

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


বাঙালিদের কাছে দুপুরের খাবারে এক প্লেট গরম ভাত, সঙ্গে একটু ডাল আর তরকারি না হলে যেন পেট ও মন- কোনোটাই ভরে না। কিন্তু ইদানীং ওজন বা মেদ বাড়ার ভয়ে অনেকেই প্লেট থেকে ভাত একেবারে ছেঁটে ফেলছেন।
প্রচলিত একটি ধারণা হলো- সাদা ভাত খেলে মানুষ নাকি দ্রুত মোটা হয়ে যায়! কিন্তু এই কথাটা কতটুকু সত্যি? ভাতের কারণেই কি মেদ বাড়ে, নাকি ভুলটা আমাদের খাদ্যাভ্যাসে?
ডায়েটিশিয়ান ও গবেষণা
ডায়েটিশিয়ানের মতে, শুধু সাদা ভাত খাওয়ার কারণে কারও ওজন হঠাৎ করে বেড়ে যায় না। মানুষ মূলত তখনই মোটা হয়, যখন সে সারাদিনে প্রয়োজনের চেয়ে বেশি ক্যালোরি গ্রহণ করে।
আপনি কতটুকু খাবার খাচ্ছেন এবং সারাদিনে কতটা শারীরিক পরিশ্রম করছেন, তার ওপরই ওজন বাড়া বা কমা নির্ভর করে। তাই ওজন বৃদ্ধির জন্য একা ভাতকে দোষ দেওয়া একেবারেই যুক্তিযুক্ত নয়।
ভাত মূলত কার্বোহাইড্রেটের একটি চমৎকার উৎস, যা আমাদের শরীরে শক্তি জোগায়। তবে ব্রাউন রাইস বা লাল চালের তুলনায় সাদা ভাতে ফাইবারের পরিমাণ কিছুটা কম থাকে, কারণ প্রক্রিয়াজাতকরণের সময় চালের বাইরের ছাল বাদ পড়ে যায়।
ফাইবার কম থাকায় সাদা ভাত খাওয়ার পর দ্রুত ক্ষুদা লাগতে পারে। কিন্তু তার মানে এই না যে আপনাকে ভাত খাওয়া একবারে বন্ধ করে দিতে হবে। বিজ্ঞান ও গবেষণার দিকে তাকালেও এর কোনো উত্তর পাওয়া যায় না। কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, অতিরিক্ত পরিমাণে সাদা ভাত খেলে ওজন বাড়ার আশঙ্কা থাকে।
আবার অনেক গবেষণায় দেখা গেছে, পরিমিত পরিমাণে ভাত খেলে ওজনের ওপর তেমন কোনো খারাপ প্রভাব পড়ে না। অর্থাৎ, 'ভাত খেলেই মোটা হয়ে যাবে'- এই ধারণার পেছনে পুরোপুরি নিশ্চিত কোনো প্রমাণ নেই।
ওজন নিয়ন্ত্রণে রেখে সঠিক নিয়মে ভাত খাওয়ার কৌশল
ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা বা সুস্থ থাকার আসল রহস্য আপনার পুরো দিনের খাবারের প্লেটে। ভাত খাওয়ার সময় কিছু সহজ কৌশল মেনে চললে ওজন বাড়ার কোনো ভয় থাকে না: প্রোটিন ও ফাইবার রাখুন: ভাতের সঙ্গে প্লেটে পর্যাপ্ত পরিমাণে ডাল, তাজা শাকসবজি, দই, ডিম, মাছ বা মুরগির মাংস রাখুন।
শাকসবজি ও ডাল থেকে পাওয়া ফাইবার এবং ডিম-মাছ থেকে পাওয়া প্রোটিন পেট দীর্ঘক্ষণ ভরিয়ে রাখতে সাহায্য করে এবং রক্তে শর্করার মাত্রাও নিয়ন্ত্রণে রাখে।
সঠিক পদ্ধতিতে ভাত রান্না করুন: ভাত সবসময় ফ্রাইড রাইস বানিয়ে বা ভেজে না খেয়ে, জলে ফুটিয়ে সেদ্ধ করে খাওয়া সবচেয়ে ভালো। রান্নার পর ভাতের বাড়ত ফ্যান বা মাড় ঝরিয়ে ফেললে এর অতিরিক্ত স্টার্চ অনেকটাই বাদ চলে যায়।
পরিমিত অংশ (Portion Control): প্লেটে ভাতের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে রাখুন। একবারে অতিরিক্ত ভাত না খেয়ে ছোট এক বাটি ভাত খাওয়ার অভ্যাস করুন।
ভাতকে ভয় পাওয়ার কোনো কারণ নেই! প্রতিদিনের প্লেটে ভাতের পরিমাণ ঠিক রাখুন, সাথে পুষ্টিকর খাবার যোগ করুন এবং সারাদিনে কিছুটা হাঁটাচলা বা শারীরিক পরিশ্রমের মধ্যে থাকুন।
সঠিক নিয়ম মেনে চললে প্রতিদিন এক বাটি গরম ভাত খেয়েও আপনি সুন্দর ও সুস্থ থাকতে পারবেন।
