দাবি করেন, ‘আপনি যে জামায়াতের হয়ে খেলছিলেন, সেটির প্রমাণই জামায়াত জোটে আপনার যোগদান। তার মানে বিএনপি সঠিক ছিল।’
নিজের রাজনৈতিক জীবন প্রসঙ্গে রাশেদ খান উল্লেখ করেন, ‘আল্লাহর অশেষ রহমতে একজন শ্রমিকের সন্তান হয়েও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেছি। আমার চৌদ্দ গোষ্ঠীর মধ্যে আমিই একমাত্র গ্র্যাজুয়েট। ২০১৮ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত ফ্যাসিবাদবিরোধী লড়াইয়ে একজন সম্মুখযোদ্ধা হিসেবে ভূমিকা রাখার সর্বাত্মক চেষ্টা করেছি।’
পোস্টের শেষাংশে তিনি মন্তব্য করেন, ‘জামায়াতে গেলে যে মানুষের হিতাহিতজ্ঞান থাকে না, আপনি তার নিকৃষ্ট ও বাস্তব উদাহরণ।’
তবে রাশেদ খানের উত্থাপিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে কর্নেল অলি আহমেদের কোনো বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। এ অভিযোগগুলোর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।