

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ হলে দুই বহিরাগতকে ঘিরে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিও নিয়ে তৈরি হয়েছে ব্যাপক আলোচনা। ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা প্রতিক্রিয়ার পর হল প্রশাসন তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এক শিক্ষার্থীর আবাসিক সিট সাময়িকভাবে বাতিল করা হয়েছে বলে জানিয়েছে হল কর্তৃপক্ষ।
জানা গেছে, গত ২৭ জুলাই বিকেলে হলের একটি কক্ষে ধারণ করা ভিডিওটি শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে দুই যুবককে ভিডিও ধারণকারী ব্যক্তির কাছে ক্ষমা চাইতে এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা আর ঘটবে না বলে প্রতিশ্রুতি দিতে দেখা যায়। তবে ভিডিওতে হল সংসদের সহ-সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) ইব্রাহিম খলিলকে দেখা যায়নি।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ভিডিওতে থাকা দুই যুবকের নাম ফারহান ও আরমান। তাদের দুজনের বাড়ি নোয়াখালী সদর উপজেলায়। তারা মাদরাসার শিক্ষার্থী বলে জানা গেছে। ফারহান ইব্রাহিম খলিলের আত্মীয় এবং আরমান তার বন্ধু—এমন তথ্যও পাওয়া গেছে।
ঘটনার পর ইব্রাহিম খলিল শাহবাগ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার চেষ্টা করেছেন বলে জানা গেছে। জিডির খসড়ায় তিনি দাবি করেন, আত্মীয় ফারহানকে সরল বিশ্বাসে হলে থাকার অনুমতি দিয়েছিলেন। পরে ফারহান তার এক বন্ধুকে কক্ষে নিয়ে আসেন। ওই ব্যক্তিকে কক্ষে রাখতে তিনি রাজি না থাকলেও তারা সেখানে অবস্থান করেন।
জিডিতে ইব্রাহিম খলিল আরও উল্লেখ করেন, ঘটনার সময় তিনি হলে ছিলেন না। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পারেন। তাঁর দাবি, ঘটনার সঙ্গে তাঁর কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না এবং ভিডিও প্রকাশের কারণে তাঁর ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
ভিডিও ধারণকারী আরাফাত ইউসুফ রুমেল ইব্রাহিম খলিলের রুমমেট বলে জানা গেছে। তবে ঘটনার কয়েক দিন পর ভিডিও প্রকাশের কারণ এবং বিষয়টি আগে হল প্রশাসন বা হল সংসদকে জানানো হয়েছিল কি না—এ বিষয়ে তিনি মন্তব্য করতে রাজি হননি।
এদিকে ঘটনার তদন্তে হল প্রশাসনের পক্ষ থেকে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। হলের তৎকালীন প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. আমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া জানিয়েছেন, অভিযুক্ত এজিএসের সিট সাময়িকভাবে বাতিল করা হয়েছে এবং তদন্ত শেষে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
তিনি আরও জানান, বহিরাগত দুই ব্যক্তিকে হলে উপস্থিত হওয়ার জন্য বলা হয়েছে। প্রয়োজন হলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থাও নেওয়া হবে।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে রোববার বিকেলে হল প্রশাসনের তদন্ত কমিটির সঙ্গে হল ছাত্রসংসদের বৈঠক চলার সময় উত্তেজনা তৈরি হয়। এ সময় ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা বৈঠকস্থলে প্রবেশ করলে হল সংসদ ও শিবির সমর্থিত নেতাকর্মীদের সঙ্গে তাদের হাতাহাতির ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে।
এর পরপরই প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. আমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া পদত্যাগ করেছেন বলে খবর পাওয়া যায়। হল প্রশাসন জানিয়েছে, তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পরই পুরো ঘটনার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।