

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক সংঘাতের পর প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়াতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই)। এ প্রেক্ষাপটে ভারতের সঙ্গে ব্রহ্মস সুপারসনিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ও উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কেনার বিষয়ে আলোচনা চলছে বলে জানিয়েছে একাধিক সূত্র।
যদিও আলোচনা এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে, তবে তা দ্রুত এগোচ্ছে বলে দাবি করা হচ্ছে। চুক্তি বাস্তবায়িত হলে মধ্যপ্রাচ্যে ভারতের প্রতিরক্ষা রপ্তানির ক্ষেত্রে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হবে।
বার্তাসংস্থা রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, ভারতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ব্রহ্মস ক্ষেপণাস্ত্র বিক্রির বিষয়ে ইউএইর সঙ্গে আলোচনা চলছে। ভারতের চারটি সূত্র এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। সাম্প্রতিক যুদ্ধ পরিস্থিতির পর উপসাগরীয় দেশগুলো নিজেদের প্রতিরক্ষা শক্তি বাড়াতে উদ্যোগী হওয়ায় এই আলোচনা শুরু হয়েছে।
এর পাশাপাশি ভারতের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ‘আকাশ’ নিয়েও আলোচনা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট দুটি সূত্র। এক সূত্র রয়টার্সকে বলেন, ‘ব্রহ্মস ও আকাশতীরসহ একাধিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় ইউএই আগ্রহ দেখিয়েছে। আলোচনা এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে থাকলেও এটি দ্রুত এগোচ্ছে।’
তবে ভারত ও ইউএই—দুই দেশের সরকারি পক্ষ থেকেই এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
ভারত–রাশিয়া যৌথভাবে তৈরি ব্রহ্মস বিশ্বের অন্যতম দ্রুতগতির ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র, যা স্থল, সমুদ্র ও আকাশ—তিনটি প্ল্যাটফর্ম থেকেই উৎক্ষেপণ করা যায়। অন্যদিকে আকাশতীর হলো ভারতের তৈরি একটি আধুনিক স্বয়ংক্রিয় আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, যা রাডার ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার সমন্বয়ে কাজ করে।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সংঘাতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ঝুঁকি বৃদ্ধি পাওয়ায় ইউএই তাদের প্রতিরক্ষা কাঠামো আরও শক্তিশালী করতে চাইছে। বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রপ্তানি পথ হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও তাদের কৌশলগত অগ্রাধিকার।
এর আগে দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাড়াতে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করে ইউএই।
সংঘাত পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা এসিএলইডির দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক বিশ্লেষক পার্ল পাণ্ডিয়া বলেন, একাধিক উৎস থেকে অস্ত্র সংগ্রহ করলে ইউএইর কৌশলগত স্বাধীনতা বাড়বে। তাঁর মতে, ভারত ও ইউএইর প্রতিরক্ষা সহযোগিতা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বড় কোনো উদ্বেগের কারণ হবে না, কারণ দুই দেশই ওয়াশিংটনের ঘনিষ্ঠ অংশীদার।
স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউট (সিপরি) জানায়, ২০২১ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে অস্ত্র রপ্তানিতে যুক্তরাষ্ট্র ছিল শীর্ষে—মোট আমদানির ৫৪ শতাংশ, এরপর ইতালি ও ফ্রান্স।
তবে ব্রহ্মস রপ্তানির ক্ষেত্রে রাশিয়ার অনুমোদন প্রয়োজন হবে, কারণ এটি যৌথভাবে তৈরি একটি অস্ত্র ব্যবস্থা। যদিও বিশ্লেষকদের মতে, মস্কো ও আবুধাবির ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কারণে বড় কোনো বাধা হওয়ার সম্ভাবনা কম।
ভারত ও ইউএইর মধ্যে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাণিজ্য, জ্বালানি ও প্রতিরক্ষা প্রযুক্তিতে সহযোগিতা দ্রুত বেড়েছে। নতুন এই আলোচনা সেই সম্পর্ককে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিতে পারে।
ভারতীয় সরকারি সূত্রের মতে, সৌদি আরব–পাকিস্তান প্রতিরক্ষা সহযোগিতার পরিপ্রেক্ষিতে ইউএইর সঙ্গে সম্পর্ক আরও জোরদার করা এখন ভারতের জন্য কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
