শুক্রবার
০৭ আগস্ট ২০২৬, ২৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শুক্রবার
০৭ আগস্ট ২০২৬, ২৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আশ্রয় থেকে নাগরিকত্ব, বদলে গেল দুই ফুটবলারের জীবন

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ : ০৭ আগস্ট ২০২৬, ০৮:০৫ এএম
ছবি : সংগৃহীত।
expand
ছবি : সংগৃহীত।

ইরানে ফিরে গেলে নিরাপত্তাহীনতার আশঙ্কায় অস্ট্রেলিয়ায় আশ্রয় নিয়েছিলেন দুই ইরানি নারী ফুটবলার ফাতেমেহ পাসানদিদেহ ও আতেফেহ রামেজানিসাদেহ। দীর্ঘ অনিশ্চয়তার পর তারা পেয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার নাগরিকত্ব। নতুন এই পরিচয়কে জীবনের অন্যতম আবেগঘন অধ্যায় হিসেবে বর্ণনা করেছেন দুজনই।

ব্রিসবেনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক হন ফাতেমেহ পাসানদিদেহ ও আতেফেহ রামেজানিসাদেহ। বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) প্রকাশিত এক যৌথ বিবৃতিতে তারা জানান, অনুষ্ঠানে অস্ট্রেলিয়ার অভিবাসনমন্ত্রী টনি বার্ক তাদের হাতে নাগরিকত্বের সনদ তুলে দেন। এ সময় স্থানীয় ইরানি সম্প্রদায়ের সদস্য, বন্ধু ও শুভাকাঙ্ক্ষীরাও উপস্থিত ছিলেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছে বিবিসি।

নাগরিকত্ব পাওয়ার অনুভূতি জানাতে গিয়ে আতেফেহ রামেজানিসাদেহ বলেন, এটি তার জীবনের সবচেয়ে স্মরণীয় দিনগুলোর একটি। অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক হতে পেরে তিনি গর্বিত ও কৃতজ্ঞ। তাঁর ভাষায়, দেশটি তাঁকে নিরাপত্তার পাশাপাশি নতুনভাবে জীবন গড়ে তোলার সুযোগ দিয়েছে। তবে নিজের জন্মভূমি ইরান, সেখানকার স্মৃতি ও শিকড় সব সময় তার পরিচয়ের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে থাকবে।

একই ধরনের অনুভূতি প্রকাশ করেছেন ফাতেমেহ পাসানদিদেহও। তিনি বলেন, নানা প্রতিকূলতা ও অনিশ্চয়তার পথ পেরিয়ে পাওয়া এই স্বীকৃতি ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। এটি তার জীবনের সবচেয়ে আনন্দের মুহূর্তগুলোর একটি।

তবে দুই ফুটবলারের নাগরিকত্ব পাওয়ার প্রক্রিয়া তুলনামূলক দ্রুত সম্পন্ন হওয়ায় অস্ট্রেলিয়ায় বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। সংবাদমাধ্যমের প্রশ্নের জবাবে দেশটির অভিবাসন মন্ত্রণালয় ব্যক্তিগত গোপনীয়তার কারণ দেখিয়ে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।

অস্ট্রেলিয়ার শরণার্থী কাউন্সিলের তথ্য অনুযায়ী, সাধারণত শরণার্থীরা বৈধ ভিসায় চার বছর বসবাসের পর নাগরিকত্বের আবেদন করার সুযোগ পান। তবে বিশেষ পরিস্থিতিতে এই সময়সীমা কমানোর সুযোগও দেশটির আইনে রয়েছে। এ কারণে অনেকের ধারণা, ভবিষ্যতে অস্ট্রেলিয়ার হয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবলে প্রতিনিধিত্বের সুযোগ করে দিতেই তাঁদের নাগরিকত্বের প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করা হয়েছে।

এর আগে ইরান নারী দলের এশিয়ান কাপ অভিযান শেষ হওয়ার পর ফাতেমেহ ও আতেফেহ অস্ট্রেলিয়ার নারী ফুটবল লিগের ক্লাব ব্রিসবেন রোরে যোগ দেন এবং সেখানেই আশ্রয়ের আবেদন করেন। শুরুতে সাতজন ইরানি ফুটবলার আশ্রয় চাইলেও পরে তাঁদের মধ্যে পাঁচজন দেশে ফিরে যান। শেষ পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়ায় থেকে যান এই দুই ফুটবলার।

ইরানে ফেরার বিষয়ে তাদের উদ্বেগ আরও বাড়ে টুর্নামেন্ট চলাকালে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনার পর। প্রথম ম্যাচের আগে কয়েকজন খেলোয়াড় জাতীয় সংগীত গাইতে অস্বীকৃতি জানান। পরে ইরানের এক টেলিভিশন ভাষ্যকার তাদের ‘যুদ্ধকালীন বিশ্বাসঘাতক’ বলে মন্তব্য করলে বিষয়টি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। সে সময় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও সামাজিক মাধ্যমে তাদের আশ্রয়ের পক্ষে মত দেন এবং বিষয়টি নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজের সঙ্গেও কথা বলেন বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে উল্লেখ করা হয়।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন