রবিবার
০২ আগস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
রবিবার
০২ আগস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
দুই জেলা বিএনপির বৈঠকে

রাজনৈতিক দলকে সরকারের সঙ্গে না মেলানোর নির্দেশনা প্রধানমন্ত্রীর

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ০২ আগস্ট ২০২৬, ০৩:৩০ পিএম আপডেট : ০২ আগস্ট ২০২৬, ০৪:১৭ পিএম
প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত
expand
প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত

বিএনপি দল হিসেবে যাতে সরকারে হারিয়ে না যায়-সেজন্য দলীয় নেতাদের কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

শনিবার (০১ আগস্ট) জয়পুরহাট ও নওগাঁ জেলা বিএনপির নেতাদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকে তিনি এ নির্দেশনা দেন।

বৈঠক সূত্র জানায়, বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান নেতাদের বলেছেন, রাজনৈতিক দলের কাজ হচ্ছে সরকারকে সহায়তা করা। সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। কিন্তু সেই দল যদি সরকারের সঙ্গে মিলে একাকার হয়ে যায়, তাহলে সরকারেরও ক্ষতি আবার দলেরও ক্ষতি।

রাজধানীর গুলশানে বিএনপির চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে দলের সাংগঠনিক অবস্থা, কোন্দল, আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচন আর সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ে আলোচনা করেন নেতারা।

বৈঠকে উপস্থিত এক নেতা জানান, শুরুতে স্থানীয় নেতাদের কাছে দলের সাংগঠনিক পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে চান তারেক রহমান। এরপর তিনি বলেন, গণতন্ত্রে একটি রাজনৈতিক দল যখন দল এবং সরকারকে আলাদা করতে পারবে, তখনই তারা সফল হবে। দল যদি সরকারকে গিলে খায়, তাহলে দল যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তেমনই সরকারও সফল হয় না।

বৈঠকে নেতারা বলেন, দল ক্ষমতায়, তাই সবকিছুতে খবরদারি করা, থানায় গিয়ে প্রভাব খাটিয়ে আসামিদের ছাড়িয়ে আনা, টেন্ডারে বাধা বা হস্তক্ষেপ, প্রভাব খাটিয়ে নিয়োগ, বদলি বাণিজ্য প্রভৃতি কর্মকাণ্ড সরকারের ইমেজ নষ্ট করে আবার সংগঠনকেও ক্ষতিগ্রস্ত করে। এর জবাবে তারেক রহমান বলেন, ক্ষমতাসীন দল এবং সরকারের মধ্যে সম্পর্ক হওয়া উচিত রেললাইনের মতো। দুটি লাইন পাশাপাশি চলবে। কিন্তু একটা আরেকটাকে স্পর্শ করতে পারবে না।

নেতারা অভিযোগ করে বলেন, সরকার গঠন করার সঙ্গে সঙ্গেই কিছু সুযোগসন্ধানী দলের পরিচয় ব্যবহার করে নিজেদের আখের গোছাতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে। সঙ্গে মৌসুমি কিছু মতলববাজ ক্ষমতার চারপাশে মৌমাছির মতো ভিড় করছে। অনেক নেতাকর্মী সাংগঠনিক কাজের চেয়ে হাটবাজার, বাসস্ট্যান্ড, ঘাট দখলে বেশি মনোযোগী। এতে দলের ভাবমূর্তি অনেকাংশে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে তারা অভিযোগ করেন।

সূত্র জানায়, দলের শৃঙ্খলা রক্ষায় কঠোর মনোভাব দেখিয়ে তারেক রহমান বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর আন্দোলন-সংগ্রাম আর অনেক ত্যাগের বিনিময়ে দেশে গণতন্ত্র ফিরেছে। জনগণের রায়ে বিএনপি ক্ষমতায় এসেছে। এখন কোনো নেতা বা কর্মী অপকর্ম করলে এর দায় যেমন দল নেবে না, তেমনই ওই নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতেও কার্পণ্য করবে না।

স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে বৈঠকে তারেক রহমান নানা দিকনির্দেশনা দেন। এর মধ্যে সবার আগে তিনি যোগ্য প্রার্থী বাছাইয়ে গুরুত্বারোপ করেন। সেখানে জনপ্রিয়তাকেই তিনি প্রধান মাপকাঠি করার নির্দেশ দিয়েছেন। প্রার্থী বাছাইয়ে থানা-উপজেলা নেতাদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সেখানে কোনো সমস্যা হলে জেলা পর্যায়ের নেতারা সমাধানের চেষ্টা করবেন। তারা ব্যর্থ হলে বিভাগীয় নেতারা চেষ্টা করবেন। তারাও ব্যর্থ হলে কেন্দ্র প্রার্থী চূড়ান্ত করবে বলে বৈঠকে জানানো হয়েছে। তবে একক প্রার্থী বাছাইয়ে বা সমর্থন জানাতে এখন থেকেই সবাইকে উদ্যোগ নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তারেক রহমান।

স্থানীয় নির্বাচন নিয়ে নেতাকর্মীদের আগাম সতর্কতা জানিয়ে তারেক রহমান বলেছেন, তারা কোনোভাবেই আওয়ামী আমলের নির্বাচনব্যবস্থায় ফিরবেন না। যেখানে জনগণের জনমতের কোনো প্রতিফলন ছিল না। আগামী দিনে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনে সরকার কঠোর থাকবে। কোনো কারচুপি হবে না সামনের নির্বাচনে। তাই কেউ যদি মনে করেন, দল থেকে সমর্থন পেলেই জনপ্রতিনিধি হবেন, তাহলে সেটা ভুল হবে।

তৃণমূল পর্যায়ের কোন্দল নিরসনের তাগিদ দেওয়া হয়েছে বৈঠকে। সেখানে বলা হয়েছে, নিজেদের মধ্যে কোন্দল আর বিভেদ থাকলে কোথাও জয়লাভ করতে পারবেন না। সেটা নির্বাচন হোক বা রাজনীতি। নিজেদের অবস্থান সুসংহত করতে অবশ্যই অভ্যন্তরীণ কোন্দল দূর করে ইস্পাতকঠিন ঐক্য গড়ে তুলতে হবে। আর এটা সম্ভব হলে আগামী নির্বাচনে ভালো ফল আসতে বাধ্য।

বৈঠকে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন উন্নয়ন আর রাষ্ট্র সংস্কারের পদক্ষেপকে জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়ার বার্তা দেওয়া হয়েছে। বিশেষত সরকারের নেওয়া ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, খাল খনন কর্মসূচির মতো ভালো কাজগুলোর উদ্দেশ্য ও এর সুফল নিয়ে জনগণের কাছে যেতে বলেছেন তারেক রহমান। এর বাইরে নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নে সরকার কী কী পদক্ষেপ নিয়েছে, তাও তুলে ধরতে বলা হয়েছে।

জয়পুরহাট জেলা বিএনপির শীর্ষ এক নেতা বলেন, এটা মূলত সাংগঠনিক বৈঠক ছিল। সেখানে দলের অবস্থানসহ আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচন, সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা হয়েছে। দলের সর্বোচ্চ নেতা তৃণমূল পর্যায়ের কোন্দল দূর করে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার নির্দেশনা দিয়েছেন। তিনি বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীদের প্রস্তুতি নিতে বলেছেন। এর বাইরে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়-এমন কাজ থেকে নেতাকর্মীদের দূরে থাকতে কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন