

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


উন্নত জীবনের হাতছানি এবং একটি সুন্দর ভবিষ্যতের স্বপ্ন মানুষের জীবনকে কতটা ঝুঁকিপূর্ণ পথে ঠেলে দিতে পারে, তার আরও এক মর্মান্তিক উদাহরণ তৈরি হলো। স্পেনে পাড়ি জমিয়ে নতুন জীবন শুরু করার অদম্য আকাঙ্ক্ষায় সাগরপথ পাড়ি দেওয়ার চেষ্টা করতে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন মরক্কোর প্রতিভাবান নারী ফুটবলার ফাতেন বেন আমার এল আজিজি। ২০ বছর বয়সী এই তরুণীর আকস্মিক ও করুণ মৃত্যুতে কেবল তার পরিবার বা ক্লাব নয়, স্তব্ধ হয়ে গেছে পুরো মরক্কোর ক্রীড়াঙ্গন, , বিশেষ করে নারী ফুটবলে।
মরক্কোর ক্রীড়াবিষয়ক ওয়েবসাইট ‘আল বতোলা’র তথ্য অনুযায়ী, গতকাল শনিবার স্পেনের স্বায়ত্তশাসিত শহর সেউতায় পৌঁছানোর জন্য সাগরপথে অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রমের চেষ্টা করছিলেন ফাতেন। কিন্তু উত্তাল সাগর আর প্রবল স্রোতের সঙ্গে পেরে ওঠেননি তিনি। ঢেউয়ের তোড়ে ভেসে গিয়ে শেষ পর্যন্ত জলেই চিরতরে হারিয়ে যান এই প্রতিশ্রুতিশীল অ্যাথলেট।
মরক্কো ও স্পেনের সীমান্তবর্তী সেউতা অঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরেই এক তীব্র অভিবাসন সংকট চলছে। উন্নত জীবনের আশায় প্রতিদিন শত শত তরুণ-তরুণী জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এভাবেই ভূমধ্যসাগর পাড়ি দেওয়ার মরিয়া চেষ্টা চালান। ফাতেনের এই করুণ পরিণতি সেই অবৈধ ও বিপজ্জনক যাত্রারই এক রক্তাক্ত অধ্যায়। ক্লাব মাগরেব অ্যাথলেটিক তেতোয়ানের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয়েছে, ফাতেন কোনো রোমাঞ্চ বা খ্যাতির লোভে এই পথে নামেননি; তার একমাত্র উদ্দেশ্য ছিল ওপারে একটি নিরাপদ ও সচ্ছল ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করা।
ফাতেনের এই অকালপ্রয়াণে গভীর শোক প্রকাশ করেছে মরক্কোর পেশাদার ফুটবলার ইউনিয়নসহ বিভিন্ন ক্রীড়া সংগঠন। এক শোকবার্তায় তারা ফাতেনের পরিবার, সতীর্থ ও তেতোয়ান ক্লাবের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে এই অপূরণীয় ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার শক্তি কামনা করেছে। অনেকে তার বিনয়ী স্বভাব, পেশাদার মনোভাব ও খেলোয়াড়সুলভ মানসিকতার কথা স্মরণ করেছেন।
ফাতেন বেন আমার এল আজিজির মৃত্যু কেবল একজন সম্ভাবনাময় ফুটবলারের বিদায় নয়; এটি অভিবাসনের নির্মম বাস্তবতায় জীবন বাজি রাখা হাজারো তরুণের স্বপ্নভঙ্গের এক করুণ প্রতিচ্ছবি। মাঠের লড়াইয়ে যিনি সবসময় হাল ছাড়তে শেখাতেন, জীবনের কঠিন বাস্তবতার স্রোতে সেই তরুণীকেই হার মানতে হলো চিরকালের মতো।