

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


আধুনিক ফুটবলে গতি, দৌড় আর শারীরিক সক্ষমতাকে সাফল্যের অন্যতম চাবিকাঠি ধরা হয়। তবে এই ধারণার সবচেয়ে বড় ব্যতিক্রম লিওনেল মেসি। ২০২৬ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার অধিনায়ক অন্যদের তুলনায় কম দৌড়াচ্ছেন, বেশি হাঁটছেন। তবুও গোল, সুযোগ সৃষ্টি ও ম্যাচে প্রভাব বিস্তারের দিক থেকে তিনি আছেন সবার ওপরে। এবার নিজের কম দৌড়ানোর কারণও ব্যাখ্যা করেছেন এই মহাতারকা।
ফিফার পারফরম্যান্স পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম এএস জানিয়েছে, বিশ্বকাপে পাঁচ ম্যাচে মেসি মোট ৩৫ দশমিক ৮৭ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করেছেন। প্রতি ৯০ মিনিটে তার গড় দূরত্ব ৬ দশমিক ৮৮ কিলোমিটার। এর মধ্যে প্রায় ৪ দশমিক ৪১ কিলোমিটারই তিনি হেঁটেছেন।
তার গড় জগিং দূরত্ব ১ দশমিক ৪৮ কিলোমিটার। দ্রুতগতিতে দৌড়েছেন প্রায় ৬৩১ মিটার এবং প্রতি ম্যাচে গড়ে স্প্রিন্ট করেছেন ২৩ বার। একজন আউটফিল্ড খেলোয়াড়ের জন্য এ পরিসংখ্যান তুলনামূলক কম হলেও বল পায়ে নিলেই বদলে যায় পুরো চিত্র।
পাঁচ ম্যাচে আট গোল করে গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে কিলিয়ান এমবাপের সঙ্গে যৌথভাবে শীর্ষে রয়েছেন মেসি। বিশ্বকাপে তার মোট গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে রেকর্ড ২১টিতে। চলতি আসরে বক্সের বাইরে ও সরাসরি ফ্রি-কিক থেকে সবচেয়ে বেশি গোলও এসেছে তার পা থেকে।
কম দৌড়ানোর কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে মিশরের বিপক্ষে জয়ের পর মেসি বলেন, ‘সতীর্থরা আমার জন্য বাড়তি ত্যাগ স্বীকার করে। আমি যখন কম দৌড়াই, তখন তারা নিজেদের সর্বোচ্চটা দিয়ে ঘাটতি পূরণ করার চেষ্টা করে।’
আর্জেন্টিনার খেলার কৌশলেও বিষয়টি স্পষ্ট। প্রতিপক্ষের দখলে বল থাকলে মেসিকে নিয়মিত প্রেসিংয়ে যেতে হয় না। সেই দায়িত্ব পালন করেন তার সতীর্থরা। এ সময় মেসি হেঁটে হেঁটেই প্রতিপক্ষের অবস্থান, ফাঁকা জায়গা ও আক্রমণের সম্ভাব্য পথ পর্যবেক্ষণ করেন। সুযোগ তৈরি হলেই একটি ছোট দৌড়, নিখুঁত একটি পাস কিংবা দুর্দান্ত এক শটে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন।
অর্থাৎ, মেসির কম দৌড়ানো অলসতার লক্ষণ নয়; বরং এটি তার দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত কৌশল। প্রয়োজনের মুহূর্তের জন্য শক্তি সঞ্চয় করেই তিনি প্রতিপক্ষকে চমকে দেন। আর সেই কৌশলই ৩৯ বছর বয়সেও তাকে বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে কার্যকর খেলোয়াড়দের একজন করে রেখেছে।
