

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


বিয়ের আসরে বরকে অতিরিক্ত মদ্যপ অবস্থায় দেখে মুহূর্তেই বিয়ে ভেঙে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন ২২ বছর বয়সী মুসকান প্রধান। ভারতের ছত্তিশগড়ের জাঞ্জগির-চম্পা জেলায় ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় তার সাহসী অবস্থান ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে। পরে জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) বিজয় কুমার পান্ডে তাকে বিশেষভাবে সম্মাননা জানান।
মুসকান জানান, তিনি দশম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেছেন এবং ভবিষ্যতে আরও লেখাপড়া চালিয়ে যেতে চান। ২৪ বছর বয়সী সন্তরামের সঙ্গে তার বিয়ে হওয়ার কথা ছিল। নির্ধারিত দিনে বরযাত্রীরা অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছানোর পর বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। তবে বরকে দেখে সবাই অবাক হয়ে যান, কারণ তিনি এতটাই মদ্যপ ছিলেন যে ঠিকভাবে দাঁড়াতেও পারছিলেন না।
পরিবারের সদস্যরা জানান, এটি প্রথম ঘটনা নয়। এর আগে বাগদান অনুষ্ঠানের দিনও সন্তরাম মদ্যপ অবস্থায় উপস্থিত হয়েছিলেন। তখন মুসকান বিষয়টি নিয়ে আপত্তি জানালে বর ভবিষ্যতে মদ্যপান না করার প্রতিশ্রুতি দেন।
কিন্তু বিয়ের দিনও একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হওয়ায় কোনো আপস না করে বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানান মুসকান। তার এই সিদ্ধান্তকে সাহসী ও সচেতন পদক্ষেপ হিসেবে মূল্যায়ন করেছেন স্থানীয় প্রশাসন। এ কারণেই তাকে জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে ডেকে সম্মাননা দেওয়া হয়।
মুসকানের এই সিদ্ধান্তের পর দুই পরিবারের সদস্য ও অতিথিদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং একপর্যায়ে মারামারি বেধে যায়। খবর পেয়ে চম্পা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (এসএইচও) অশোক বৈষ্ণবের নেতৃত্বে পুলিশ দল এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বরযাত্রী হয়ে আসা কিছু যুবকের সঙ্গে কনেপক্ষের এই সংঘর্ষে কয়েকজন সামান্য আহত হলে তাদের হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে কনেপক্ষের বিয়ের খরচ বাবদ বরপক্ষ প্রায় ৩ লাখ রুপি ক্ষতিপূরণ দিতে রাজি হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
বৃহস্পতিবার সমাজকর্মী ও নারী প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে এসপি বিজয় পান্ডে মুসকানকে সম্মানিত করে বলেন, এ ঘটনা মদ্যপানের বিরুদ্ধে একটি জোরালো বার্তা দেয় এবং বিয়েতে সম্মান ও দায়িত্বশীলতার গুরুত্ব তুলে ধরে। স্থানীয় বাসিন্দারাও মুসকানের এই সিদ্ধান্তকে একটি বড় অনুপ্রেরণা হিসেবে দেখছেন।
সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে
