শনিবার
০৮ আগস্ট ২০২৬, ২৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শনিবার
০৮ আগস্ট ২০২৬, ২৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তিন মুসলিম দেশের প্রতিরক্ষা জোট, হামলার জবাব দেবে একসঙ্গে 

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ : ০৮ আগস্ট ২০২৬, ০৪:৩০ এএম
ছবি: সংগৃহীত
expand
ছবি: সংগৃহীত

সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান একটি যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে সই করেছে। এতে বলা হয়েছে, তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর হামলাকে বাকি দুই দেশের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে।

স্থানীয় সময় শুক্রবার (০৭ আগস্ট) সৌদি আরবের মক্কা নগরীতে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের বৈঠকের পর এই চুক্তির ঘোষণা দেওয়া হয়।

এই চুক্তির ঘোষণার পর ইরানের পক্ষ থেকে তীব্র প্রতিক্রিয়া এসেছে। দেশটির পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা কমিশনের সদস্য ইব্রাহিম রেজাই বলেছেন, এই চুক্তি সৌদি আরবকে নিরাপত্তা দিতে পারবে না।

নিজের এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্টে তিনি লিখেছেন, ‘সৌদিদের জানা উচিত, তুরস্ক ও পাকিস্তানের সঙ্গে একটি কাগুজে চুক্তি তাদের নিরাপত্তা দেবে না। যেমন যুক্তরাষ্ট্রের ওপর বছরের পর বছর একতরফা নির্ভরশীলতাও তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারেনি।’

সৌদি আরব ও পাকিস্তান এর আগে গত বছর একটি যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির ঘোষণা দিয়েছিল। নতুন মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির মাধ্যমে বিশ্বের প্রভাবশালী তিন মুসলিম দেশ পারস্পরিক প্রতিরক্ষা নিশ্চয়তার আওতায় একত্র হলো।

যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই চুক্তির লক্ষ্য হলো ‘যেকোনো আগ্রাসনের বিরুদ্ধে সম্মিলিত প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী করা’।

এতে উল্লেখ করা হয়েছে, তিন দেশের যেকোনো একটির বিরুদ্ধে সশস্ত্র হামলাকে তিন দেশের বিরুদ্ধেই হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এই চুক্তির মাধ্যমে তিন দেশের মধ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতার সব ক্ষেত্র আরও জোরদার করা হবে।

তবে চুক্তিতে পারস্পরিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি থাকলেও কোন পরিস্থিতিতে কোন দেশ কী ধরনের পদক্ষেপ নেবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু বলা হয়নি। বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে এক তুর্কি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, চুক্তিটি ‘সম্পূর্ণভাবে প্রতিরক্ষামূলক প্রকৃতির’।

উল্লেখ্য, সৌদি আরবের জন্য এই চুক্তি এমন এক সময়ে বাড়তি নিরাপত্তার সুযোগ তৈরি করছে, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের সংঘাতের কারণে মধ্যপ্রাচ্যের প্রচলিত নিরাপত্তা কাঠামো বড় ধরনের পরিবর্তনের মুখে পড়েছে।

অন্যদিকে পাকিস্তানের জন্য এই চুক্তির সুবিধা কিছুটা ভিন্ন। ২০২৫ সালের মে মাসে ভারতের সঙ্গে দীর্ঘদিনের উত্তেজনা সরাসরি সংঘাতে রূপ নেয়। যদিও পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ এড়ানো সম্ভব হয়েছিল, তবে সৌদি আরবের অর্থনৈতিক শক্তি এবং তুরস্কের সামরিক ও প্রতিরক্ষা শিল্পের সক্ষমতা পাকিস্তানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

তুরস্কের জন্য এই চুক্তির লাভ ভিন্ন ধরনের। লন্ডনভিত্তিক রয়্যাল ইউনাইটেড সার্ভিসেস ইনস্টিটিউটের (রুসি) বিশ্লেষক বুরকু ওজচেলিকের মতে, এই চুক্তি তুরস্কের প্রতিরক্ষা শিল্পের জন্য ‘যৌথ উৎপাদন, প্রযুক্তি অংশীদারত্ব, সামরিক সরঞ্জাম ক্রয় এবং সামরিক সক্ষমতার সমন্বয়’ বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি করবে।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন