শনিবার
১১ জুলাই ২০২৬, ২৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শনিবার
১১ জুলাই ২০২৬, ২৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নরওয়ে-ইংল্যান্ড ম্যাচ নিয়ে সুপার কম্পিউটারের ভবিষ্যৎবাণী

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ১১ জুলাই ২০২৬, ০৮:২৬ পিএম
expand
নরওয়ে-ইংল্যান্ড ম্যাচ নিয়ে সুপার কম্পিউটারের ভবিষ্যৎবাণী

বিশ্বকাপের শেষ আটের লড়াইয়ে আজ (শনিবার) বাংলাদেশ সময় রাত ৩টায় মায়ামিতে মুখোমুখি হচ্ছে ইংল্যান্ড ও নরওয়ে। কাগজে-কলমে ইংল্যান্ড এগিয়ে থাকলেও ম্যাচটি যে সহজ হবে না, তা স্পষ্ট পরিসংখ্যানেই। চারটি কোয়ার্টার ফাইনালের মধ্যে এই ম্যাচকেই সবচেয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ বলে বিবেচনা করা হচ্ছে।

পরিসংখ্যানভিত্তিক বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠান অপটার সুপারকম্পিউটারের হিসাবে, সেমিফাইনালে ওঠার সম্ভাবনায় কিছুটা এগিয়ে ইংল্যান্ড। তাদের সম্ভাবনা ৬১.৭ শতাংশ, নরওয়ের ৩৮.৪ শতাংশ। তবে ফ্রান্স, স্পেন ও আর্জেন্টিনার তুলনায় ইংল্যান্ডকে এই পর্যায়ে তুলনামূলক কম ফেবারিট হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

নরওয়ের জন্য এবারের বিশ্বকাপ ইতিমধ্যে ইতিহাসের অংশ হয়ে গেছে। বড় কোনো আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে প্রথমবারের মতো কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে দলটি। ব্রাজিলকে হারিয়ে শেষ আটে জায়গা করে নেওয়ার পর স্টালে সলবাকেনের দলের সামর্থ্য নিয়ে আর প্রশ্নের সুযোগ নেই।

পাঁচ ম্যাচে মাত্র একবার হেরেছে নরওয়ে। সেটিও গ্রুপ পর্বে ফ্রান্সের বিপক্ষে, যেখানে মূল খেলোয়াড়দের বিশ্রাম দিতে একাদশে বড় পরিবর্তন এনেছিলেন কোচ। এরপর আইভরি কোস্ট ও ব্রাজিলকে হারিয়ে আত্মবিশ্বাস নিয়েই কোয়ার্টার ফাইনালে এসেছে দলটি।

নরওয়ের ম্যাচগুলোতে যেমন গোলের ধারাবাহিকতা রয়েছে, তেমনি রক্ষণেও দুর্বলতা দেখা গেছে। এবারের বিশ্বকাপে পাঁচ ম্যাচে ১২ গোল করেছে তারা, আবার হজম করেছে ৯ গোল। ১৯৫৪ সালের জার্মানির পর বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ওঠার পথে দুই অঙ্কের বেশি গোল করা ও হজম করা দলের তালিকায় নাম লিখিয়েছে নরওয়ে।

অন্যদিকে ইংল্যান্ডের যাত্রা ছিল ওঠানামায় ভরা। কখনো দাপুটে ফুটবল খেলেছে দলটি, আবার কখনো সমালোচনার মুখে পড়েছে। তবে শেষ ষোলোতে মেক্সিকোর বিপক্ষে ৩–২ গোলের জয় তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে। চাপের মুহূর্তে ম্যাচ বের করে নেওয়ার সক্ষমতাই ছিল সেই জয়ের বড় বার্তা।

বিশ্বকাপের ইতিহাসে ১১তমবারের মতো কোয়ার্টার ফাইনালে খেলছে ইংল্যান্ড। ব্রাজিল ও জার্মানির পর সবচেয়ে বেশি বার শেষ আটে ওঠা দলগুলোর একটি তারা। তবে এই পর্বে ইংল্যান্ডের অতীত রেকর্ড খুব উজ্জ্বল নয়—আগের ১০ কোয়ার্টার ফাইনালের মধ্যে জয় মাত্র তিনটিতে।

