সোমবার
০৩ আগস্ট ২০২৬, ১৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সোমবার
০৩ আগস্ট ২০২৬, ১৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাংলাদেশ সীমান্ত ঘিরে ভারতের নতুন তৎপরতা

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ১৬ জুন ২০২৬, ১১:৪২ এএম
এনপিবি কোলাজ
expand
এনপিবি কোলাজ

বাংলাদেশ ও পাকিস্তান সীমান্তবর্তী অঞ্চলে জনসংখ্যাগত পরিবর্তন নিয়ে নতুন করে পর্যালোচনায় নেমেছে ভারত সরকার। বিষয়টি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সাম্প্রতিক মন্তব্যের পর উচ্চপর্যায়ের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে, যা সীমান্ত এলাকা ছাড়াও বড় শহরগুলোর জনসংখ্যা প্রবণতা বিশ্লেষণ করবে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে জানায়, সীমান্তবর্তী জেলা ও মেগাসিটিগুলোতে জনসংখ্যার পরিবর্তন, অভিবাসন প্রবণতা এবং এর সম্ভাব্য সামাজিক ও নিরাপত্তাগত প্রভাব নিয়ে বিস্তারিত গবেষণা চালাবে এই কমিটি। গত বছরের ১৫ আগস্ট লালকেল্লা থেকে দেওয়া ভাষণে মোদি কিছু অঞ্চলে ‘অস্বাভাবিক জনসংখ্যাগত পরিবর্তন’ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। এরপর থেকেই বিষয়টি সরকারের নীতিগত আলোচনায় গুরুত্ব পায়।

ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বিষয়টি শুধু জনসংখ্যার পরিসংখ্যান নয়; বরং জাতীয় নিরাপত্তা, সামাজিক ভারসাম্য এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার সঙ্গেও সম্পর্কিত। এ প্রেক্ষাপটে বিচারপতি প্রকাশ প্রভাকর নাওলেকারের নেতৃত্বে গত ২৬ মে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়।

এই কমিটি ভারত–বাংলাদেশ ও ভারত–পাকিস্তান সীমান্তবর্তী অঞ্চলসহ বিভিন্ন শহর ও শিল্পকেন্দ্রের জনসংখ্যাগত পরিবর্তন বিশ্লেষণ করবে। এক বছরের মধ্যে তাদের প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে।

সরকারি সূত্রের মতে, ইতোমধ্যে কমিটি প্রাথমিক বৈঠক করেছে এবং কাজের রূপরেখা নির্ধারণ করেছে। আগামী মাসগুলোতে তারা বিভিন্ন সীমান্ত জেলা ও নগর এলাকায় সরেজমিন পরিদর্শন করবে। স্থানীয় প্রশাসন, নিরাপত্তা সংস্থা, জনপ্রতিনিধি ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গেও মতবিনিময় করা হবে।

পর্যালোচনার অংশ হিসেবে জনগণনা তথ্য, ভোটার তালিকা, অভিবাসন সংক্রান্ত নথি এবং অন্যান্য সরকারি উপাত্ত বিশ্লেষণ করা হবে। পাশাপাশি সীমান্ত এলাকায় জনসংখ্যা পরিবর্তনের কারণ, সম্ভাব্য অবৈধ অনুপ্রবেশ এবং শহরাঞ্চলে অভিবাসনের চাপও খতিয়ে দেখা হবে।

এ কমিটির আওতায় শুধু সীমান্ত অঞ্চল নয়, দিল্লি, মুম্বাই, বেঙ্গালুরু, হায়দরাবাদসহ বড় শহরগুলোকেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যেখানে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক অভিবাসনের প্রবণতা বেশি।

ভারতীয় কর্মকর্তাদের মতে, দ্রুত নগরায়ণ ও জনসংখ্যার পরিবর্তন কর্মসংস্থান, অবকাঠামো, জনসেবা এবং আইনশৃঙ্খলার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। তাই এসব প্রবণতা বোঝা ভবিষ্যৎ নীতিনির্ধারণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, জনসংখ্যাগত পরিবর্তনের প্রকৃতি ও কারণ চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় সুপারিশ প্রণয়নই হবে এই কমিটির মূল লক্ষ্য, যাতে প্রশাসনিক ও নিরাপত্তাগত পরিকল্পনা আরও কার্যকর করা যায়।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন