

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি)-এর এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে জানা গেছে, রাশিয়ায় বেসামরিক চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে বাংলাদেশি অভিবাসী শ্রমিকদের ইউক্রেন যুদ্ধে অংশ নিতে বাধ্য করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে ভুক্তভোগী মাকসুদুর রহমানের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরা হয়। তিনি জানান, বাংলাদেশে এক শ্রম দালালের প্রস্তাবে সাড়া দিয়ে তিনি রাশিয়ায় যান। সেখানে তাঁকে পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কাজ দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। তবে মস্কো পৌঁছানোর কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই তাঁকে ইউক্রেন যুদ্ধের সম্মুখসারিতে পাঠানো হয়।
এপি এমন তিনজন বাংলাদেশির সঙ্গে কথা বলেছে, যাঁরা রুশ সেনাবাহিনী থেকে পালিয়ে আসতে সক্ষম হয়েছেন। তাঁদের ভাষ্য অনুযায়ী, রাশিয়ায় পৌঁছানোর পর তাঁদের রুশ ভাষায় লেখা কিছু নথিতে সই করতে বাধ্য করা হয়, যা পরে সামরিক চুক্তি বলে জানা যায়। এরপর তাঁদের একটি প্রশিক্ষণ শিবিরে নিয়ে গিয়ে ড্রোন যুদ্ধ, আহতদের সরিয়ে নেওয়া এবং ভারী অস্ত্র ব্যবহারের প্রাথমিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।
মাকসুদুর রহমান এ বিষয়ে আপত্তি জানালে এক রুশ কমান্ডার অনুবাদ অ্যাপের মাধ্যমে তাঁকে বলেন, ‘তোমার এজেন্ট তোমাকে এখানে পাঠিয়েছে। আমরা তোমাকে কিনেছি।’
ভুক্তভোগীরা জানান, তাঁদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ সামনের সারির কাজে নিয়োজিত করা হয়। এসব কাজের মধ্যে ছিল রুশ বাহিনীর আগে অগ্রসর হওয়া, রসদ বহন, আহত সেনাদের সরিয়ে নেওয়া এবং নিহতদের মরদেহ উদ্ধার। এদিকে আরও তিনজন নিখোঁজ বাংলাদেশির পরিবারের সদস্যরাও দাবি করেছেন, নিখোঁজ হওয়ার আগে তাঁদের স্বজনেরা একই ধরনের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছিলেন।
তিনি বলেন, কাজ করতে অস্বীকার করলে তাঁদের ১০ বছরের কারাদণ্ডের হুমকি দেওয়া হতো এবং মারধর করা হতো। তিনি বলেন, ‘ওরা বলত, “কাজ করছ না কেন? কাঁদছ কেন?” এই বলে লাথি মারত।’ সাত মাস পর পালিয়ে দেশে ফিরতে সক্ষম হন তিনি।
এপি যে নথিপত্র পর্যালোচনা করেছে, তার মধ্যে রয়েছে ভ্রমণসংক্রান্ত কাগজপত্র, রুশ সামরিক চুক্তি, চিকিৎসা ও পুলিশি প্রতিবেদন এবং যুদ্ধের সময় পাওয়া আঘাতের ছবি। এসব নথি ইউক্রেন যুদ্ধে তাঁদের অংশগ্রহণের প্রমাণ দেয়।
কতজন বাংলাদেশি এভাবে প্রতারণার শিকার হয়েছেন, তা স্পষ্ট নয়। তবে ভুক্তভোগীরা এপিকে বলেছেন, ইউক্রেনে রুশ বাহিনীর সঙ্গে শত শত বাংলাদেশিকে তাঁরা দেখেছেন।
এ বিষয়ে রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়, রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ সরকার—কেউই এপির প্রশ্নের জবাব দেয়নি।
কর্মকর্তা ও মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন, একই ধরনের কৌশলে রাশিয়া ভারত, নেপালসহ দক্ষিণ এশিয়া ও আফ্রিকার বিভিন্ন দেশের নাগরিকদেরও টার্গেট করেছে। এতে যুদ্ধক্ষেত্রে ঝুঁকিপূর্ণভাবে অভিবাসী শ্রমিকদের শোষণের বিষয়টি নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
মন্তব্য করুন

