শুক্রবার
০৭ আগস্ট ২০২৬, ২৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শুক্রবার
০৭ আগস্ট ২০২৬, ২৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যে ৩ ব্যাংকে যাবে ফ্যামিলি কার্ডের টাকা, বিতরণ কবে

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ০৭ আগস্ট ২০২৬, ০৯:৪১ এএম
ফাইল ছবি
expand
ফাইল ছবি

আগামী ১৬ আগস্ট ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। চলতি অর্থবছরে মোট ৪১ লাখ পরিবারকে এ কার্ড দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

তবে এই কার্ড আগামী অক্টোবর থেকে পর্যায়ক্রমে দেওয়া হবে। আর উপকারভোগীরা টাকা পাবেন সরকারি তিন ব্যাংকের মাধ্যমে।

সচিবালয়ে বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ফ্যামিলি কার্ড-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির পঞ্চম বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত হয়।

বৈঠকে সমাজকল্যাণমন্ত্রী এ জেড এম জাহিদ হোসেন, অর্থসচিব খায়েরুজ্জামান মজুমদার, সমাজকল্যাণসচিব মোহাম্মদ আবু ইউসুফ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে ‘ফ্যামিলি কার্ড' কর্মসূচির পরীক্ষামূলক কর্মসূচির সর্বশেষ অগ্রগতি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা উপস্থাপন করে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়। এতে কর্মসূচিটির নানা দিক উঠে আসে। বৈঠকে উপস্থাপন করা হয়েছে যে পরীক্ষামূলক কর্মসূচিতে সরকারি চাকরি, পেনশনভোগী, উচ্চমূল্যের সঞ্চয়পত্রের গ্রাহক বা গাড়ির মালিকসহ বিভিন্ন কারণে ৫ হাজার ৯৩৪টি পরিবারকে অযোগ্য হিসেবে বাদ দেওয়া হয়েছে।

বৈঠক সূত্র জানায়, রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ব্যাংক, জনতা ব্যাংক ও বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের (বিকেবি) মাধ্যমে প্রতি মাসে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে দেওয়া হবে। ৪৯৮ উপজেলার উপকারভোগীদের ভাতা দেওয়ার জন্য যুক্ত থাকবে তিন ব্যাংকের ৩ হাজার ৭২টি শাখা।

এ বিষয়ে সমাজকল্যাণমন্ত্রী সাংবাদিকদের জানান, ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচিতে যাতে কোনো উপযুক্ত ব্যক্তি বাদ না পড়েন এবং অযোগ্য কেউ অন্তর্ভুক্ত না হন, সে জন্য তথ্য নিয়মিত হালনাগাদ ও পর্যালোচনার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, কেউ দরিদ্র থেকে নিম্নবিত্ত, নিম্নবিত্ত থেকে মধ্যবিত্ত হতে পারেন। আবার মধ্যবিত্ত থেকেও কেউ দরিদ্র হয়ে যেতে পারেন। এ কারণে মানুষের আর্থসামাজিক অবস্থার পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে তথ্য নিয়মিত সংশোধন করা হবে।

তিনি আরও জানান, ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের ত্রুটি-বিচ্যুতি বা অনিয়ম যেন না ঘটে, সে জন্য ইউনিয়ন পর্যায়ে নিবিড় যাচাই-বাছাই করা হবে। স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মাধ্যমে উপকারভোগীদের তথ্য যাচাই করা হবে। প্রয়োজনে অভিযোগ পাওয়ার পর পুনরায় তদন্তের ব্যবস্থাও রাখা হবে।

চার বছরের মধ্যে প্রায় ১ কোটি ৬১ লাখ পরিবারকে এই কর্মসূচির আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, এর বেশিও হতে পারে। চূড়ান্ত সংখ্যা নির্ভর করবে তথ্য সংগ্ৰহ ও মূল্যায়নের ফলাফলের ওপর। কর্মসূচির নীতিমালা, প্রশ্নপত্র, কারা সুবিধা পাবেন বা পাবেন না, সব তথ্য অনলাইনে উন্মুক্ত রয়েছে।

বৈঠক সূত্র জানায়, আগামী ১৪ সেপ্টেম্বরের মধ্যে দেশের ৪ কোটি ৪৫ লাখ পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করা হবে। এ জন্য নতুন সফটওয়্যার ও মোবাইল অ্যাপ প্রস্তুত করা হয়েছে এবং পরীক্ষামূলক ব্যবহারও শুরু হয়েছে। তথ্য সংগ্রহ শেষ হওয়ার পর ১০ অক্টোবর থেকে পর্যায়ক্রমে ৪১ লাখ পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আনা হবে।

২০৩০ সালের মধ্যে ১ কোটি ৬১ লাখ পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আনবে সরকার, তা আগেই জানিয়েছে সরকার। এ তথ্য উল্লেখ করে সমাজকল্যাণমন্ত্রী বলেন, সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির সুবিধা একটি সমন্বিত ডিজিটাল ব্যবস্থায় পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।

নির্বাচনী ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী গত ২০২৫-২৬ অর্থবছর থেকেই পরীক্ষামূলক ভিত্তিতে ফ্যামিলি কার্ড প্রকল্পের বাস্তবায়ন শুরু হয়। মোট পাঁচ বছরে ফ্যামিলি কার্ড দিতে ১ লাখ ৩৪ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হবে বলে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগকে জানিয়েছে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়।

এর মধ্যে চলতি অর্থবছরে ৪১ লাখ উপকারভোগীর জন্য ১৩ হাজার ৭৪০ কোটি, ২০২৭-২৮ অর্থবছরে ৮১ লাখ উপকারভোগীর জন্য ২৬ হাজার ৭৩০ কোটি, ২০২৮- ২৯ অর্থবছরে ১ কোটি ২১ লাখ উপকারভোগীর জন্য ৩৯ হাজার ৯৩০ কোটি এবং ২০২৯-৩০ অর্থবছরে ১ কোটি ৬১ লাখ উপকারভোগীর জন্য ৫৩ হাজার ১৩০ কোটি টাকা লাগবে।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন