বৃহস্পতিবার
২৭ আগস্ট ২০২৬, ১২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বৃহস্পতিবার
২৭ আগস্ট ২০২৬, ১২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সাগরে চীনের নতুন সামরিক স্থাপনা, দেখা গেল স্যাটেলাইট চিত্রে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ : ২৬ আগস্ট ২০২৬, ০৭:০৯ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
expand
ছবি: সংগৃহীত

দক্ষিণ চীন সাগরের প্যারাসেল দ্বীপপুঞ্জের অ্যান্টিলোপ রিফের কাছে একটি ছোট দ্বীপে নতুন স্থাপনা নির্মাণের চিত্র পাওয়া গেছে। স্যাটেলাইটের ছবি বিশ্লেষণ করে নিরাপত্তা বিশ্লেষকেরা ধারণা করছেন, চীন সেখানে একটি আগাম সতর্কীকরণ রাডার ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারে।

স্যাটেলাইট ছবিতে প্যারাসেল দ্বীপপুঞ্জের ক্রিসেন্ট গ্রুপের ইয়াগং দ্বীপে তিন শাখাবিশিষ্ট একটি নতুন নির্মাণকাজ দেখা গেছে। স্থাপনাগুলোর প্রকৃত উদ্দেশ্য এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে বিশ্লেষকদের মতে, এগুলো অ্যান্টিলোপ রিফে নির্মাণাধীন সামরিক অবকাঠামোকে সহায়তা করার জন্য আগাম সতর্কীকরণ রাডার ব্যবস্থা হতে পারে।

স্যাটেলাইট ছবি সরবরাহকারী বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ভ্যান্টর জানিয়েছে, সর্বশেষ ছবিটি গত ১৭ আগস্ট তোলা হয়। তাদের অন্যান্য ছবিতে দেখা গেছে, ইয়াগংয়ে নির্মাণকাজ শুরু হয় চলতি বছরের মার্চ ও এপ্রিলে।

ভ্যান্টরের এক মুখপাত্র বলেন, ইয়াগং রিফের কয়েকটি স্থাপনার সঙ্গে দক্ষিণ চীন সাগরের অন্যান্য এলাকায় দেখা সামরিক রাডার ও আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থার স্থাপনার মিল রয়েছে। এগুলো কাছাকাছি অ্যান্টিলোপ রিফে শেষ পর্যন্ত যে সামরিক স্থাপনা গড়ে উঠবে, তার সঙ্গে সম্পর্কিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এর আগে গত সপ্তাহে রয়টার্স জানিয়েছিল, অ্যান্টিলোপ রিফে চীন নির্মাণকাজের প্রথম ধাপ শেষ করেছে। স্যাটেলাইট ছবিতে সেখানে প্রায় ৬ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি কৃত্রিম দ্বীপ দেখা গেছে। এর প্রায় ৩ কিলোমিটার দীর্ঘ সোজা উপকূলরেখা রয়েছে, যেটিকে কয়েকজন বিশ্লেষক সম্ভাব্য রানওয়ে হিসেবে দেখছেন।

অ্যান্টিলোপ রিফের মাত্র ১৪ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে ইয়াগং দ্বীপের অবস্থান। দুটিই প্যারাসেল দ্বীপপুঞ্জের পশ্চিমাঞ্চলের ক্রিসেন্ট গ্রুপে অবস্থিত।

নতুন স্থাপনা নিয়ে রয়টার্সের প্রশ্নের জবাব দেয়নি চীনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। চীন সেখানে নতুন সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের কথা স্বীকার করেনি। দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের দাবি, অ্যান্টিলোপ রিফে আবহাওয়ার পূর্বাভাস, মৎস্যসম্পদ সুরক্ষা ও বৈজ্ঞানিক গবেষণার মতো বেসামরিক কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।

১৯৭৪ সালে তৎকালীন দক্ষিণ ভিয়েতনামের নৌবাহিনীর কাছ থেকে প্যারাসেল দ্বীপপুঞ্জ দখল করে চীন। পুরো দ্বীপপুঞ্জের মালিকানা দাবি করে ভিয়েতনাম। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে প্যারাসেলের আরও দক্ষিণে অবস্থিত স্প্র্যাটলি দ্বীপপুঞ্জে নিজেদের সামরিক ঘাঁটির নেটওয়ার্কও সম্প্রসারণ করছে ভিয়েতনাম।

দক্ষিণ চীন সাগরের স্প্র্যাটলি দ্বীপপুঞ্জ ও আশপাশের জলসীমার ওপর ভিয়েতনাম, ফিলিপাইন, মালয়েশিয়া, তাইওয়ান ও ব্রুনাইও আংশিক বা পুরোপুরি দাবি করে আসছে।

আঞ্চলিক নিরাপত্তা বিশ্লেষক ও সামরিক কর্মকর্তাদের মতে, নতুন এসব স্থাপনা দক্ষিণ চীন সাগরের উত্তরাঞ্চলে চীনের সামরিক নিয়ন্ত্রণ আরও শক্তিশালী করার উদ্যোগের অংশ হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।

প্যারাসেল দ্বীপপুঞ্জে চীনের কর্মকাণ্ড পর্যবেক্ষণকারী ওপেন সোর্স গোয়েন্দা বিশ্লেষক ড্যামিয়েন সাইমন বলেন, সেখানে রাডার স্থাপনা নির্মাণের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এখনই এর উদ্দেশ্য সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো খুব তাড়াতাড়ি হয়ে যাবে।

সিঙ্গাপুরভিত্তিক নিরাপত্তা গবেষক কলিন কোহ বলেন, স্থাপনাটি ছোট আকারের হওয়ায় এটি স্বতন্ত্র কোনো পর্যবেক্ষণকেন্দ্রও হতে পারে। তবে তাঁর অনুমান, এটি সম্ভবত একটি রাডার স্টেশন।

দক্ষিণ চীন সাগরকে ঘিরে চীন ও যুক্তরাষ্ট্র এবং তাদের মিত্রদের মধ্যে সামরিক প্রতিযোগিতা ক্রমেই বাড়ছে। বিশ্লেষকদের মতে, ভবিষ্যতে তাইওয়ানকে কেন্দ্র করে কোনো সংঘাত সৃষ্টি হলে এই গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যপথের সামরিক অবকাঠামো বড় ভূমিকা রাখতে পারে।

সূত্র: রয়টার্স

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন