

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে জায়গা করে নেওয়ার পর এবার মুখোমুখি হচ্ছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল ও এশিয়ার অন্যতম শক্তিশালী দল জাপান। যুক্তরাষ্ট্রের হিউস্টন স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই হাইভোল্টেজ ম্যাচে জয়ী দল শেষ ষোলোতে নরওয়ে অথবা আইভরি কোস্টের মুখোমুখি হবে।
পরিসংখ্যান বলছে, ম্যাচের আগে ব্রাজিলই এগিয়ে। অপ্টা সুপার কম্পিউটারের ২৫ হাজার সিমুলেশনে দেখা গেছে, নির্ধারিত ৯০ মিনিটে ব্রাজিলের জয়ের সম্ভাবনা ৫৭.৭ শতাংশ। অন্যদিকে জাপানের জয়ের সম্ভাবনা ১৮ শতাংশ, আর ম্যাচ অতিরিক্ত সময়ে গড়ানোর সম্ভাবনা ২৪.৩ শতাংশ।
ছন্দে ফিরছে ব্রাজিল গ্রুপ 'সি' চ্যাম্পিয়ন হয়ে নকআউটে উঠেছে কার্লো আনচেলত্তির দল। প্রথম ম্যাচে মরক্কোর সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করার পর হাইতি ও স্কটল্যান্ডকে টানা ৩-০ ব্যবধানে হারিয়ে আত্মবিশ্বাস নিয়ে শেষ ষোলোতে পা রেখেছে সেলেসাওরা। প্রথম ম্যাচে পিছিয়ে পড়ার পর থেকে টানা সাত গোল করেছে ব্রাজিল, হজম করেনি একটিও। ২০০২ সালের বিশ্বকাপের পর এবারই প্রথম এত দীর্ঘ গোলের ধারাবাহিকতা গড়ল তারা।
ইনজুরি কাটিয়ে প্রায় ৯৮১ দিন পর জাতীয় দলের জার্সিতে ফিরেছেন নেইমার। এই ম্যাচে খেলেই তিনি ব্রাজিলের হয়ে চারটি বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া মাত্র চতুর্থ ফুটবলার হওয়ার কীর্তি গড়েছেন। তবে গ্রুপ পর্বে ধারাবাহিক সফলতা থাকলেও সাম্প্রতিক নকআউট ইতিহাস ব্রাজিলের পক্ষে খুব সুখকর নয়। শেষ ছয়টি নকআউট ম্যাচের চারটিতেই বিদায় নিতে হয়েছে তাদের। যদিও ১৯৯০ সালের পর থেকে প্রথম নকআউট ম্যাচে আর কখনও বিদায় নেয়নি সেলেসাও।
ইতিহাস বদলাতে চায় জাপান বিশ্বকাপের ইতিহাসে এখনো নকআউট পর্বে কোনো ম্যাচ জিততে পারেনি জাপান। এবারও কঠিন পরীক্ষার মুখে হাজিমে মোরিয়াসুর দল। গ্রুপ 'এফ'-এ নেদারল্যান্ডস ও সুইডেনের সঙ্গে ড্র এবং তিউনিসিয়াকে ৪-০ গোলে হারিয়ে দ্বিতীয় হয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করে জাপান।
দলের অধিনায়ক ওয়াতারু এন্দো ও তারকা উইঙ্গার কাওরু মিতোমা ইনজুরিতে ছিটকে গেলেও জাপান টানা ১০ ম্যাচ অপরাজিত। এই সময়ে তারা একটি প্রীতি ম্যাচে ব্রাজিলকেও হারিয়েছিল।
স্ট্রাইকার আয়াসে উয়েদা ইতোমধ্যে তিন গোল করে জাপানের হয়ে এক বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোল-অবদানের যৌথ রেকর্ড গড়েছেন। এবারের বিশ্বকাপে জাপানের ১০ জন ভিন্ন খেলোয়াড় গোল কিংবা অ্যাসিস্ট করেছেন, যা তাদের নতুন জাতীয় রেকর্ড।
তারকাদের লড়াই ব্রাজিলের আক্রমণভাগ দারুণ ছন্দে রয়েছে। মাথেউস কুনিয়া চারটি অন-টার্গেট শট থেকে তিন গোল করেছেন। অন্যদিকে ভিনিসিয়ুস জুনিয়র গ্রুপ পর্বে চার গোল করে রোনালদো (২০০২), নেইমার (২০১৪) ও জাইরজিনহোর (১৯৭০) কীর্তির পাশে নিজের নাম লিখিয়েছেন। রাফিনিয়ার অনুপস্থিতিতে মাত্র ১৯ বছর বয়সী রায়ান স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে অ্যাসিস্ট করে ১৯৬৬ সালের পর বিশ্বকাপে ব্রাজিলের সর্বকনিষ্ঠ অ্যাসিস্টদাতা হয়েছেন।
মুখোমুখি পরিসংখ্যান দুই দলের ১৪টি দেখায় ব্রাজিল জিতেছে ১১টি, ড্র হয়েছে দুটি এবং জাপানের জয় মাত্র একটি। তবে সেই একমাত্র জয়ই এসেছে সর্বশেষ সাক্ষাতে। গত অক্টোবরে টোকিওতে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকেও ৩-২ গোলে হেরে যায় ব্রাজিল। সেই ম্যাচে জাপানের জয়সূচক গোলটি করেছিলেন আয়াসে উয়েদা। বিশ্বকাপে দুই দলের একমাত্র সাক্ষাতে ২০০৬ সালে ব্রাজিল ৪-১ ব্যবধানে জয় পেয়েছিল।

