

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া অ্যাকাউন্ট এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) দিয়ে তৈরি ভুয়া পরিচয় শনাক্তকরণ সহজ করতে মেটা একটি নতুন সুবিধা নিয়ে আসছে।
‘ফেসবুক ভেরিফায়েড’ নামের এই সেবার মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে তাদের অ্যাকাউন্টে ভেরিফায়েড ব্যাজ যুক্ত করতে পারবেন। মূলত প্ল্যাটফর্মের নিরাপত্তা বাড়াতে এবং ভুয়া অ্যাকাউন্টের সংখ্যা কমাতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়া:
এই সুবিধাটি পাওয়ার জন্য প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত সহজ ও দ্রুতগতির রাখা হয়েছে। আবেদনকারীকে প্রথমে একটি সংক্ষিপ্ত সেলফি ভিডিও জমা দিতে হবে।
এরপর মেটার স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তি ভিডিওটির সাথে প্রোফাইল ছবি মিলিয়ে তথ্য যাচাই করবে। সব তথ্য সঠিক থাকলে মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যেই অ্যাকাউন্টে ভেরিফায়েড ব্যাজ যুক্ত হয়ে যাবে।
আবেদনের শর্তাবলী:
তবে এই সুবিধাটি সবার জন্য উন্মুক্ত থাকছে না। আবেদনকারীর বয়স অবশ্যই কমপক্ষে ১৮ বছর হতে হবে। এছাড়া, যেসব অ্যাকাউন্টে পূর্বে প্রতারণা, ভুয়া তথ্য ছড়ানো বা কমিউনিটি নীতিমালা লঙ্ঘনের রেকর্ড রয়েছে, সেসব অ্যাকাউন্ট থেকে করা আবেদন গ্রহণ করা হবে না।
ব্যাজের ব্যবহার ও ক্ষেত্র:
প্রথম পর্যায়ে এই ভেরিফায়েড ব্যাজটি ব্যবহারকারীর প্রোফাইল, বিভিন্ন গ্রুপ, মার্কেটপ্লেস এবং ফেসবুক ডেটিং সেবায় দেখা যাবে। পরবর্তীতে সাধারণ ফিডের পোস্টেও এটি যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। একবার পরিচয় যাচাই সম্পন্ন হলে পুরো প্ল্যাটফর্ম জুড়েই এই ভেরিফিকেশন কার্যকর থাকবে।
মেটা ভেরিফায়েড ও নতুন সেবার পার্থক্য:
মেটা স্পষ্ট করেছে যে, এই নতুন সুবিধাটি তাদের বিদ্যমান ‘মেটা ভেরিফায়েড’ সেবার বিকল্প নয়। ‘মেটা ভেরিফায়েড’ হলো একটি অর্থপ্রদানভিত্তিক সাবস্ক্রিপশন সেবা, যেখানে ব্লু ব্যাজের পাশাপাশি বাড়তি গ্রাহক সহায়তা ও নানা ধরনের প্রিমিয়াম সুবিধা পাওয়া যায়।
অন্যদিকে, নতুন এই সম্পূর্ণ ফ্রি সেবাটি কেবল ব্যবহারকারীর আসল পরিচয় নিশ্চিত করার জন্য চালু করা হচ্ছে- এতে অতিরিক্ত কোনো প্রিমিয়াম সুবিধা থাকবে না।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা:
প্রথম ধাপে নির্দিষ্ট কয়েকটি দেশে পরীক্ষামূলকভাবে এই সুবিধাটি চালু করা হবে। পরবর্তীতে পর্যায়ক্রমে বিশ্বজুড়ে তা সম্প্রসারণ করা হবে।
মেটার আশা, এই উদ্যোগের ফলে ফেসবুক আরও বেশি নিরাপদ, স্বচ্ছ ও বিশ্বাসযোগ্য একটি সামাজিক মাধ্যম হিসেবে গড়ে উঠবে।