

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


রংপুরে অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ একই পরিবারের চার সদস্যকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া দুই আসামির বন্ধু সীমান্ত দাস আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সন্ধ্যায় রংপুর মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতের বিচারক মোহাম্মদ রফিকুল ইসলামের কাছে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় সাক্ষী হিসেবে তিনি এই জবানবন্দি দেন।
মামলার নতুন তদন্ত কর্মকর্তা ও রংপুর মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) পরিদর্শক জিন্নাত আলী এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে সাক্ষী হিসেবে সীমান্তের জবানবন্দি রেকর্ড করার জন্য আদালতের দ্বারস্থ হওয়া হয়। সোমবার তার মা অসুুস্থ থাকায় আদালতে আসতে না পারলেও, মঙ্গলবার বাবার সঙ্গে এসে তিনি সাক্ষ্য দেন।
তদন্ত কর্মকর্তা জিন্নাত আলী বলেন, ‘সীমান্ত আদালতে যে বর্ণনা দিয়েছেন, তা গ্রেপ্তারকৃত দুই আসামি মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থের দেওয়া জবানবন্দির সঙ্গে হুবহু মিলে গেছে। আসামিরা ঘটনার রাতে সীমান্তের বাসায় গিয়ে ইয়াবা সেবন করার যে তথ্য দিয়েছিল, সীমান্তও আদালতে একই কথা স্বীকার করেছেন।’
এর আগে আসামিদের গ্রেপ্তারের পর এক সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ জানিয়েছিল, হত্যাকাণ্ডের রাতে অভিযুক্তরা সীমান্তের বাড়িতে মাদক সেবন করেছিল।
আলোচিত এই হত্যাকাণ্ডে গ্রেপ্তারকৃতদের মাদকাসক্তির বিষয়টি বৈজ্ঞানিকভাবে নিশ্চিত করতে ডোপ টেস্টের উদ্যোগ নিয়েছে পুলিশ। তদন্ত কর্মকর্তা জানান, সোমবার সকালে এ সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় ডকেট পাওয়া গেছে এবং ইতিমধ্যে ডোপ টেস্টের আনুষ্ঠানিক আবেদন করা হয়েছে, যা বুধবার পাঠানো হবে।
হত্যাকাণ্ডকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও স্থানীয় জনমনে ওঠা নানা প্রশ্নের জবাবে পরিদর্শক জিন্নাত আলী আশ্বাস দিয়ে বলেন, ‘এই হত্যাকাণ্ড নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে যেসব প্রশ্ন বা রহস্য তৈরি হয়েছে, একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে তার প্রতিটির উত্তর খুঁজে বের করা হবে। এই মামলায় কঠোরভাবে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করাই আমাদের মূল লক্ষ্য।’
উল্লেখ্য, গত রোববার রংপুর কোতোয়ালি থানায় নিহত গণপতি চক্রবর্তীর বড় ভাই গোপীনাথ চক্রবর্তী বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা করেন। প্রথমে কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মিলন চ্যাটার্জি মামলাটির তদন্ত করলেও সোমবার রাতে মামলাটি মহানগর ডিবিতে হস্তান্তর করা হয় এবং নতুন তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে জিন্নাত আলীকে দায়িত্ব দেওয়া হয়।


