

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


ভারতের জম্মু ও কাশ্মীরের কিশতওয়ার জেলায় পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলা এবং একটি থানায় ভাঙচুরের অভিযোগে সেনাবাহিনীর এক কর্নেল ও এক মেজরসহ ৪০ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
পুলিশের দায়ের করা এফআইআরে ১৭ রাষ্ট্রীয় রাইফেলসের কমান্ডিং অফিসার কর্নেল এন অরুণ গান্ধী, মেজর বিকাশ শর্মা, নায়েব সুবেদার শঙ্কর গুরখে এবং আরও ৩০ থেকে ৪০ জন অজ্ঞাতনামা সেনাসদস্যকে আসামি করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে কিশতওয়ারের আথোলি থানায় জোরপূর্বক প্রবেশ, কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলা এবং সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়েছে, হামলায় আহতদের মধ্যে আথোলির ডেপুটি সুপারিনটেনডেন্ট অব পুলিশ (ডিএসপি) বিজয় কুমার ভগত এবং থানার স্টেশন হাউস অফিসার (এসএইচও) অমৃত কাটোচ রয়েছেন।
এসএইচও অমৃত কাটোচের করা এফআইআর অনুযায়ী, ঘটনার সময় তিনি পাড্ডার এলাকার ব্লক ডেভেলপমেন্ট অফিসে আয়োজিত একটি সরকারি অনুষ্ঠানে অংশ নিচ্ছিলেন। অনুষ্ঠানে কিশতওয়ারের জেলা কমিশনার সভাপতিত্ব করছিলেন। সেই সময় সেনাসদস্যরা আথোলি থানায় প্রবেশ করে হামলা ও ভাঙচুর চালায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এদিকে ভারতীয় সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা ঘটনার তদন্তে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করবে। প্রতিরক্ষা বিভাগের এক মুখপাত্র বলেন, তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়ায় সেনাবাহিনী পূর্ণ সহায়তা দেবে। যৌথ তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে তদন্ত চলমান থাকায় এ মুহূর্তে বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করা হবে না বলেও জানান তিনি।
থানার ভেতরে সহিংস ঘটনার খবর পাওয়ার পর তিনি দ্রুত থানায় ফিরে আসেন বলে এফআইআরে উল্লেখ করা হয়েছে।
এফআইআরে আরও বলা হয়েছে, ‘অভিযোগকারী কর্মকর্তা থানার প্রাঙ্গণে প্রবেশ করার সঙ্গে সঙ্গেই মেজর বিকাশ শর্মার নেতৃত্বাধীন সেনাসদস্যরা তার ওপর শারীরিক হামলা চালায়। ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে সেনা সদস্যরা তার ইউনিফর্মের শার্ট ছিঁড়ে ফেলে এবং এসডিপিও আথোলি শ্রী বিজয় কুমার ভগতের ওপরও হামলা করে।’
পুলিশের অভিযোগ, হামলাটি পূর্বপরিকল্পিত ছিল এবং এতে বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।
এফআইআর অনুযায়ী, সেনাসদস্যরা লাঠি, লোহার রড এবং সরকারি অস্ত্রে সজ্জিত অবস্থায় থানার প্রধান ফটক ও সীমানা প্রাচীর টপকে জোরপূর্বক ভেতরে প্রবেশ করে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানা যায়, কিশতওয়ারের সহকারী আঞ্চলিক পরিবহন কর্মকর্তা (এআরটিও) সেনাবাহিনীর একটি যানবাহন জব্দ করার পরই সেনাসদস্যরা থানায় হামলা চালায়।
এফআইআরে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘হামলাকারীরা সরকারি ও জনসম্পত্তির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি সাধন করে। তারা এআরটিওর সরকারি গাড়ি, আথোলি থানার এসএইচওর গাড়ি এবং এসডিপিও আথোলির গাড়ি ভাঙচুর করে। এছাড়া থানার প্রধান ফটকও ভেঙে ফেলে।’
পুলিশের দাবি, হামলাটি পূর্বপরিকল্পিত ছিল। অভিযুক্ত সেনাসদস্যদের উদ্দেশ্য ছিল দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের ‘হত্যা করা’।
