

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) সূর্যসেন হলে সমকামিতার অভিযোগে উর্দু বিভাগের ২০২২–২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মাহিনুর রেজা এবং বাংলাদেশ শিক্ষা তথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরোর (ব্যানবেইস) এক অফিস সহকারীকে শিক্ষার্থীরা আটক করেন।
জানা গেছে, ব্যানবেইসের অফিস সহকারী শফিকুল ইসলাম ভুলবশত অন্য একটি কক্ষে প্রবেশ করলে বিষয়টি শিক্ষার্থীদের নজরে আসে। পরে তিনি জানান, তিনি মাহিনুর রেজার কক্ষে যাওয়ার উদ্দেশ্যেই হলে এসেছিলেন।
এরপর হলের শিক্ষার্থীরা দুজনকে হল প্রশাসনের কাছে নিয়ে যান। সেখানে তাদের কাছ থেকে লিখিত বক্তব্য নেওয়া হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
পরে লিখিত মুচলেকা নেওয়ার পর অভিযুক্ত দুজনকে শাহবাগ থানায় হস্তান্তর করা হয়। মুচলেকায় মাহিনুর রেজা আরও দুই শিক্ষার্থীর নাম উল্লেখ করে দাবি করেন, তারাও একই কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। তবে ওই অভিযোগের স্বাধীনভাবে কোনো সত্যতা নিশ্চিত করা যায়নি এবং সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সূর্যসেন হল সংসদের ভিপি আজিজুল হক গণমাধ্যমকে তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন।
সমকামিতায় অভিযুক্ত শিক্ষার্থীদের নাম-পরিচয় প্রকাশের ব্যাপারে ভিপি বলেন, ‘আমরা আমাদের জায়গা থেকে বলেছি যে, এগুলো জানাতে হবে সবাইকে। স্যার বললেন, এগুলো কনফিডেন্সিয়াল ইনফরমেশন। যাচাই-বাছাই করে তারপর জানাবে।’
হলের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ বলেন, ‘হল প্রশাসন হলের সেই ২ সমকামির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিলেও এখন পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। এ নিয়ে হলের সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্য ক্ষোভ বিরাজ করছে।’
হল প্রশাসনকে ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়ে সমকামীদের নাম-পরিচয় প্রকাশ করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি। অন্যথায়, সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিয়ে এর যথাযথ ব্যবস্থা আমরা নিশ্চিত করবেন বলে জানান।
এ বিষয়ে হল সংসদের অবস্থান জানতে চাইলে ভিপি বলেন, ‘হল সংসদ ইতোমধ্যে তার নিজের অবস্থান জানিয়ে প্রোভোস্টকে জানিয়েছে যে, এটা জানাতে হবে। স্যার জানিয়েছেন, তিনি একটু সময় নেবেন। একটি তদন্ত কমিটিও গঠন করতে পারে। তারপর জানানো হবে।’
এদিকে, ঢাবির ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ হলে দুই বহিরাগতকে ‘আপত্তিকর’ অবস্থায় আটকের একটি ভিডিও শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওটি ঘিরে দেশজুড়ে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। ভিডিওটি ইসলামী ছাত্রশিবির সমর্থিত হল সংসদের সহসাধারণ সম্পাদক এজিএস ইব্রাহিম খলিলের কক্ষ থেকে গত ২৭ জুলাই বিকেল ৩টার দিকে ধারণ করা হয় বলে জানা গেছে।
ভিডিওতে দেখা যায়, পাঞ্জাবি পরিহিত দাঁড়িওয়ালা দুই যুবককে ভিডিও ধারণকারী আরাফাত ইউসুফ রুমেলের কাছে ক্ষমা চাইতে এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা আর ঘটবে না বলে প্রতিশ্রুতি দিতে দেখা যায়। তবে ভিডিওতে হল সংসদের এজিএস ইব্রাহিম খলিলকে দেখা যায়নি।