

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


সারা দেশে ৬৫৫০২ জন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের বেতন ১০ম গ্রেডে (গেজেটেড কর্মকর্তা) উন্নীত করার পর ছয় মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো তারা বেতন পাচ্ছেন না ১০ম গ্রেডে। বেতন নির্ধারণের (ফিক্সেশন) কাজ শুরু না হওয়ায় তাঁদের আগের গ্রেড অনুযায়ীই বেতন নিতে হচ্ছে। এতে তারা আর্থিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন অভিযোগ করে এমন অবস্থার জরুরি সমাধান চাচ্ছেন সারাদেশের সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকরা।
আগামী ১৬ জুলাইয়ের মধ্যে ফিক্সেশন শুরু না হলে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর ও হিসাব মহানিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ে সর্বাত্মক অবস্থান কর্মসূচি পালন করার আলটিমেটাম দিয়েছেন শিক্ষকেরা। অন্যদিকে, সহকারী শিক্ষকদের বেতন গ্রেড ১৩ থেকে ১১তমে উন্নীত করার প্রস্তাবও বর্তমানে আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় আটকে আছে বলে জানা যায়।
আদালতের রায়ের পর গত ডিসেম্বরে প্রধান শিক্ষকদের বেতন ১০ম গ্রেডে উন্নীত করে প্রজ্ঞাপন জারি করে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। নতুন এই ১০ম গ্রেডে প্রধান শিক্ষকদের মূল বেতন শুরু হবে ১৬,০০০ টাকা দিয়ে, যার সর্বোচ্চ ধাপ ৩৮,৬৪০ টাকা। এর আগে তাঁদের গ্রেড ছিল ১১ ও ১২তম (মূল বেতন যথাক্রমে ১২,৫০০ ও ১১,৩০০ টাকা)।
প্রধান শিক্ষকরা অভিযোগ করে বলেন, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর এবং হিসাব মহানিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ের চিফ অ্যাকাউন্টস অ্যান্ড ফিন্যান্স অফিসের দীর্ঘসূত্রতার কারণেই এই ফিক্সেশন আটকে আছে।
"প্রধান শিক্ষকদের ১০ম গ্রেডে বেতন নির্ধারণের পর ছয় মাস পেরিয়ে গেলেও আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় তা বাস্তবায়ন হয়নি বলে অভিযোগ করেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক সমিতির নীতিনির্ধারণী কমিটির চেয়ারম্যান আলাউদ্দিন মোল্লা ও কেন্দ্রীয় কমিটির নির্বাহী সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ শাখাওয়াত হোসেন। তারা বলেন, এতে তারা আর্থিক ক্ষতি ও বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন। এমনকি ১ জুলাই থেকে কার্যকর হওয়া নবম পে-স্কেলের বেতন নির্ধারণের আগে এই ১০ম গ্রেডের ফিক্সেশন করা না হলে প্রধান শিক্ষকেরা সীমাহীন বেতনবৈষম্যের শিকার হবেন বলেও জানান বাংলাদেশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক সমিতির নেতৃবৃন্দ।
এর আগে ২০১৪ সালে এক গেজেটের মাধ্যমে প্রধান শিক্ষকদের দ্বিতীয় শ্রেণির কর্মকর্তার পদমর্যাদা দেওয়া হলেও গ্রেড নির্ধারণ করা হয়েছিল ১১ ও ১২তম। পরে ১০ম গ্রেড ও গেজেটেড কর্মকর্তার মর্যাদার দাবিতে ৪৫ জন প্রধান শিক্ষক উচ্চ আদালতে রিট করেন।
২০২৫ সালের মার্চে এ বিষয়ে সর্বোচ্চ আদালত চূড়ান্ত রায় দেন। রায়ের পর গত বছরের অক্টোবরে প্রথমে রিটকারী ৪৫ জনের এবং পরবর্তীতে ডিসেম্বরে সারা দেশের সব প্রধান শিক্ষকের বেতন ১০ম গ্রেডে উন্নীত করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। কিন্তু প্রজ্ঞাপন জারির পর অর্ধেক বছর পার হলেও তা আলোর মুখ দেখেনি।
প্রাথমিকের প্রধান শিক্ষকদের কাংক্ষিত বেতন ফিক্সেশনের আমলাতান্ত্রিক জটিলতা নিরশনের লক্ষে ইতোমধ্যে শিক্ষক নেতৃবৃন্দ বিএনপির জাতীয় স্হায়ী কমিটির সিনিয়র সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন এমপি, শিক্ষা, প্রাথমিক ও গনশিক্ষা মন্ত্রী ড.আ ন ম এহছানুল হক মিলন, প্রাথমিক ও গন শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ,মাননীয় সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মো: সেলিম ভুইঁয়া, সচিব সাখাওয়াত হোসেন ও অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. শাহীনা ফেরদৌসী সহ আরো অনেকের সাথে দেখা করে লবিং তদবির চালিয়ে যাচ্ছেন বলে জানাযায়।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সাখাওয়াৎ হোসেন জানান, বিষয়টি নিয়ে চিফ অ্যাকাউন্টস অ্যান্ড ফিন্যান্স অফিসারের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে । দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
