শনিবার
১১ জুলাই ২০২৬, ২৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শনিবার
১১ জুলাই ২০২৬, ২৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জামিনে বেরিয়েই স্ত্রী ও দুই সন্তানসহ ৬ জনকে নির্মমভাবে হত্যা

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ১১ জুলাই ২০২৬, ০১:৫৭ পিএম আপডেট : ১১ জুলাই ২০২৬, ০২:১৩ পিএম
ছবি: সংগৃহীত।
expand
ছবি: সংগৃহীত।

ভারতের তেলেঙ্গানা রাজ্যের রাঙ্গা রেড্ডি জেলায় লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। জামিনে বেরিয়ে ৩৫ বছর বয়সী এক ব্যক্তি তার স্ত্রী ও দুই সন্তানকে হত্যার পর তার বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ তোলা কিশোরীকেও নির্মমভাবে খুন করেছে।

অভিযুক্ত রাজকুমার শুক্রবার (১০ জুলাই) রাতে শাবাদের নিজ বাড়িতে তার ৩০ বছর বয়সী স্ত্রী পার্বতী সরিতা এবং তাদের ৪ ও ১ বছর বয়সী দুই ছেলেকে হত্যা করে। এরপর সে ১৭ বছর বয়সী সেই কিশোরীর বাড়িতে যায়। গত ১৬ মে তার বিরুদ্ধে পকসো আইনে অভিযোগ দায়ের করেছিল ওই কিশোরী।

রাজকুমার মেয়েটিকে গাড়িতে করে একটি নির্জন স্থানে নিয়ে গিয়ে হত্যা করে। পরে সে মেয়েটির ৪৫ বছর বয়সী মা ও ৬৫ বছর বয়সী নানিকেও খুন করে। ওই বাড়িতে মেয়েটির ২০ বছর বয়সী এক শারীরিক প্রতিবন্ধী বোনও উপস্থিত ছিল, তবে তাকে অক্ষত অবস্থায় পাওয়া গেছে।

হত্যাকাণ্ডের পর রাজকুমার তার বাবাকে ফোন করে খুনের কথা স্বীকার করে। জ্যেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তা তরুণ যোশি ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভিকে জানান, ‘সে তার বাবাকে ফোন করে বলেছিল, আমি এটা করেছি। আমি তাদের হত্যা করেছি। এরপর সে ফোন বন্ধ করে দেয়। সে আত্মহত্যার কথাও বলেছিল, তবে তার কোনও সত্যতা এখনও মেলেনি।’

পুলিশ কর্মকর্তা আরও জানান, ‘অভিযুক্ত বর্তমানে পলাতক। তাকে গ্রেপ্তারের জন্য বিশেষ টিম গঠন করা হয়েছে।’

জানা গেছে, ২০১৮ সালে রাজকুমার ও পার্বতীর বিয়ে হয়। তাদের তিনটি সন্তান ছিল, যার মধ্যে প্রথম কন্যাশিশু শৈশবেই মারা যায়। গত মে মাসে এক কিশোরীকে উত্ত্যক্ত ও যৌন হয়রানির অভিযোগে রাজকুমার গ্রেপ্তার হয়েছিল। যোশি জানান, ‘অভিযুক্ত রাজকুমার মেয়েটিকে কোচিং সেন্টার থেকে বাড়ি ফেরার পথে অনুসরণ করত এবং প্রেমের প্রস্তাব গ্রহণ করতে চাপ দিত।’

পুলিশ জানায়, ওই মামলার পর রাজকুমার পালিয়ে বেড়াচ্ছিল। তবে মামলার ধারাগুলোতে সাত বছরের কম সাজার বিধান থাকায় গত সপ্তাহে আদালত তাকে ২০ হাজার টাকার বন্ডে আগাম জামিন দেয়। ঘটনার পর জ্যেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তা জানান, রাজকুমারের আচরণে সমস্যা ছিল।

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা তাকে কাউন্সেলিংয়ের জন্য দু-তিনবার ডেকেছিলাম। তার পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছে যে তার মানসিক অবস্থা স্থিতিশীল ছিল না। এছাড়া জুয়া খেলার অভ্যাস ছিল এবং তার অনেক ঋণও ছিল।’

নিহতের আত্মীয়রা জানান, বাড়িতে পার্বতীর লাশের পাশে ধস্তাধস্তির চিহ্ন পাওয়া গেলেও দুই শিশুকে সম্ভবত ঘুমের মধ্যেই হত্যা করা হয়েছে। ঘরগুলোর দরজা ভেতর থেকে বন্ধ ছিল এবং ফ্যান, এসি ও কুলার চালু অবস্থায় পাওয়া যায়। পরিবারের সদস্যদের দাবি, ঘটনার আগে তাদের মধ্যে কোনো বড় বিবাদ হয়নি। আগের দিন সন্ধ্যায়ও পার্বতী আত্মীয়দের সঙ্গে স্বাভাবিক কথা বলেছিল।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
X
UPCOMING
Norway VS England
Scheduled
12 Jul, 03:00 AM
VS
World Cup