

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফ্যান্তিনো নতুন করে বিতর্কের মুখে পড়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের ফরোয়ার্ড ফোলারিন বালোগুনকে লাল কার্ড দেখানো হলেও তার এক ম্যাচের স্বয়ংক্রিয় নিষেধাজ্ঞা ২০২৬ বিশ্বকাপ শেষ হওয়া পর্যন্ত স্থগিত রাখার সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে ফিফার ভেতরে ও বাইরে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টাইমস-এর এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ফিফার একাধিক সদস্য দেশ ইনফ্যান্তিনোর নেতৃত্ব নিয়ে নতুন করে ভাবতে শুরু করেছে। তাদের মতে, এই সিদ্ধান্ত বিশ্বকাপের প্রতিযোগিতার ন্যায্যতা ও ফিফার বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
বিতর্ক আরও জোরালো হয় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এক মন্তব্যের পর। তিনি জানান, বালোগুনের বিষয়টি নিয়ে ব্যক্তিগতভাবে ইনফ্যান্তিনোর সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন। এরপর ফিফা লাল কার্ডের সিদ্ধান্ত বহাল রাখলেও শাস্তি কার্যকর না করে বিশ্বকাপ শেষে তা কার্যকর করার সিদ্ধান্ত নেয়, যা ফুটবল অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, জার্মানি, নেদারল্যান্ডস, বেলজিয়াম, নরওয়ে ও সুইজারল্যান্ড প্রকাশ্যে এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছে। পাশাপাশি মিশর ও সেনেগালও ফিফার বর্তমান নেতৃত্বের প্রতি নিজেদের অবস্থান পুনর্বিবেচনা করছে বলে দাবি করা হয়েছে।
ফিফার এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে দ্য টাইমসকে বলেন, "রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের এর চেয়ে স্পষ্ট উদাহরণ কল্পনা করা কঠিন। ফিফা যেভাবে বিষয়টি ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করেছে, তা বিশ্বাসযোগ্য নয়। ইনফ্যান্তিনো এখন সংস্থার ভেতরে ক্রমেই বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছেন।"
এর আগে আগামী বছরের ফিফা সভাপতি নির্বাচনে ইনফ্যান্তিনোর বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পুনর্নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা থাকলেও, সাম্প্রতিক বিতর্কের পর সেই চিত্র বদলেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ফিফার অভ্যন্তরে তার প্রভাব আগের তুলনায় অনেকটাই কমে গেছে বলেও দাবি করা হয়।
এছাড়া ইনফ্যান্তিনোর দীর্ঘমেয়াদি কয়েকটি পরিকল্পনাও অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। ক্লাব বিশ্বকাপ আরও সম্প্রসারণের উদ্যোগ বিভিন্ন দেশের ফুটবল সংস্থার বিরোধিতার মুখে রয়েছে। একই সঙ্গে ২০৩১ সালের পরও সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব চালিয়ে যেতে ফিফার গঠনতন্ত্র পরিবর্তনের সম্ভাবনাও অনেকটাই ক্ষীণ হয়ে গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে বালোগুনের নিষেধাজ্ঞা স্থগিতের সিদ্ধান্তটি কারা অনুমোদন করেছেন বা কী প্রক্রিয়ায় তা নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি ফিফা।