আজকের ম্যাচের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ আর্লিং হালান্ড। নরওয়ের এই স্ট্রাইকার এবারের বিশ্বকাপে যেন গোল করাকে অভ্যাসে পরিণত করেছেন। প্রথম চার ম্যাচেই গোল করেছেন তিনি, মোট গোল সাতটি। মজার বিষয়, এই সাত গোল এসেছে মাত্র ১৮টি শট থেকে।

বিশ্বকাপের প্রথম পাঁচ ম্যাচে টানা গোল করার কৃতিত্ব সর্বশেষ ২০১৪ সালে কলম্বিয়ার জেমস রদ্রিগেজ দেখিয়েছিলেন। ইউরোপীয়দের মধ্যে সর্বশেষ এমন নজির ছিল ১৯৭০ সালে জার্মানির গার্ড মুলারের। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে গোল করতে পারলে সেই তালিকায় যুক্ত হবে হালান্ডের নামও।

হালান্ডের গোলগুলোর গুরুত্বও কম নয়। সাত গোলের চারটিই এসেছে ম্যাচজয়ী হিসেবে। এক বিশ্বকাপে এর চেয়ে বেশি ম্যাচজয়ী গোলের রেকর্ড আছে শুধু পোল্যান্ডের গ্রেগরজ লাটো ও ইতালির সালভাতোরে স্কিলাচির।

জাতীয় দলের হয়ে হালান্ডের পরিসংখ্যান আরও ভয়ংকর। নরওয়ের জার্সিতে ৫৪ ম্যাচে করেছেন ৬২ গোল। প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে টানা ১৪ ম্যাচে গোল করেছেন তিনি। আজ তাঁর সামনে বড় পরীক্ষা ইংল্যান্ডের গোলরক্ষক জর্ডান পিকফোর্ড। তবে ক্লাব ফুটবলের পরিসংখ্যান বলছে, হালান্ডের শট সামলানো পিকফোর্ডের জন্য সহজ হবে না।

ইংল্যান্ডও অবশ্য নির্ভর করছে নিজেদের দুই বড় তারকার ওপর। অধিনায়ক হ্যারি কেইন গোল্ডেন বুটের দৌড়ে আছেন হালান্ডের পরেই, তাঁর গোল ছয়টি। বড় টুর্নামেন্টের নকআউট ম্যাচে কেইনের অভিজ্ঞতাও ইংল্যান্ডের বড় শক্তি।

মেক্সিকোর বিপক্ষে জোড়া গোল করা জুড বেলিংহ্যামও আছেন দুর্দান্ত ছন্দে। এবারের বিশ্বকাপে চার গোল করে তিনি এক আসরে ইংল্যান্ডের কোনো মিডফিল্ডারের সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড গড়েছেন।

হালান্ড–কেইন–বেলিংহ্যামদের ব্যক্তিগত দ্বৈরথ যতই আলোচনায় থাকুক, শেষ পর্যন্ত ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করবে দলীয় পারফরম্যান্স। মুখোমুখি লড়াইয়ের ইতিহাস অবশ্য ইংল্যান্ডের পক্ষে। ১২ ম্যাচে নরওয়ের জয় মাত্র দুটি, আর সর্বশেষ চার ম্যাচে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে গোলও করতে পারেনি তারা।

তবে বিশ্বকাপের মঞ্চে পরিসংখ্যানই শেষ কথা নয়। নরওয়ে চাইবে আবারও চমক দেখাতে, আর ইংল্যান্ডের লক্ষ্য থাকবে দীর্ঘ অপেক্ষার পর আরেকটি বিশ্বকাপ সেমিফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করা।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
X
UPCOMING
Norway VS England
Scheduled
12 Jul, 03:00 AM
VS
World Cup