

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তরুণ প্রজন্ম, বিশেষ করে জেন-জি ভোটারদের কাছে পৌঁছাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর যোগাযোগের ধরন বদলাচ্ছেন। দীর্ঘদিন ধরে লিখিত ভাষণ, আনুষ্ঠানিকতা এবং নিয়ন্ত্রিত রাজনৈতিক প্রচারের মাধ্যমে তিনি নিজের একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক ভাবমূর্তি তৈরি করেছেন।
তবে সম্প্রতি তরুণদের জনপ্রিয় ফটো ও ভিডিও শেয়ারিং প্ল্যাটফর্ম ইনস্টাগ্রামে মোদিকে তুলনামূলক সহজ ও স্বচ্ছন্দ ভঙ্গিতে দেখা যাচ্ছে। এক মাস আগেও যেখানে তাঁর টাইমলাইনে পরিকল্পিত ও সতর্কভাবে সাজানো পোস্টই বেশি ছিল, সেখানে এখন যুক্ত হচ্ছে আরও ‘স্বতঃস্ফূর্ত’ কনটেন্ট। এর মধ্যে রয়েছে ‘গেট রেডি উইথ মি’ ধাঁচের রিল, সেলফি ভিডিও এবং তরুণদের ‘বন্ধু’ হিসেবে সম্বোধন করার মতো বিষয়।
ককরোচ জনতা পার্টির সাম্প্রতিক আন্দোলনের পর বিজেপি এ বিষয়ে আরো সক্রিয় হয়েছে। ব্যঙ্গাত্মক ককরোচ জনতা পার্টিকে কেন্দ্র করে মিম, লাইভস্ট্রিম ও ইনস্টাগ্রাম রিলের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া আন্দোলন শেষ পর্যন্ত রাজপথে প্রভাব তৈরি করে এবং এক কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর পদত্যাগের কারণ হয়। এতে তরুণদের অনলাইন রাজনৈতিক সক্রিয়তার শক্তি বিজেপির নজরে আসে।
ভারতের জনসংখ্যার ৬০ শতাংশের বেশি ৩৫ বছরের নিচে। ২০২৯ সালের নির্বাচনে জেন-জি বড় একটি ভোটারগোষ্ঠী হয়ে উঠতে পারে। তাই বিজেপি ইনস্টাগ্রামের মতো প্ল্যাটফর্মে তাদের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করছে। তবে মোদির নতুন ভিডিওগুলো রাজনৈতিক বার্তার চেয়ে হাস্যরস বা ‘ক্রিঞ্জ’ কনটেন্ট হিসেবে ধরে নিচ্ছেন অনেক তরুণ। তার প্রথম সেলফি ভিডিও নিয়েও ব্যাপক ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ হয় এবং সামাজিকমাধ্যম ব্যবহারকারীরা সেই ভিডিও নানা রকম সম্পাদনা করে ছড়িয়ে দেন।
শুধু মোদির অ্যাকাউন্টই নয়। বিজেপির সোশ্যাল মিডিয়া পেজগুলোও তরুণ দর্শকদের কাছে পৌঁছানোর জন্য মিম, স্ল্যাং এবং পপ-কালচারের ‘রেফারেন্স’ ব্যবহার করা শুরু করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, বিজেপির পুরোনো ডিজিটাল কৌশল মূলত হোয়াটসঅ্যাপ, ফেসবুক ও এক্স-এর মতো নেটওয়ার্কভিত্তিক প্ল্যাটফর্মকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছিল। কিন্তু ইনস্টাগ্রাম বেশি গুরুত্ব দেয় দর্শকের প্রতিক্রিয়া, শেয়ার, মন্তব্য, পুনরায় দেখার প্রবণতা ও ভিডিও কতক্ষণ দেখা হচ্ছে—এসবের ওপর। ফলে দলের প্রচলিত বার্তা নিয়ন্ত্রণের কৌশল এখানে সবসময় কার্যকর হচ্ছে না।
তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ইনস্টাগ্রামে জনপ্রিয়তা অর্জন আর নির্বাচনে জয়—দুটি আলাদা বিষয়। বিজেপির শক্তিশালী সাংগঠনিক কাঠামো ও নিজস্ব ভোটব্যাংক এখনও নির্বাচনী সাফল্যের প্রধান ভিত্তি। একইভাবে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীও তরুণদের কাছে পৌঁছাতে সেলফি ভিডিও ও ইনস্টাগ্রামভিত্তিক যোগাযোগ ব্যবহার করছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, নতুন ডিজিটাল পরিবেশের নিয়ম শিখতে বিজেপির সময় লাগবে। দলটি অতীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, পডকাস্ট ও ইনফ্লুয়েন্সার সাক্ষাৎকারের মতো নতুন রাজনৈতিক যোগাযোগের মাধ্যম দ্রুত গ্রহণ করেছে। তাই সময়ের সঙ্গে ইনস্টাগ্রামকেন্দ্রিক রাজনীতিতেও দলটি নিজেদের কৌশল বদলে নিতে পারে।


