

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমোদনের অপেক্ষায় থাকায় টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিককে গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিশ জারির আবেদন প্রক্রিয়া এখনও চূড়ান্ত করতে পারেনি দুদক।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মামলার চার্জশিট ও প্রয়োজনীয় নথিপত্র ইংরেজিতে অনুবাদ এবং নোটারি সম্পন্ন হলেও আনুষ্ঠানিকভাবে আবেদনটি ইন্টারপোলে পাঠানোর প্রক্রিয়া শেষ করতে পারেনি দুদক। ফলে বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে রয়েছে।
অথচ, প্রায় ৪ মাস আগে গত ২৬ ফেব্রুয়ারি টিউলিপের বিরুদ্ধে রেড নোটিশ জারির নির্দেশ দিয়েছিলেন ঢাকা মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ মো. সাব্বির ফয়েজের আদালত। এর আগে ফ্ল্যাট জালিয়াতির মামলায় দুদকের সহকারী পরিচালক এ কে এম মর্তুজা আলী সাগর আদালতে এই আবেদন করেছিলেন।
ওই সময় আদালতে করা দুদকের আবেদনে বলা হয়- টিউলিপ তাঁর খালা তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে রাজউকের আইন কর্মকর্তাকে প্রভাবিত করেন। অবৈধ সুবিধা দেওয়া-নেওয়ার মাধ্যমে তিনি বিনা মূল্যে রাজধানীর গুলশানে ইস্টার্ন হাউজিং লিমিটেডের একটি ফ্ল্যাটের দখল বুঝে নেন। এ ঘটনায় মামলা করা হয়, কিন্তু মামলা দায়েরের আগেই তিনি দেশত্যাগ করেন। টিউলিপ মামলা প্রমাণে সহায়ক প্রমাণসহ আলামত বিনষ্ট করার চেষ্টা করছেন। এ কারণে তাঁকে গ্রেফতার করা প্রয়োজন। আর বিদেশে থাকায় তাকে গ্রেফতারের জন্য ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিশ জারি করা প্রয়োজন।
দুদকের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, টিউলিপের বিরুদ্ধে রেড নোটিশ জারি আবেদনের ব্যবস্থা গ্রহণে বিচারকের আদেশ পাওয়ার পরপরই আদালতের কাগজপত্র দুদকের কাছে দেয়া হয়েছে।
দুদক সূত্র জানিয়েছে, কমিশন না থাকার কারণে দুদকের গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম আটকে রয়েছে। জুলাই অভ্যুত্থানের পর দুর্নীতি মামলায় বিচারের মুখোমুখি করতে শেখ হাসিনা পরিবারসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলে রেড নোটিশ জারির আবেদন করা হয়েছে। যা করা হয়েছে দুদকের কমিশন থাকা অবস্থায়। কিন্তু গত ৩ মার্চ দুদক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবদুল মোমেন ও দুই কমিশনার মিঞা মুহাম্মদ আলি আকবার আজিজী ও ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) হাফিজ আহ্সান ফরিদ পদত্যাগ করেন। এরপর থেকেই মামলা দায়ের, তদন্ত প্রতিবেদন অনুমোদন, আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল, সম্পত্তি জব্দ বা বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞার আবেদনসহ থমকে আছে দুদকের গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম।
এদিকে দুদকের আরেকটি সূত্র জানিয়েছে, আদালতের আদেশ পাওয়ার পর তদন্তকারী কর্মকর্তা সকল কার্যক্রম সম্পন্ন করেছেন। কিন্তু টিউলিপ একজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি এবং ঘটনাটিও স্যান্সেটিভ, এজন্য যেকোনো ভুল এড়াতে বর্তমানে রেড নোটিশ জারির আবেদনের ফাইলটি দুদকের আইন শাখার যাচাই-বাছাইয়ের (ভেটিং) রয়েছে। যেহেতু এখন কমিশন নেই, তাই হয়তো আবেদনের ক্ষেত্রে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসছে না। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সম্মতি পেলেই ফাইল পুলিশ সদর দপ্তরে পাঠানো হবে।
দুদকের উপ-পরিচালক (জনসংযোগ) মো: আকতারুল ইসলাম জানিয়েছেন, টিউলিপ সিদ্দিককে গ্রেফতারে ইন্টারপোলের রেড নোটিশ জারির আবেদনের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, 'দুদকের কাছে রেড নোটিশ পাঠানোর মতো পর্যাপ্ত তথ্য না থাকতে পারে৷ আরেকটি কারণ হতে পারে রাজনৈতিক ভাবে হয়ত মীমাংসা করার চেষ্টা চলছে হয়তো।'
উল্লেখ্য যে, অভ্যুত্থানের পর ১০ জনকে দুর্নীতির মামলায় দেশে ফেরাতে ইন্টারপোলে রেড নোটিশের আবেদন করেছে দুদক। তারা হলেন- ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় এবং মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুল, সাবেক আইজিপি বেনাজীর আহমেদ, লন্ডনে অঢেল সম্পদ গড়ে তোলা সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান জাবেদ, তার স্ত্রী রুকমিলা জামান, এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান সাইফুল আলম, তার স্ত্রী ও দুই ভাইয়ের নামেও রেড নোটিশ জারির আবেদন করেছে সংস্থাটি। এদের মধ্যে সম্প্রতি সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে বেনাজীর আহমেদকে ইন্টারপোল গ্রেফতার করেছে, যার পর থেকে ফের আলোচনায় এসেছে বিদেশে পলাতক হেভিওয়েট আসামিদের বিরুদ্ধে রেড নোটিশ আবেদন ইস্যু।
