সোমবার
২৪ আগস্ট ২০২৬, ৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সোমবার
২৪ আগস্ট ২০২৬, ৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তাজিয়া মিছিলে ১৫ হাজার মানুষকে হত্যার পরিকল্পনা, ‘মাস্টারমাইন্ড’ গ্রেপ্তার 

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ২৮ জুন ২০২৬, ১০:২৭ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
expand
ছবি: সংগৃহীত

ভারতের মুম্বাইয়ে মহররমের একটি তাজিয়া মিছিলে ভয়াবহ হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনার অভিযোগে ফাইয়াজ প্রেমজি নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশের দাবি, অভিযুক্ত ১৫ হাজার মানুষকে হত্যার ইচ্ছার কথা স্বীকার করেছেন।

রোববার (২৮ জুন) এনডিটিভির প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, অভিযুক্তের লক্ষ্য ছিল বিপুলসংখ্যক মানুষের মধ্যে বিষাক্ত ক্যাপসুল ছড়িয়ে দিয়ে ব্যাপক প্রাণহানি ঘটানো। তবে তিনি একাই কাজ করেছেন নাকি কোনো বড় নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তা এখনো জানা যায়নি।

স্থানীয় পুলিশ জানায়, অভিযুক্ত অনলাইন থেকে প্রায় ৫০ কেজি জিঙ্ক ফসফাইড এবং ৩০ হাজার খালি ক্যাপসুল সংগ্রহ করেন। পরে তিনি ক্যাপসুলগুলোতে বিষ ভরে মহররমের মিছিলে ‘ভিটামিন’ বা ‘রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধির ওষুধ’ বলে সেগুলো বিতরণের পরিকল্পনা করেন।

তদন্ত সূত্রে জানা গেছে, কয়েকজন স্বেচ্ছাসেবীকে প্রকৃত বিষয়টি না জানিয়ে ক্যাপসুল বিতরণে ব্যবহার করা হয়। ইতোমধ্যে অন্তত ১১ জন ওই ক্যাপসুল সেবনের পর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। চিকিৎসার পর তারা বর্তমানে শঙ্কামুক্ত বলে জানিয়েছে পুলিশ।

ফাইয়াজ প্রেমজিকে ২৭ জুন মুম্বাইয়ের রহমতাবাদ কবরস্থান এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি পুনের বিমান নগরের বাসিন্দা এবং পেশায় একজন রংয়ের ব্যবসায়ী। তদন্তে জানা গেছে, তার মা ইরানে ও বোন ইরাকে বসবাস করেন। গত এক বছরে তিনি ওই দুই দেশে ১৯ বার সফর করেছেন।

পুলিশ তার আর্থিক লেনদেন, মোবাইল ফোন, ডিজিটাল যোগাযোগ এবং বিদেশি সংযোগ খতিয়ে দেখছে। তদন্তকারীরা খুঁজে দেখছেন, এই ঘটনার পেছনে কোনো জঙ্গি সংগঠন বা বিদেশি সহযোগিতা ছিল কি না।

তদন্তে আরও জানা গেছে, অভিযুক্ত ফাইয়াজ মুম্বাইয়ের ডোংরি এলাকায় একটি রুম ভাড়া নিয়ে প্রায় ১৫ দিন ধরে বিষাক্ত ক্যাপসুল তৈরির কাজ চালিয়ে যান। সেখান থেকে প্রায় ১৫ হাজার ক্যাপসুল এবং উল্লেখযোগ্য পরিমাণ জিঙ্ক ফসফাইড জব্দ করা হয়েছে।

জিঙ্ক ফসফাইড মূলত ইঁদুর মারার বিষ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এটি মানবদেহে প্রবেশ করলে পাকস্থলীর অ্যাসিডের সঙ্গে বিক্রিয়া করে বিষাক্ত ফসফিন গ্যাস তৈরি করে, যা দ্রুত শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গপ্রত্যঙ্গে মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে। গুরুতর ক্ষেত্রে এটি প্রাণঘাতীও হতে পারে।

ঘটনায় হত্যাচেষ্টাসহ বিষ প্রয়োগসংক্রান্ত বিভিন্ন ধারায় মামলা হয়েছে। মুম্বাই পুলিশ, অ্যান্টি-টেররিজম স্কোয়াড (এটিএস) এবং কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলো যৌথভাবে তদন্ত চালাচ্ছে। জব্দ করা ক্যাপসুল পরীক্ষার জন্য ফরেনসিক পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়েছে।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন