বুধবার
২৬ আগস্ট ২০২৬, ১১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বুধবার
২৬ আগস্ট ২০২৬, ১১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ইনস্টাগ্রামে পরিচয়

যুবকের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে ধর্ষণের শিকার কিশোরী

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ০৬ আগস্ট ২০২৬, ০৪:৩৮ পিএম
কিশোরীকে উদ্ধারে অভিযান চালায় পুলিশ। ছবি: সংগৃহীত
expand
কিশোরীকে উদ্ধারে অভিযান চালায় পুলিশ। ছবি: সংগৃহীত

ভারতের মহারাষ্ট্রের নাগপুরে ১৬ বছর বয়সী এক কিশোরীকে অপহরণ করে দুই দিন ধরে আটকে রেখে ধর্ষণ ও নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভির প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, দ্বাদশ শ্রেণির ওই শিক্ষার্থী ইনস্টাগ্রাম, স্ন্যাপচ্যাট ও কয়েকটি অনলাইন গেমিং প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ২০ বছর বয়সী অভিযুক্ত নির্ভয় ওরফে আকাশ মাধব পাখরের সঙ্গে পরিচিত হয়।

গত রোববার, ‘ফ্রেন্ডশিপ ডে’ এর দিন ওই কিশোরী এক বন্ধুর সঙ্গে শপিং মলে যাচ্ছে বলে বাড়ি থেকে বের হয়। পরে সে আর বাড়ি না ফেরায় এবং তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া গেলে পরিবার খোঁজাখুঁজি শুরু করে। পরে জানা যায়, সে কোনো বন্ধুর সঙ্গেই দেখা করেনি। এরপর পরিবার পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করে।

তদন্তে পুলিশ কিশোরীর কল রেকর্ড ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের তথ্য বিশ্লেষণ করে অভিযুক্তকে শনাক্ত করে। জানা যায়, মহারাষ্ট্রের থানের বাসিন্দা আকাশ নাগপুরে ভাড়া বাসায় থেকে বিবিএ পড়াশোনা করছিল। তার মা একজন চিকিৎসক।

পুলিশ অভিযুক্তের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তার মা ছেলেকে ফোন করেন। বিষয়টি বুঝতে পেরে অভিযুক্ত আতঙ্কিত হয়ে কিশোরীকে দিয়ে তার পরিবারের কাছে ফোন করিয়ে জানাতে বাধ্য করে যে, সে নিরাপদে আছে। ওই ফোনকলের মাধ্যমে পুলিশ তাদের অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত হয়।

এর কিছুক্ষণ পর অভিযুক্ত অনলাইনে খাবার অর্ডার করলে পুলিশ ডেলিভারিকর্মীকে সঙ্গে নিয়ে ঠিকানাটি শনাক্ত করে সেখানে অভিযান চালায় এবং কিশোরীকে উদ্ধার করে।

পুলিশ জানায়, ঘরের দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে তারা কিশোরীকে নগ্ন অবস্থায় বিছানার সঙ্গে বাঁধা এবং গুরুতর আহত অবস্থায় দেখতে পায়। তার শরীরে ধারালো অস্ত্রের একাধিক আঘাতের চিহ্ন ছিল এবং একটি কবজিও গুরুতরভাবে কেটে গিয়েছিল। এ সময় অভিযুক্তের হাতে একটি ছুরি ছিল। পরে তাকে ঘটনাস্থল থেকেই গ্রেপ্তার করা হয়।

নাগপুর পুলিশের উপকমিশনার রশ্মিতা রাও বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে আরও কিছুটা দেরি হলে অভিযুক্ত কিশোরীকে হত্যা করা হতে পারত।

তদন্তে আরও জানা গেছে, অভিযুক্ত কিশোরীর আপত্তিকর ছবি তুলে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়েছিল। পাশাপাশি তার পরিবারের সদস্যদের হত্যারও হুমকি দেওয়া হয়েছিল।

এ ঘটনায় শিশুদের যৌন নির্যাতন প্রতিরোধ আইন, ধর্ষণ, অপহরণ ও হত্যাচেষ্টাসহ বিভিন্ন ধারায় মামলা হয়েছে। একই ধরনের অপরাধে অভিযুক্ত অন্য কোনো কিশোরী বা নারীকে নির্যাতন করেছে কি না এবং এ ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

তবে অভিযুক্তের আইনজীবীর দাবি, তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিল এবং কিশোরী স্বেচ্ছায় অভিযুক্তের বাসায় গিয়েছিল। তার দাবি, কিশোরী নিজেই নিজের হাতে আঘাত করেছে এবং অপহরণের অভিযোগ সঠিক নয়।

বর্তমানে অভিযুক্ত পুলিশ হেফাজতে রয়েছে। অন্যদিকে, মানসিক আঘাতের কারণে কিশোরী হাসপাতালে চিকিৎসা ও কাউন্সেলিং নিচ্ছে।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন