

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


এক দশকেরও বেশি সময় আগে হাইতির ভয়াবহ ভূমিকম্পে হারিয়ে যেতে পারত একটি জীবন। কিন্তু ভাগ্যের অন্য পরিকল্পনা ছিল। সেই শিশুই আজ আর্জেন্টিনার অনূর্ধ্ব-১৭ দলের হয়ে মাঠে নামার স্বপ্ন পূরণ করেছে। তিনি স্টিফেন ‘কিকি’ রামোস—হাইতিয়ান বংশোদ্ভূত এক তরুণ ফুটবলার, যার পথচলা শুরু হয়েছিল এক করুণ অধ্যায় থেকে।
বুয়েন্স আয়ার্সে ইকুয়েডরের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার অনূর্ধ্ব-১৭ দলের প্রস্তুতি ম্যাচে ২-১ গোলের জয়টি তাই শুধু একটি সাধারণ প্রীতি ম্যাচ ছিল না। এই ম্যাচে জাতীয় পর্যায়ে অভিষেক হয় রামোসের, যিনি নিজের ফুটবল প্রতিভার পাশাপাশি জীবনসংগ্রামের গল্প দিয়েও আলাদা করে নজর কেড়েছেন।
২০১০ সালের ১২ জানুয়ারি হাইতিতে আঘাত হানে ৭ মাত্রার ভয়াবহ ভূমিকম্প। এতে প্রাণ হারান দুই লাখের বেশি মানুষ। রাজধানী পোর্ট অব প্রিন্সের কাছে অবস্থিত একটি অনাথ আশ্রমে তখন ছিলেন মাত্র কয়েক মাস বয়সী রামোস। সেই ধ্বংসযজ্ঞের মধ্যেও বেঁচে যাওয়া শিশুদের একজন ছিলেন তিনি।
ভূমিকম্পের আগেই একটি আর্জেন্টাইন পরিবার তাকে দত্তক নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছিল। বিপর্যয়ের পরও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র অক্ষত থাকায় শেষ পর্যন্ত নতুন জীবনের সন্ধানে আর্জেন্টিনায় চলে আসেন রামোস।
বর্তমানে ভেলেজ সার্সফিল্ডের যুব দলে খেলছেন এই ফরোয়ার্ড। তার শারীরিক গঠন, গতি, প্রতিপক্ষের রক্ষণ ভাঙার ক্ষমতা এবং গোল করার দক্ষতা নজর কেড়েছে আর্জেন্টিনার ফুটবল কর্মকর্তাদের। অনূর্ধ্ব-১৭ দলের কোচ ও সাবেক আর্জেন্টাইন তারকা দিয়েগো প্লাসেন্তেও তাঁর পারফরম্যান্সে মুগ্ধ হয়েছেন।
২০২৬ সালের অনূর্ধ্ব-১৭ বিশ্বকাপকে সামনে রেখে প্রস্তুতি নিচ্ছে আর্জেন্টিনা। কাতারে অনুষ্ঠিতব্য সেই আসরে ‘সি’ গ্রুপে অস্ট্রেলিয়া, ডেনমার্ক ও মোজাম্বিকের সঙ্গে খেলবে তারা। সেই দলে জায়গা করে নেওয়ার লড়াইয়ে এখন অন্যতম আলোচিত নাম কিকি রামোস।
এএফএ আয়োজিত বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছেন তিনি। বিশেষ করে শারীরিক সক্ষমতা, আক্রমণভাগে কার্যকারিতা এবং গোলের সামনে ঠান্ডা মাথার ফিনিশিং তাঁকে অন্যদের থেকে আলাদা করেছে।
জাতীয় দলের মূল দলে জায়গা করে নিতে পারলে রামোস লিখতে পারেন আর্জেন্টিনা ফুটবলের ইতিহাসে নতুন অধ্যায়। কারণ ১৯৭৩ সালে প্যারাগুয়ের হেরিবের্তো কোরেয়ার পর তিনিই হতে পারেন আর্জেন্টিনার জার্সিতে খেলা প্রথম জন্মসূত্রে বিদেশি ফুটবলার। কোরেয়া পরে আর্জেন্টিনার নাগরিকত্ব গ্রহণ করে জাতীয় দলের হয়ে খেলেছিলেন।