

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


বিশ্বকাপের ফাইনালের পরে মারামারিতে জড়িয়ে এবং ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনালে ফকল্যান্ড সংবলিত পতাকা প্রদর্শনের জেরে আর্জেন্টিনার কয়েকজন ফুটবলারের ওপর নিষেধাজ্ঞামূলক শাস্তি দিয়েছে ফিফা। আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ)-কে দেয়া ফিফার নিষেধাজ্ঞাকে ‘অতিরঞ্জিত’ বলে মনে করছে আর্জেন্টিনা। বিশেষ করে লিয়ান্দ্রো পারেদেস ও নাহুয়েল মোলিনার নিষেধাজ্ঞা কমানোর লক্ষ্যে আপিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ফেডারেশন।
এএফএর আইনবিষয়ক ব্যবস্থাপক আন্দ্রেস পাতোন উরিচ জানিয়েছেন, ছয়টি শাস্তিমূলক মামলার রায় তারা হাতে পেয়েছেন। তাঁর মতে, বিশ্বকাপ ফাইনাল ঘিরে আয়ালা, পারেদেস, মোলিনা ও আলমাদার বিরুদ্ধে দেওয়া ব্যক্তিগত শাস্তির মধ্যে কয়েকটির মাত্রা ঘটনার তুলনায় বেশি কঠোর হয়েছে।
রায়ের বিস্তারিত কারণ জানার পর আনুষ্ঠানিকভাবে আপিল করবে এএফএ। বিশেষ করে দীর্ঘমেয়াদি নিষেধাজ্ঞাগুলো কমানোর যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে বলে মনে করছেন ফেডারেশনের আইনজীবীরা।
টিওয়াইসি স্পোর্টসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে উরিচ বলেন, থিয়াগো আলমাদার শাস্তির বিরুদ্ধে আপিল করার সুযোগ নেই। তবে পারেদেস ও মোলিনার নিষেধাজ্ঞাকে তিনি স্পষ্টভাবেই অতিরিক্ত মনে করেন। আয়ালার শাস্তির ক্ষেত্রেও একই ধরনের আপত্তি রয়েছে তাদের।
নিজেদের যুক্তির পক্ষে অতীতের কয়েকটি ঘটনাকে নজির হিসেবে সামনে আনছে এএফএ। ২০১৪ বিশ্বকাপে প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়কে কামড়ানোর ঘটনায় উরুগুয়ের লুইস সুয়ারেজকে ৯ ম্যাচ নিষিদ্ধ করেছিল ফিফা। অন্যদিকে এক ইউরোপীয় খেলোয়াড়ের নাজি প্রতীক প্রদর্শনের ঘটনায় ১০ ম্যাচের নিষেধাজ্ঞার উদাহরণও টেনেছেন উরিচ।
তার যুক্তি, তুলনামূলকভাবে গুরুতর এসব ঘটনার সঙ্গে বর্তমান শাস্তির মাত্রা বিবেচনা করলে পারেদেস ও মোলিনার নিষেধাজ্ঞা পুনর্বিবেচনা করা উচিত।
আপিলে ২০১৮ সালের লিওনেল মেসির ঘটনাটিও নজির হিসেবে ব্যবহার করতে চায় আর্জেন্টিনা। বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে সহকারী রেফারিকে অপমান করার অভিযোগে মেসিকে চার ম্যাচ নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। পরে আপিলের মাধ্যমে সেই নিষেধাজ্ঞা পুরোপুরি বাতিল হয়। এএফএর মতে, এই উদাহরণ দেখায় যে আপিল প্রক্রিয়ায় শাস্তি কমানো বা বাতিল করা সম্ভব।
এখন নির্দিষ্ট আইনি প্রক্রিয়ায় এগোবে এএফএ। প্রথমে রায়ের পূর্ণাঙ্গ কারণ জানতে ১০ দিনের মধ্যে আবেদন করা হবে। কারণ পাওয়ার পর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ আপিল দাখিল করা হবে। সেখানে ভিডিও ফুটেজসহ প্রয়োজনীয় প্রমাণও উপস্থাপন করবে আর্জেন্টিনা।
এরপর বিষয়টি যাবে ফিফার আপিল কমিশনে। তারা শাস্তি বহাল রাখতে পারে, কমাতে পারে কিংবা সিদ্ধান্তে পরিবর্তন আনতে পারে। আপিল কমিশনেও যদি এএফএর আবেদন নাকচ হয়, তখন কোর্ট অব আরবিট্রেশন ফর স্পোর্টস (সিএএস)-এ যাওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করবে আর্জেন্টিনা।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ও নিশ্চিত করেছেন উরিচ। ফিফার নিষেধাজ্ঞাগুলো কার্যকর হবে শুধু অফিশিয়াল প্রতিযোগিতার ম্যাচে; প্রীতি ম্যাচে নয়। তাই পারেদেস ও মোলিনার মতো খেলোয়াড়দের শাস্তির মেয়াদ কমানোই এখন এএফএর প্রধান আইনি লক্ষ্য।


